প্রচ্ছদ

যে জীবন তুলি ও ক্যানভাসের

মুস্তাফা মনোয়ার

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০১৮      

সুস্মিতা ইসলাম

যে জীবন তুলি ও ক্যানভাসের

মুস্তাফা মনোয়ার; জন্ম : ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৫

আজ পহেলা সেপ্টেম্বর, ২০১৮। বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের ৮৩তম জন্মদিন। বাংলাদেশের বিকাশলগ্ন থেকে আজ অবধি তুলি-ক্যানভাস ও সৃষ্টিশীল ভাবনায় ঋদ্ধ করে চলেছেন আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গন। সদা হাস্যোজ্জ্বল, চির তরুণ মুস্তাফা মনোয়ারের জন্মদিনকে সামনে রেখে কৈশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো নিয়ে স্মৃতির ডালা মেলে ধরেছেন তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লেখক সুস্মিতা ইসলাম। এই লেখায় উঠে এসেছে তার জীবনের অনেক অজানা ঘটনা। নতুন প্রজন্মের পাঠক ও শিল্পানুরাগীদের জন্য মুস্তাফা মনোয়ারের জীবনের শুরুর দিনগুলো হতে পারে কখনও অনুপ্রেরণা কখনও পথ চলার পাথেয়...

রবীন্দ্রভাবে সিঞ্চিত, শিল্পের সাধনায় আজীবন নিয়োজিত, প্রচারবিমুখ এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের নাম মুস্তাফা মনোয়ার। তার কৃত্য ও প্রতিভার মূল্যায়ন করা খুব একটা সহজ নয়। এই কর্মটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন তিনি খুবই কাছের মানুষ হন। আমি তাই সাদামাটাভাবে আমার দেখা ও জানা মুস্তাফা মনোয়ার সম্বন্ধে স্মৃতি থেকে কিছু টুকরো অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করব এই প্রজন্মের পাঠকদের কাছে।

মুস্তাফা মনোয়ারকে আমি প্রথম দেখি ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায়। পিতা কবি গোলাম মোস্তফা ও বড় ভাই বৈমানিক মুস্তাফা আনোয়ারের সঙ্গে সেও নিমন্ত্রিত হয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে। তখন তার বয়স বারো, পাতলা চেহারা, মাথাভর্তি কালো চুল, হঠাৎ দেখলে মনে হয় টুপিপরা সুশ্রী একটি বালক, যার চোখ দুটি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এবং চঞ্চল। তার দিকে তাকালে মনে হয় এক নিরিখেই সে যেন পারিপার্শ্বের সবকিছু বুঝে নিতে চেষ্টা করছে। প্রথম দিনেই তার কণ্ঠের দুটি মিষ্টি সুরেলা গান শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের। একটি ছিল হিন্দি ও অন্যটি রবীন্দ্রসঙ্গীত। হিন্দি গানটি তার ওস্তাদের কাছে শেখা- যার বাণী ছিল 'তুম্‌ যে মুস্‌কো প্রেম শিখায়া' আর রবীন্দ্রসঙ্গীতটি ছিল 'একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি।' সুর ভালো লাগায় রেকর্ড থেকে মনোয়ার নিজেই এই গানটি গলায় তুলেছিল।

এর পরে মনোয়ারের সঙ্গে আমার দেখা হয় ১৯৪৬ সালে। তখন আমি তার বড় ভাবি। দাঙ্গা-জর্জরিত কলকাতায় সে তার আব্বার সঙ্গে এসেছে আমাদের দেখতে। এই দু'বছরে মনোয়ার আরও একটু লম্বা হয়েছে; কিন্তু চেহারা সেই পাতলাই। ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস, তখন দেশ ভাগ নিয়ে ঘরে ঘরে কত আলোচনা। আমাদের বাড়িও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সবার আলোচনার এক পাশে আমিই শুধু ছিলাম নীরব শ্রোতা। মনোয়ার কেমন করে যেন টের পেয়েছিল যে, আমি নেহরু ও গান্ধীকে খুব পছন্দ করি। ও একদিন সারারাত জেগে কোথা থেকে এক গোছা সাদা কাগজ জোগাড় করে কেটে কেটে গান্ধী, নেহরু ও জিন্নাহর প্রতিকৃতি দিয়ে অসংখ্য কার্টুন এঁকে একটা দড়িতে আটকিয়ে আমাদের শোবার ঘরের ঠিক সামনে টানিয়ে রেখে দিয়েছিল। যাতে সকালে দরজা খুললেই ওই কার্টুনের মালা আমার চোখে পড়ে। পড়েও ছিল তাই। কাছে গিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রত্যেকটি কার্টুন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে ওর আঁকার হাত দেখে খুশি না হয়ে থাকতে পারলাম না। কার্টুনের প্রত্যেকটি চরিত্রই এত নিখুঁত যে, চিনতে একটুও অসুবিধা হয় না। কারোর কাছে কিছু না শিখে ও যে কেমন করে এমন নিখুঁতভাবে আঁকতে পারল।

