বুঝেশুনে খাবার খান

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার, সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

যে কোনো অনুষ্ঠানে সবার বাসাতেই করা হয় নানা পদের মুখরোচক খাবারের আয়োজন। তাছাড়া কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র এখনও চলছে বিভিন্ন বাসায় দাওয়াত পর্ব। সেমাই, পায়েস, জর্দা, কাস্টার্ড, বিরিয়ানি, পোলাও, কাবাব, কোরমা, চটপটি, দই-বড়াসহ নানা পদের টক, ঝাল, মিষ্টি খাবারের আয়োজনে ভরে যায় টেবিল। নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাসায় ঘুরে ঘুরে প্রায় সারাদিনই টুকিটাকি এটা সেটা খাওয়া হয়। তবে এই আনন্দের মাঝেও আমাদের একটু নজর দেওয়া দরকার, আমরা কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবারের প্রতিক্রিয়া কী তার ওপর।

মূল সমস্যাটা নিঃসন্দেহে খাবারের পরিমাণে। কেননা দাওয়াতে ভূরিভোজ করতে হবেই। আবার বন্ধুদের বাড়িতে গেলে অনুরোধের চাপে কিছু তো গিলতেই হয়। এর চাপ পড়ে পেটের ওপর। অনেকেই একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারেন না। ফলে পেট ফাঁপে, জ্বালাপোড়া করে, ব্যথা করে, বারবার পায়খানা হয়। আবার পর্যাপ্ত পানি পান না করার দরুন অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। যদিও সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেতে কোনো মানা নেই। কিন্তু মাত্রা বজায় রাখাটা খুবই জরুরি।

এক্ষেত্রে শুরু থেকেই পরিকল্পনা থাকা দরকার। দিনের মূল খাবার অর্থাৎ দুপুর ও রাতের খাবার কোথায় খাবেন ঠিক করে ফেলুন। অন্য বাসাগুলোয় যথাসম্ভব কম খান। পানি, শরবত, ফলের রস ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে গ্রহণ করুন। এতে গুরুপাক খাবারের জন্য পেটে স্থান কমে যাবে। খাবারের মেন্যুতে স্বাভাবিকভাবেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি থাকে। এ ছাড়া পোলাও, মুরগি, গরু বা খাসির মাংস, কাবাব ইত্যাদির সঙ্গে ঝাল খাবারও থাকে। আরও আছে চটপটি, দই-বড়া কিংবা বোরহানির মতো টক খাবার। যাদের বয়স কম এবং শারীরিক কোনো সমস্যা নেই, তারা পছন্দমতো সবই খেতে পারেন এবং তাদের হজমেরও কোনো সমস্যা হয় না। শুধু অতিরিক্ত না হলেই হলো। তবে অনেকে হঠাৎ খুব বেশি ঝাল বা তৈলাক্ত বা ভাজাপোড়া খেলে অসুস্থ্থ বোধ করতে পারেন। তাই সবার জন্যই খাবার হওয়া উচিত কম মসলাযুক্ত, কম তৈলাক্ত, ভালোভাবে রান্না করা।

যারা মাঝবয়সী বা বয়োবৃদ্ধ বা যাদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আছে, যেমন ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেশার বা হৃদরোগ ইত্যাদি তাদের খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীকে অবশ্যই মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

তারা বরং টক খাবারের মাধ্যমে রসনা পূরণ করতে পারেন। সবজি বা টক ফল দিয়ে মজাদার খাবার আগেই বানিয়ে রাখুন, এগুলো আপনাকে অন্য খাবার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে। নেহাত মিষ্টি খেতেই চাইলে চিনির বিকল্প দিয়ে তৈরি করে নেবেন। পোলাও, বিরিয়ানি কম খাবেন। ভাত খাওয়াই ভালো। তাই বলে অতিরিক্ত খাবার অবশ্যই পরিহার করবেন। মুরগি বা গরুর মাংস খাওয়া যাবে যদি অতিরিক্ত তেল বা চর্বি না থাকে। সঙ্গে কিডনির সমস্যা থাকলে মাংস পরিহার করাই ভালো। খাসি, কলিজা, মগজ, চিংড়ি ইত্যাদি খাবেন না। খাবারের পরিমাণটা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা, এসব খাবার একবেলাই খাওয়া উচিত, অন্য বেলা স্ব্বাভাবিক খেতে হবে। রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এদিন একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, প্রয়োজনে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা একটু বাড়াতে হতে পারে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, অথবা হার্টের সমস্যা আছে অথবা যারা মুটিয়ে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই তেল ও চর্বি এড়িয়ে যেতে হবে। তবে চর্বি ছাড়া গরুর মাংস খাওয়া যাবে পরিমাণ মতো।

