গল্প

অতলের বন্ধুরা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৮      

জোহরা শিউলী

'তাহলে বলছো আমি-ই তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু?'- চশমার ফাঁক গলিয়ে জানতে চায় পিপলী।

'হুম। একবার না। বেশ কয়েকবার বলেছি। তুমি ছোট প্রাণী। কিন্তু খুব ঘাড়ত্যাড়া'- কিছুটা বিরক্ত হয় অতল।

'থাক আর কপাল কুঁচকাতে হবে না। আমি একটু ঘুরে আসি রান্নাঘর থেকে। তোমাদের সাবিনা চা বানাচ্ছে। কিছুটা চিনি তো ফেলবেই এ মেয়ে। ওটা দিয়েই আমার সারাদিন চলে যাবে। আর তুমি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ো তো। সারাদিন তো নানান বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করেই যায়।' কেমন যেন একটু ঢং করে রান্নাঘরের দিকে যেতে থাকে পিপলী।

পিপলী অতলের বন্ধু। ভাবছো, পাশের বাসার সমবয়সী কেউ কিংবা কাজিন-টাজিন টাইপ কেউ? উহু...। তোমার ভাবনা ঠিক না। পিপলী হলো অতলের পিঁপড়া বন্ধু।

ভাবছো মানুষ আর পিঁপড়া আবার বন্ধু হয় কীভাবে?

হয়...। হয়...।

অ তে অজগরটি আসছে তেড়ে...। আ তে আমটি আমি খাবো পেড়ে...। আম খাওয়ার বিষটি ঠিক আছে। সবুজে মোড়ানো কমলা পাকা আম। আহা...। কিন্তু অজগরটি আসছে তেড়ে? বাংলা পড়তে বসলেই সুর করে পড়তে হতো এটা। যেমনটা বাসায়; তেমনটা স্কুলে। কী ভয়ের-ই না বিষয় ছিলো। অজগরের হাঁ করা একটা মুখ তার দিকে বরাবরই চেয়ে থাকতো। আর কেমন যেন গা শিরশির করে উঠতো অতলের। রাতে ঘুমালেও স্বপ্ন দেখতো সে। আজগরটি আসছে তেড়ে। মাকে জানিয়েছিলো সে।

'পড়ার তো শুরুই হলো না। এখনই এমন ফাঁকিবাজি শুরু করেছো? সারাদিন যখন টিভি-ট্যাবে কার্টুন দেখো, তখনও তো সাপ দেখায়। তোমার ভয়ের কিছু দেখি না।'- এক ধমকে বসিয়ে দেন মা।

তেড়ে আসা অজগর কুরে কুরে খায়। মায়ের চোখ রাঙানিতে আর কথা বলা হয় না।

ইংরেজি আলফাবেট। এ তে অ্যান্ট...। আহা ছোট্ট... কী মিষ্টি একটা প্রাণী দিয়েই না শুরু। কেন অ বর্ণটা এমন ছোটখাটো মিষ্টি প্রাণী দিয়ে হলো না। বইয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবা। আর অমনি কুট্টুস করে কামড় বসিয়ে দিলো ছোটখাটো আদুরে প্রাণীটা।

'উফ...' শব্দ করে উঠে সে।

'আমি মোটেই তোমাকে এতো জোরে কামড় দেইনি। চিৎকার দিয়ে উফ করে উঠলে কেন?' প্রথমদিন থেকেই পিপলীর এই ঝগড়াটে কণ্ঠ দিয়ে শুরু। এই ছোট্ট একটা প্রাণী। কিন্তু ঝগড়ায়-খবরদারিতে পাক্কা। অতলকে চোখে চোখে রাখে সারাক্ষণ। মা-বাবা দু'জনেই অফিসে। সাবিনার কাছেই থাকে অতল। সাবিনা যেমন সারাক্ষণ তার দেখভাল করে, তেমনি অতল বুঝতে পারে এই ছোট্ট প্রাণী সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখে তাকে।

পড়ার টেবিলের পাশে সকালবেলায় হাজির হয় অতলের আরেক বন্ধু। কাক। অতল তাকে মুড়ি খেতে দেয়। বিস্কিট খেতে দেয়। সেই সূত্রে বন্ধুত্ব তাদের। সকাল বেলাটা ছাড়া কাকবন্ধু এদিকে আসেই না। তাই সকাল সকাল এই বন্ধুকে বেশ কয়েকটা মুড়ি দিয়ে দেয় অতল। এতেও কেমন যেন পিপলী রেগে উঠে। চোখ-মুখ বড় করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। পিপলীটা কেমন কেমন হিংসুটে। অতলকে কারও সঙ্গে মিশতে দিতে চায় না। তাই কাকবন্ধু যখন মুড়ি খেতে আসে তখন আশপাশে তাকিয়ে নেয় অতল। পিপলী দেখলো কি-না। সবার সঙ্গেই অতলের একটা মজার সম্পর্ক। কিন্তু পিপলীকে ভয় পেয়ে চলে অতলসহ সবাই। কুট্টুস করে কামড় বসিয়ে দেয় সে। অতলের সঙ্গে যার বেশি বন্ধুত্ব সে এই কামড়টা তাকে বেশি দেয়।

