বিশেষ

বই ও প্রজন্মের পাঠাভ্যাস

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৮      

হায়াৎ মামুদ

বই পড়ার জন্যে, বই জ্ঞানের জন্যে। চেতনা সঞ্চারণে বইয়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বই বাচ্চার ওষুধ বা দুধ নয় যে, বাবা-মা কেনার জন্যে পাগল হবেন। বই দেখার, বই পড়ার সুযোগ থাকলে তবেই পছন্দের বইটি কিনে নেন পাঠক। বই কিনতে না পারলেও চেয়েচিন্তে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। তখন গুরুজনেরাও ছেলেমেয়েদের বই কিনে দেন। এভাবে বই জনেজনে চেতনা সঞ্চার করে। আকাশ সংস্কৃতির কারণে তরুণদের বই পড়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বাবা-মা সারাদিন কাজ শেষে চার কোনা যন্ত্রের (টিভি) সামনে বসে পড়েন। বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ নেই তাদের। তারা মনে করেন বই না পড়ে একটা সিনেমা দেখে নিলেই হলো! কিন্তু আমরা যখন বই পড়ি, নিজের কল্পনায় সিনেমার মতো তা দেখি, নির্মাণ করি। এটি আমাদের কল্পনাশক্তি বাড়ায়। বই পড়ার অভ্যেস ছেলেবেলা থেকেই। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বাবার এক বন্ধুর ছেলে। তার স্টু্কল এবং তাদের বাড়ির মাঝে ছিল আমাদের বাড়ি। তখন বর্ষাকালে জল জমা হয়ে রাস্তায় চলা যেত না। একবারের বর্ষায় সে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করে। তাদের বাড়িতে ছিল বই পড়ার রেওয়াজ। তার ভাইয়েরা শহরে থেকে পড়ালেখা করত। সেই বন্ধুর কাছ থেকেই মূলত বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মে আমার।

আমাদের সময়ে দেব সাহিত্য কুটির ছিল প্রকাশনার এক অনন্য নাম। সেখান থেকে ভিপিযোগে বই আনা যেত। অভ্যেস গড়ে উঠবার পরে টাকা জমিয়ে সেখান থেকে মাঝেমধ্যে বই আনাতাম। স্পষ্ট মনে আছে, সর্বপ্রথম একটি জীবনী গ্রন্থ আনিয়েছিলাম দেব সাহিত্য কুটির থেকে।

এভাবে ভিপিযোগে বই আনিয়ে আমি বই পড়ার অভ্যেস মজবুত করে তুলি। আগে পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কোনো বই পড়ার রেওয়াজ ছিল না। ক্লাসের বইয়ের বাইরের বই পড়লে বাবা-মায়েরা মার দিত সন্তানদের। তারা মনে করত, সন্তানদের পড়ালেখা নষ্ট হবে। পরীক্ষায় ফেল করবে। আমরা বই পড়তাম লুকিয়ে, সবার অলক্ষ্যে। এমন হয়েছে, উপরে বিজ্ঞান বই আর নিচে গোয়েন্দা বই! আমাদের এখানকার মানুষদের বইয়ের প্রতি মমত্ববোধ অনেক কম। কলকাতায় গেলে দেখা যায়, তাদের প্রতিটি বাড়িতে কিছু না কিছু বই থাকবেই এবং তারা পড়েও; শুধু সাজিয়ে রাখার জন্য তারা বই রাখে না বাড়িতে। আমাদের এখানে কয়টি পরিবার আছে, যারা বইয়ের প্রতি অন্তর থেকেই আন্তরিক? তাদের সংখ্যা হাতেগোনা। আমরা সাজগোজসহ নানা কাজে হাজার টাকা খরচ করতে রাজি, কিন্তু বই কিনতে রাজি না। বইয়ের প্রতি আমাদের আগ্রহ কম থাকার আরও একটি কারণ হচ্ছে, আমাদের অর্থনৈতিক সংকট যা মানসিক সংকট তৈরি করে। আজকাল রবীন্দ্রনাথ পড়া আগের চেয়ে কমে যাচ্ছে। হয়তো নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথকে আমরা সেভাবে পৌঁছে দিতে পারিনি। দু'চারজন বোদ্ধা, গবেষক ছাড়া সাধারণভাবে কেউ রবীন্দ্রনাথ পড়ছে না। বিনোদন আর আনন্দের নতুন নতুন উৎস নিয়ে কেমন জানি সবাই খালি ফুর্তি করছে। একধরনের অস্থিরতা এসে ভর করছে আমাদের সবার ওপর। সে অস্থিরতার চাপে রবীন্দ্রনাথ ক্রমেই দূরে চলে যাচ্ছেন।

পরবর্তী খবর পড়ুন : পুরনো বইয়ের রাজ্যে

লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে ভারত

লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে ভারত

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচের শুরুটা ভালো ...

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে ...

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ...

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পি ও নবাগতা অধরা খান জুটির ...

সোনাহাট স্থলবন্দরে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

সোনাহাট স্থলবন্দরে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ...

পাকিস্তানকে ভালো লক্ষ্য দিল আফগানরা

পাকিস্তানকে ভালো লক্ষ্য দিল আফগানরা

এশিয়া কাপে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আফগানিস্তান। ভালো রান সংগ্রহ ...

চার জাতির টুর্নামেন্টে দর্শক মেসি

চার জাতির টুর্নামেন্টে দর্শক মেসি

আগামী মাসে সৌদি আরবে চার জাতির একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ...

নির্বাচনের আগে সিনহা অপপ্রচারে উসকানি না দিলেও পারতেন: কাদের

নির্বাচনের আগে সিনহা অপপ্রচারে উসকানি না দিলেও পারতেন: কাদের

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নির্বাচনের আগে বই প্রকাশ ...