ভাজাপোড়া খাবেন না, বিশেষ করে ঘরের বাইরে। আগের দিনের বাসি মাংস জ্বাল দিয়ে খাবেন না। মিষ্টিও পরিমাণের বেশি খাওয়া যাবে না। ফল, ফলের রস, সালাদ ইত্যাদি বেশি করে খাবেন। বিশেষ করে খাবারের শুরুতে সালাদ খেলে অন্য খাবারের জন্য জায়গা কমে যাবে। এ ছাড়া টক দই খেলে উপকার পাবেন। কিডনির সমস্যা থাকলে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মাছ-মাংস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিনে দুই টুকরোর বেশি নয়। ফল খাবার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা থাকে। যারা দুধ সহ্য করতে পারেন না, তাদের দুধের তৈরি খাবার এড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তবে বোরহানি বা টক দই খাওয়া যায়। অনেকে সালাদ খেলে সমস্যায় পড়েন, তাদেরও তা এড়াতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।

অতিরিক্ত খেয়ে পেট জ্বালা করা, ফাঁপা আর পেপটিক আলসার খুব সাধারণ সমস্যা। যাদের পেটের এই সমস্যা আছে, তারা অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করবেন। দু'বেলা খাবার আধাঘণ্টা আগে আলসারের ওষুধ যেমন ওমিপ্রাজল, ইসমিপ্রাজল, রেনিটিডিন ইত্যাদি খেয়ে নেবেন। প্রয়োজনে খাবার পর দুই চামচ অ্যান্টাসিড খেতে পারেন। পেট ভরে খাবেন না, গোগ্রাসে না খেয়ে সময় নিয়ে চিবিয়ে খাবেন, খাবার সঙ্গে সঙ্গে পানি না খেয়ে একটু পরে খাবেন, রাতে খাবার পর পরই ঘুমাতে যাবেন না, কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করতে পারেন। দু-তিন ঘণ্টা পর ঘুমাবেন। এছাড়াও একটি সমস্যা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। বিশেষ করে বৃদ্ধরা সমস্যায় পড়েন। সেমাই, পায়েসের সঙ্গে সঙ্গে ফলের রস খেতে পারেন। এর সঙ্গে প্রচুর পানি পান করে নেবেন। আর সব খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি বা অন্যান্য পানীয় পান করতে ভুলবেন না।

পরবর্তী খবর পড়ুন : চিঠি এলো

মিরপুরের কালশি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান

মিরপুরের কালশি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান

রাজধানীর মিরপুরের কালশী বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। রোববার ...

ছোট ভাইকে হাতুড়িপেটা করে মারল বড় ভাই!

ছোট ভাইকে হাতুড়িপেটা করে মারল বড় ভাই!

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ছোট ভাইকে হাতুড়ি-বাটাল ...

২৬ বছরের অভিনেত্রীর সঙ্গে ৭০ বছরের মহেশ ভাটের প্রেম!

২৬ বছরের অভিনেত্রীর সঙ্গে ৭০ বছরের মহেশ ভাটের প্রেম!

এক তরুণ অভিনেত্রীর কাঁধে মাথা রেখেছেন খ্যাতিমান পরিচালক মহেশ ভাট। ...

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা: ৩ রাষ্ট্রদূতকে তলব

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা: ৩ রাষ্ট্রদূতকে তলব

ইরাক সীমান্তের কাছে ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শিশু ...

ফেঁসে যেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা

ফেঁসে যেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে যার ফলে ...

বগুড়ায় রেলসেতুর মেরামত কাজ সন্ধ্যা নাগাদ শেষ হতে পারে

বগুড়ায় রেলসেতুর মেরামত কাজ সন্ধ্যা নাগাদ শেষ হতে পারে

বগুড়ায় দেবে যাওয়া রেলসেতুর মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় রোববার ...

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৬৩, ইয়াবা-ফেনসিডিল উদ্ধার

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৬৩, ইয়াবা-ফেনসিডিল উদ্ধার

সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মীসহ ৬৩ জনকে ...

জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায়

জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায়

র‌্যাবিসকে বাংলায় জলাতঙ্ক বলা হয়। অর্থাৎ জলে যার আতঙ্ক। এই ...