কণ্ঠে সুর ও হাতে তুলি নিয়েই জন্ম হয়েছিল মনোয়ারের। তাই শৈশব থেকেই গান ও ছবি আঁকার মধ্য দিয়েই তার সহজাত প্রতিভার প্রকাশ ঘটত। আরও একটি স্বভাব ছিল মনোয়ারের- তা হলো, অজানাকে জানার। মনোয়ারের বড় বোনদের কাছে শুনেছি, চার বছর বয়সে ওর পিতা ওকে একটি খেলনা পিয়ানো কিনে দিলে সে সেদিন সেটি পেয়ে খুব খুশি হয়ে সারাদিন মনের সুখে বাজিয়ে তারপর বিকেল বেলায় দোতলার সিঁড়ি থেকে ছুড়ে নিচে ফেলে দিল। ফলে তার শখের পিয়ানোটি ভেঙে চুরমার। এভাবে পিয়ানো ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে মনোয়ার উত্তর দিয়েছিল- 'বাজনার আওয়াজটা কোথা থেকে বের হচ্ছে সেটা দেখার জন্য।' শুনে সবাই হতবাক! পরবর্তী জীবনভরই মনোয়ার অজানাকে জানার অসীম আগ্রহে নানান সৃষ্টি করে চলেছে।

শুনেছিলাম মনোয়ার যখন ক্লাস টুয়ে পড়ত, তখন ওর ড্রইং টিচার ওকে একটু ড্রইং শিখিয়েছিলেন। তারপর থেকে মনোয়ার তার ইংরেজি Rhyme-এর বই থেকে ওর পছন্দমতো ছবিগুলো হুবহু এঁকে রঙ দিত। এরপর যখন ও ক্লাস ফোর-ফাইভের ছাত্র, তখন ওর বাবা হুগলিতে বদলি হয়ে গেলে সেখানে তিনি একবারে নদীর ধারে একটি বাড়ি ভাড়া করেন। সেই বাড়িতে থেকে নদীর বুকে সারাদিন ধরে নানা পালতোলা নৌকা ও সকাল-সন্ধ্যা নদীর বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ রঙের খেলা দেখে ওর প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ বাড়ে ও সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকা শুরু করে। সেসব ছবি ওর বন্ধুবান্ধব, ভাইবোন সবার কাছে দিত উপহারের মতো। এরপর মনোয়ারের ঝোঁক হয় ফটো তোলার প্রতি। পিতার একটি  Zeiss Icon ক্যামেরা নিয়ে ও সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় ছবি তোলা, প্রিন্ট করা সবকিছু শিখে ফেলে বেশ ভালোভাবে। কিন্তু আরও ভালো করে ফটোগ্রাফিক শেখার জন্য ও ওর বড় ভাইয়ের কাছে একটি ফটোগ্রাফির বইয়ের জন্য আবদার করে। তখন গরমের ছুটি। আমি তাই ঢাকায় ছিলাম। আনোয়ার যে বইটা পাঠাল সেটা একদম Professional-দের উপযোগী। মফস্বলের ক্লাস সেভেনের ছাত্র হয়ে মনোয়ার কী করে যে তার পাঠোদ্ধার করবে তা চিন্তা করেই আমি আনোয়ারের ওপর খুব রাগ করলাম; কিন্তু আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে মনোয়ার সেই বই ভালোভাবে পড়ে এনলার্জ বানানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে সে একদিন সফলও হলো। গ্রীষ্ফ্মের ওই প্রচণ্ড গরমে খাটের নিচে নিজেকে একটি কালো কম্বলে আপাদমস্তক মুড়ে একটি ব্রিটানিয়া বিস্কুটের খালি টিন ও একটি গ্ল্যাক্সো দুধের খালি গোল টিন দিয়ে ও সত্যিই একটি এনলার্জার তৈরি করে ছবি এনলার্জ করে আমাদের দেখাল। মনোয়ারের প্রতিটি কাজেই আমাদের বিস্ময়ের অবধি থাকে না কিন্তু এই ভাবে এনলার্জার বানানো দেখে আমরা পরিবারসুদ্ধ সেদিন ওর গৌরবে গর্বিত না হয়ে পারিনি। ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর আমাদের কলকাতার বাড়ির একটি দেড় তলার রুমে প্রচণ্ড গরমে বসে বসে একটি ফুল সাইজ পেপার এনলার্জার বানিয়ে আমাদের চমৎকৃত করেছিল। কারুশিল্পের একটি সর্বভারতীয় এক্সিবিশনে এনলার্জারটি সর্বোচ্চ সম্মানে পুরস্কৃতও হয়েছিল।