অনেকদিন টুনটুন আর অতলের কাছে আসে না। সে এখন নিয়মিত রান্নাঘরেই থাকে। রান্নাঘরে গিয়ে অতল তাকে ডাকতে গেলে ঠুস করে কেবিনেটে ঢুকে যায়। এমন কামড় দিয়েছিলো টুনটুনকে একদিন পিপলী। সেই কামড়ের চোটে টুনটুন আর অতলের ধারেকাছে আসে না। অতলকে বন্ধু হিসেবে টুনটুনের অনেক পছন্দ। কিন্তু পিপলীর ভয়ে সে আর এদিকে পথ মাড়ায় না। ভাবছো টুনটুনও বোধহয় অতলদের বাসার কেউ একজন? মোটেই না। টুনটুন হলো অতলের টিকটিকি বন্ধু।

বাবা একটা অ্যাকুয়ারিয়াম কিনে দিয়েছেন। সোনালি রঙের মাছ খেলা করে সেখানে। সেই মাছটার যত্নআত্তি-খাবার দেওয়া ছোট্ট ছোট্ট হাতে অতল-ই করে। এটাতেও পিপলীর আপত্তি। কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না। শুধু একমাত্র পিপলী বন্ধু।

কিন্তু অতল চায় সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব করে চলতে।

এরই মাঝে হঠাৎ টিকটিক শব্দ। মাথার একটু উপরে। তাকিয়ে দেখে টুনটুন।

কেমন অস্থির চাহনি।

কী হয়েছে?

'চিনি খেতে গিয়েছিলো পিপলী। কিন্তু চুলা জ্বালানোর ম্যাচের কাঠির কিছু অংশ গায়ে লেগেছে ওর। দেখ কী অবস্থা।'- মুখে করে পিপলীকে নিয়ে এসেছে সে।

একটা পা পুড়ে গেছে ছোট্ট পিঁপড়াটার। একটু খানি তুলো নিয়ে তাতে শুইয়ে দিলো অতল পিপলীকে। পাশে বসে আছে টুনটুন। আর অ্যাকুয়ারিয়ামের কাচ ফুড়ে যেন বের হয়ে আসতে চাইছে সোনালি মাছটা। পিপলীর জন্য তার খারাপ লাগছে। পরদিন সকালে মুড়ি খেতে এসে যখন জানতে পারলো কাকটা অনেকক্ষণ মন খারাপ করে দাঁড়িয়েছিলো পিপলীর দিকে চেয়ে। আহা ছোট্ট একটা প্রাণী।

যতোদিন না সুস্থ হলো পিপলী কাকবন্ধু মুড়ি খেতো না। মন খারাপ করে জানালার পাশে বসে থাকতো।

অতল আর টুনটুনের সেবায় সুস্থ হয়ে উঠে পিপলী।

'দেখেছো? সবাই তোমাকে কতো ভালোবাসে? তোমার জন্য কতো মন খারাপ করেছিলো সবাই। কষ্ট পেয়েছে'- পিপলীকে বলে অতল। কিছু বলে না পিপলী। সে নিজেও তো দেখেছে।

সুস্থ হয়ে আগের মতো ছটফট ভাবটা কেন যেন কমে গেছে। অন্য কারও সঙ্গে অতল এখন বন্ধুত্ব করলেও পিপলী তেমন রাগ করে না। বরং সে এখন নিজে থেকেই বন্ধুত্ব করছে অতলের অন্য বন্ধুদের সঙ্গে। এই যেমন এখন তাকে দেখা যাচ্ছে অ্যাকুয়ারিয়ামের গ্লাসের এই পাশে দাঁড়িয়ে কী যেন ফিসফিস করছে সোনালি মাছটার সঙ্গে। হ

পরবর্তী খবর পড়ুন : আমি বঙ্গবন্ধু হবো

মেসির বিরুদ্ধে কিছু বলিনি: ম্যারাডোনা

মেসির বিরুদ্ধে কিছু বলিনি: ম্যারাডোনা

স্পেনের ক্লাবগুলোর ঘনঘন কোচ পরিবর্তনকে ভালো চোখে দেখছেন না দিয়েগো ...

সুযোগ থাকলে মাশরাফি অবশ্যই খেলবে: পাপন

সুযোগ থাকলে মাশরাফি অবশ্যই খেলবে: পাপন

জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষ হতে না হতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের কড়া ...

ক্লিনটনের উচিত ছিল আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া, বললেন লিউনেস্কি

ক্লিনটনের উচিত ছিল আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া, বললেন লিউনেস্কি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনেস্কির সম্পর্কের ...

কেবল নিরাপত্তায় খরচই এক কোটি!

কেবল নিরাপত্তায় খরচই এক কোটি!

তারা এখন স্বামী-স্ত্রী।ইতালির লেক কোমোতে বুধবার দক্ষিণ ভারতীয় রীতিতে বিয়ে ...

পুলিশের ওপর হামলা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের মহড়া: কাদের

পুলিশের ওপর হামলা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের মহড়া: কাদের

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলাকে ...

বিএনপির সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: জয়

বিএনপির সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: জয়

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় বিএনপির ...

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন মঞ্জুর

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন মঞ্জুর

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন ...

'জয়টা খুব দরকার ছিল'

'জয়টা খুব দরকার ছিল'

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে ...