হাঁপানি হলে যা করবেন

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০১৮      

ডা. আবু রায়হান, সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট

শ্বাসকষ্টজনিত কারণে সাধারণত অ্যাজমা বা হাঁপানির সৃষ্টি হয়। হাঁপানি মানুষের দেহের এক অসহনীয় ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধি। এ শ্বাসকষ্টের উপদ্রব হয় নানা রকম অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী অ্যালার্জেনের কারণে। অ্যালার্জেনগুলো হচ্ছে- পুরনো ধুলাবালি, ফুলের রেণু, মাইটের মল, পরিবেশের ধুলা, পোষা প্রাণীর লোম ইত্যাদি। অ্যালার্জিজনিত হাঁপানির একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ধুলা।

মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে ধুলাবালি এমন এক বিরক্তিকর জিনিস, যা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। বাসাবাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা ধুলাবালি, অফিসের খাতাপত্র বা ফাইলে জমে থাকা ধুলা এবং রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত যে ধুলা উড়ছে তা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের প্রধান উদ্রেককারী। ধুলাবালি মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অন্য অ্যালার্জেনের চেয়ে ধুলা খুব সহজে নিশ্বাসের সঙ্গে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। ফলে খুব দ্রুত সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয়। ধুলা বা ময়লা হাঁপানির জন্য ক্ষতিকর। কারণ এতে মাইট, ফুলের রেণু, তুলার আঁশ, পোষা প্রাণীর লোম, ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক মিশে থাকে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইটের কারণেই প্রধানত ধুলাবালি অ্যাজমা রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। মাইটের শরীর থেকে নির্গত মল, লালা, রস ধুলার সঙ্গে মিশে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে দেহে প্রবেশ করে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। এ কারণে ধুলাজনিত অ্যালার্জির কারণে অ্যাজমা রোগীর পরিমাণ বেশি। গ্রামের তুলনায় শহরের বেশিরভাগ লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

শহরে দূষিত বায়ুর কারণে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট থেকে বাঁচতে ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। ঘর পরিস্কার এবং বিছানাপত্র ঝাড়ূ দেওয়ার সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাইট বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে বিশ্বে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম ওষুধ ভ্যাকসিন বা ইমিউনোথেরাপি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বেশিদিন থাকে না। আমাদের দেশেও এখন হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে অনেক যুগোপযোগী পদ্ধতি এবং ওষুধ রয়েছে। তাই এ রোগ হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেকে ভুল ধারণা করে থাকেন, হাঁপানি একবার হলে আর ভালো হবে না। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে হাঁপানি রোগটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

পরবর্তী খবর পড়ুন : ফ্যাটি লিভার কেন হয়

চট্টগ্রাম টেস্টে বাদ পড়ছেন কে?

চট্টগ্রাম টেস্টে বাদ পড়ছেন কে?

জিম্বাবুয়ে সিরিজের সপ্তাহখানেক বাদেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ...

নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে নিহত ৩

নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে নিহত ৩

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে নৌবাহিনীর তিতুমীর ঘাঁটিতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ...

বিয়ের প্রস্তাবের সাক্ষী একদল বেজিও!‍

বিয়ের প্রস্তাবের সাক্ষী একদল বেজিও!‍

জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বিয়ে। সেই বিয়ের প্রস্তাবকে স্মরণীয় করে ...

মদপানে প্রাণ গেল দুই যুবকের

মদপানে প্রাণ গেল দুই যুবকের

মাগুরা শহরের সাহা পাড়া এলাকায় বিষাক্ত মদপান করে দুই যুবকের ...

ফ্রিজ বিস্ফোরণে বাড়িঘর পুড়ে ছাই

ফ্রিজ বিস্ফোরণে বাড়িঘর পুড়ে ছাই

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে একটি বসত বাড়ির দুটি ঘর পুড়ে ছাই ...

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নরসিংদীর পলাশে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ...

তিতে-নেইমারের মনে ধরেছে রির্কালিসনকে

তিতে-নেইমারের মনে ধরেছে রির্কালিসনকে

বয়স সবে ২১ বছর। চলতি মৌসুমে ইংলিশ লিগের দল এভারটনে ...

ভুয়া ওয়েবসাইট চেনার উপায়

ভুয়া ওয়েবসাইট চেনার উপায়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়াতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বা ...