মনোয়ারের জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। মনোয়ার তখন তার মেজবুবুর কাছে নারায়ণগঞ্জে থেকে সেখানকার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। নারায়ণগঞ্জের গণআন্দোলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মনোয়ার তখন দিন-রাত বড় বড় পোস্টার আঁকতে ব্যস্ত থাকত। সেইসব হৃদয়গ্রাহী ও মর্মস্পর্শী পোস্টার নারায়ণগঞ্জের গণআন্দোলনকে জোরদার করতে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল। মনোয়ারের আঁকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল চাষাঢ়ার দেয়াল। আর প্রতিটি মিছিলেই থাকত মনোয়ারের আঁকা বিশেষ বিশেষ পোস্টার। ছোটবেলায় শখের কার্টুন আঁকার অভ্যেস এখন প্রকৃত কাজে এলো। প্রতিটি কার্টুনই ছিল অসম্ভব সুন্দর। আফসোস যে, সেসব পোস্টারের একটি ছবিও নেই। অসংখ্য পোস্টারের মধ্যে ছিল জন্তুর হাত মায়ের গলা টিপে ধরেছে। ক, খ, গ অক্ষরগুলোকে কুড়াল দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হচ্ছে। ওই সময় মনোয়ার থাকত ওর মেজবুবু ও মেজ দুলাভাইয়ের (লুৎফর রহমান) বাসায় চাষাঢ়ায়। আন্দোলনের একপর্যায়ে পোস্টারের বান্ডিল হাতে ধরা পড়লে সেই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাদবাকি পোস্টারসহ মনোয়ার ও ওর দুলাভাই লুৎফর রহমান এবং তার আরেক ভাই মশিউর রহমানকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যায়। আমি টেলিগ্রামে ওই খবর পেয়ে পরের দিনই ঢাকায় চলে আসি। পুলিশ নারায়ণগঞ্জ থেকে যাদের অ্যারেস্ট করেছিল তারা সবাই একে একে জামিনে ছাড়া পাচ্ছিল; কিন্তু মনোয়ারের আর জামিন হয় না কিছুতেই। সরকার শেষে মনোয়ারকে সিকিউরিটি প্রিজনার করেছে। এই খবর শুনে আমরা পরিবারসুদ্ধ স্তব্ধ। আব্বা অনেক ছোটাছুটি করে বন্ড দিয়ে মনোয়ারকে জেল থেকে বের করেছিলেন।

মনোয়ার যখন কলকাতায় আমাদের কাছে এলো, আমরা তখন পার্ক সার্কাসের ৫নং পার্ল রোডে থাকি এবং সৈয়দ মুজতবা আলী আমাদের সঙ্গে একই বাসায় থাকেন আর ওই বিল্ডিংয়েরই আরেকটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আবু শরীফ আইয়ুব। মনোয়ার ম্যাট্রিকের এই ছুটিতে এক মাস ধরে আমাদের বিল্ডিংয়ের একটি দোতলার রুমে অসীম ধৈর্যে প্রচণ্ড গরমকে অগ্রাহ্য করে একটি পূর্ণাঙ্গ এনলার্জার বানাল, সেটি দেখতে হুবহু বাজারের এনলার্জারের মতোই এবং তার পারফরমেন্সও খুবই সুন্দর। তার এই অসামান্য সৃষ্টি একটি এক্সিবিশনে সর্বোচ্চ পুরস্কারে পুরস্কৃতও হয়েছিল। এসব দেখেশুনে আনোয়ার বলতে লাগল, 'ফটোগ্রাফিতে ওর যখন এত শখ ও মাথা, তখন ওকে বিদেশ থেকে সিনে-ফটোগ্রাফির ডিগ্রি করিয়ে আনতে পারলে একটি ভালো ক্যারিয়ার হবে। এই চিন্তাতেই ওকে আমরা স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি করে দিই। ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে কলেজে মনোয়ার খুব একা হয়ে যাবে বলে আমার মনে ভয় ছিল। ক'দিন যেতে না যেতেই সে তার আপনগুণে খেলার মাঠে, কমনরুমে ও সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-তামাশায় এমনই আসর জমিয়ে বসল যে, কলেজের প্রথম ইলেকশনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম বর্ষের সোশ্যাল সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়ে গেল। মানুষকে আপন করার অসম্ভব গুণ মনোয়ারের। একবার যে তার সংস্পর্শে আসত, সে তাকে সহজে ভুলত না।

চিত্রশিল্পের পাশাপাশি সঙ্গীতেও তার নাম কলকাতায় খুবই ছড়িয়ে পড়েছিল। বাড়িতে যে ওস্তাদ ফৈয়জ খাঁর শিষ্য শ্রীযুক্ত সন্তোষ কুমার রায়ের কাছে রাগপ্রধান গান শিখত এবং সায়গল, পিএইচ আত্মা, হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়, মুকেশ প্রভৃতি শিল্পীর গাওয়া হিন্দি গান অভ্যাস করত। মনোয়ারের কণ্ঠস্বর অনেকটা সায়গলের মতো। সায়গলের সদ্য প্রয়াতের পরে সায়গলের গানগুলো গাওয়ার জন্য সেই পঞ্চাশের দশকে কলকাতার যারা মনোয়ারের গান শুনেছেন, তারা আজও মনোয়ারকে স্মরণ করে ও মনোয়ার কোনো রেকর্ড করেনি বলে খুবই আফসোস করেন। আর্ট কলেজে পড়ার সময়ই সে নির্মলেন্দু চৌধুরীর গ্রুপে নিয়মিত একক গান গাইত। নির্মলেন্দু ও মনোয়ার ছাড়া অন্য কেউ আর একক সঙ্গীত করত না। বলতে গেলে পুরো পঞ্চাশের দশকটিই ছিল মনোয়ারের গান ও ছবির জগৎ। কলকাতায় তখন ওয়াটার কালার, ওয়েল পেইন্টিং, পোর্ট্রেট পেইন্টিং, ফটোগ্রাফার ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে মনোয়ারের তখন ভীষণ নামডাক। মনোয়ারের ছাত্রজীবন তার জীবনের একটি গৌরবোজ্জ্বল যুগ বললে খুব মিথ্যা বলা হবে না।

আর্ট কলেজের পড়া শেষ হলে ঢাকায় এসে মনোয়ার জয়নুল আবেদিন সাহেবের আগ্রহে শিক্ষক হিসেবে ঢাকা আর্ট কলেজে যোগ দেয়। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় পাকিস্তান টেলিভিশনের সূচনালগ্নে যখন প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে তাকে আহ্বান করা হয়, সে তখনই ঢাকা আর্ট কলেজের সরকারি চাকরি ছেড়ে সেই নতুনের আহ্বানে সাড়া দেয়। পাকিস্তান টেলিভিশনের সেই সূচনালগ্নের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সেসব সুন্দর সুন্দর সেট ও প্রোগ্রাম আমরা দেখেছি, তার স্মৃতি কারোরই ভোলার নয়। মনোয়ারের অসাধারণ প্রোডাকশনে শেক্সপিয়ারের Taming of the shrew মুনীর চৌধুরীর করা বাংলা অনুবাদ 'মুখরা রমণী বশীকরণ' ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী' যুক্তরাজ্যের গ্রানাডা টিভির ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অব টিভি ড্রামার জন্য মনোনীত হয়েছে। 'স্ত্রীর-পত্র' যথাক্রমে ২০০৩ সালে চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) কর্তৃক টেলিভিশনের শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে উদয়-অস্ত পরিশ্রম করে ক্রমশ সংগঠনের দায়িত্বভার বেড়ে যেতে থাকলে তার স্বভাবসিদ্ধ কণ্ঠের শ্রবণনন্দিত সঙ্গীত ও অতি কোলাজ রঙের ব্যবহার জলরঙের অপূর্ব সব ছবি আঁকা, যা নয়ন-মনকে এক অকল্পনীয় নান্দনিক বোধে পৌঁছে দিত, সেসবই যেন একে একে পথ হারাল। এত ব্যস্ততার মধ্যেও আর্ট কলেজে পড়ার সময় রাজপুতনার পুতুল নাচ যে মনোয়ারকে খুবই আকৃষ্ট করেছিল- ১৯৫৯ সালে আর্ট কলেজের পড়া শেষ করে ঢাকায় এসে সব কাজের ফাঁকে ফাঁকে সেই পাপেট গড়ার দিকে মন দিয়ে ধীরে ধীরে সে সুন্দর সুন্দর পাপেট তৈরি করে বাংলাদেশের প্রথম পাপেট প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজের স্থান তৈরি করে নিল। নদী যেমন তার সব শাখা-প্রশাখা নিয়ে এক সময় সাগরে এসে মেশে, তেমনি মনোয়ারের সমগ্র শিল্পকলার বিভাগের অসামান্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পাপেট নির্মাণের কাজে নিয়োজিত হলো। পাপেট এমনই একটি শিল্প, যেখানে ছবি আঁকা থেকে শুরু করে স্কাল্পচার ও নাটক সব ধরনের অভিজ্ঞতাই একটি পূর্ণাঙ্গ পাপেট শো নির্মাণের সমান উপযোগী ও প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াল।

আমি মনোয়ারের খুব কাছের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তার অসাধারণ প্রতিভা, শক্তি ও ব্যক্তিমাধুর্যের এক মুগ্ধ শুভানুধ্যায়ী। আমি প্রতি মুহূর্তে তার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও চিত্তের প্রশান্তি কামনা করি।

আজ মনোয়ারের ৮৩তম জন্মবার্ষিকীতে আমার একান্ত কামনা- উজ্জ্বল স্বাস্থ্য নিয়ে যেন তার শৈল্পিক-কর্ম জীবনের সব অপূর্ণ সাধকে পূর্ণতা দিতে পারে। মনোয়ারের জন্য এটাই আমার একান্ত প্রার্থনা।

পরবর্তী খবর পড়ুন : ব্যবসায় উদ্যোগ

এফডিসিতে অপূর্ব

এফডিসিতে অপূর্ব

টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। বিগত কয়েক বছর ...

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে করণীয়

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে করণীয়

অনেকেই মুখের দুর্গন্ধের সমস্যায় ভোগেন। কাঁচা পেঁয়াজ খেলে, মুখের ভেতরের ...

যশোর ও বান্দরবানে ‌'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২

যশোর ও বান্দরবানে ‌'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২

যশোর ও বান্দরবানে পৃথক ‌'বন্দুকযুদ্ধে' দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর ...

নাটোরে নির্মাণাধীন ড্রেনে আবারও মিললো গ্রেনেড

নাটোরে নির্মাণাধীন ড্রেনে আবারও মিললো গ্রেনেড

নাটোর শহরে নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে আরও একটি গ্রেনেড উদ্ধার করা ...

ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ঢাকার ধামরাইয়ের রামদাইল গ্রামে বিষাক্ত সাপের দংশনে দেলোয়ার হোসেন সোহাগ ...

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সড়কযাত্রা শুরু

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সড়কযাত্রা শুরু

সড়কযাত্রার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলো আওয়ামী ...

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। ...

ভারতের কাছেও বড় হার বাংলাদেশের

ভারতের কাছেও বড় হার বাংলাদেশের

পরপর দুই ম্যাচে বড় হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ...