নাইপলের সঙ্গে আড্ডায়, ভবিষ্যদ্বাণী

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০১৮      

দাউদ হায়দার

হতে পারে সেই দিন সকালে (১০টার পরে) বা আগের দিন কোনো এক সময়ে ফোন করে থাকবেন, কথা হয় ইভা হোয়েনিসের সঙ্গে। কী কথা অজানা। গুন্টার গ্রাসের সেক্রেটারি ইভা হোয়েনিস। বললেন, 'আজ সন্ধ্যায় বাড়ি থেকো, কোথাও যেও না। গুন্টার থাকতে বলেছেন।' শুনে অবাক মানি। আজ সকালেও গুন্টারের সঙ্গে দেখা হয়েছে ব্রেকফাস্টের সময়, গুন্টার কিছু বলেননি। ধরে নিই, ভুলে গিয়ে থাকবেন হয়তো। প্রশ্ন জাগে মনে, গুন্টার তো এ রকম বলেন না কখনও। বলার থাকলে নিজেই ওপরে উঠে এসে বলেন।

থাকি গুন্টার গ্রাসের বাড়িতেই। তিনতলায়। তিনি দোতলায়, নিচতলায় রান্নাঘর, খাবারঘর, বসারঘর, আড্ডারঘর বড়। বাড়ির সামনে বাগান, খোলামেলা জায়গা। পেছনে সেকেলে উঠোন। প্রশস্ত উঠোন। মূলত বাগান, তাও প্রায় দুই কাঠা। বিস্তর গাছগাছালি। অধিকাংশই নানা মৌসুমি ফুলের। উঠোনে চেয়ার, টুল, টেবিল।

আজ ১৫ অক্টোবর। শীতের দাপট নেই। আকাশে মেঘ নেই। আকাশ ফুরফুরে। গ্রীষ্ফ্ম আরও দুই সপ্তাহ আছে (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। অক্টোবরের শেষ রোববারে ইউরোপে সময় পাল্টায়। অর্থাৎ শীত মৌসুমের শুরু)।

বিকেল গড়িয়ে প্রায় ৫টা। সন্ধ্যা। সূর্য ডুবেছে সাড়ে ৪টার আগেই। তিনতলার বারান্দা থেকে দেখি ১৩ নম্বর নিডস্ট্রাসের (গুন্টার গ্রাসের বাড়ি) সামনে একটি ট্যাক্সি থামল। তরুণীসহ একজন নামলেন। কৌতূহল হয় না। গ্রাসের সাক্ষাৎপ্রার্থী বিস্তর, নিত্যদিনই আসেন। সবসময় দেখা পান, নিশ্চয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া সাক্ষাৎ পাওয়া ভার।

বাড়িতে কলিংবেল বাজল। বাজতেই পারে।

মিনিট দশেক পরে গুন্টারের সেক্রেটারি ইভা ওপরে এসে বললেন, 'গুন্টার তোমাকে নিচে যেতে বলেছেন।' গেলুম। গিয়ে দেখি, ট্যাক্সি থেকে নামা তরুণীসহ সেই ভদ্রলোক। পরনে হালকা খয়েরি প্যান্ট, সবুজ শার্ট, ঈষৎ লালচে কোট। দেখেই চেনা-চেনা লাগে। বইয়ে, পত্রপত্রিকায় ছবি দেখেছি। নিশ্চিত নই তবে, 'তিনিই কি?' গুন্টার গ্রাস পরিচয় করিয়ে দিলেন। পরিচয়ের আগে উবাচ, 'চেনো?- ভিএস, নাইপল।'

গুন্টার-উবাচে, 'বাংলাদেশের। নাম ...।' লেখক-টেখক বলেননি। বলার ফুরসত পাননি। তার আগেই ভিএস নাইপলের (গ্রাসের উচ্চারণ 'নাইপাল') মন্তব্য : 'এখানেও বাংলাদেশি? বিলেতে সয়লাব। বেশির ভাগই রেস্তোরাঁর কর্মী। আপনার বাড়িতে খাবার দিতে এসেছে? আপনি ইন্ডিয়ায় ছিলেন কয়েক মাস, ভারতীয় খাবারে নিশ্চয় মজেছেন। তুমি ছোকরা কি ইন্ডিয়ান কুক? ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁয়? ভালো ডাল করতে পারো?'

নাম শুনে, বাংলাদেশ শুনেই এই কথা? মেজাজ বিগড়ে যায়, মগজে ওলটপালট। উটে (গ্রাসের বউ), লাউরা (গ্রাসের বড় মেয়ে), গুন্টারও রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা, ওদের কিছু বলার আগেই বলি, 'মিস্টার ভেদিয়া ('ভেদিয়া' সম্বোধনে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকান) আপনি ক্রীতদাস-বংশীয়। আপনার ঠাকুরদা ক্রীতদাস হয়েই ভারত থেকে, তাও আবার পূর্বাঞ্চলের ভারত থেকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ত্রিনিদাদে গিয়েছেন, দাসত্বের মানসিকতায় এখনও পোক্ত, বহু বছর বিলেতে থেকেও, অবশ্য, বিলেত ক্রীতদাসদের আশ্রয় দেয়, ক্রীতদাস পছন্দ করে। আমার পূর্ব কেন; পরবর্তী কোনো পুরুষ আপনাদের মতো ক্রীতদাস নয়। কফি ক্ষেতে কাজও করেনি। আপনার দিদি কমলা বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বলেছিলেন, 'ভারতে দাস হওয়াও গৌরবের।'

-আমার বোনকে চিনতে?

"সঠিক চেনা নয়। ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বোম্বে, এক বাড়িতে ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, তখন প্রৌঢ়া। আপনার মতো ব্রিটিশ-ঘেঁষা নন। নিজের অতীত ভোলেননি। যেমন ভোলেননি আপনার পিতৃ-পরিবারও। রুট্‌স (শিকড়) খুঁজতে বাংলা-বিহারে গিয়েছেন বছর কয়েক আগে (১৯৭০-এর শেষ দিকে। বছর-মাস উল্লেখ করিনি) নিজেকে কুলীন ভাবছেন কোন গরিমায়? আপনার পিতা শ্রীপ্রসাদ নাইপল ত্রিনিদাদের সংবাদপত্রে প্রথম ভারত-বংশোদ্ভূত ইংরেজি সাংবাদিক, নিজেকে ভারতীয় ভেবেছেন সর্বদাই, আপনি ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে এসে অক্সফোর্ডে ভর্তি হয়ে নিজেকে ভুঁইফোঁড়, 'কী হনুরে' ভেবেছেন।"

উটে, গুন্টার অতিশয় বিচলিত। 'কী আপদ রে বাবা!' শুনি। গুন্টার বললেন, 'না, ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁর কুক নয়, ডাল ভালো রান্না করে, ঝাল একটু বেশি দেয়। আমার বন্ধু। আমার এখানেই ওর আস্তানা।' গুন্টার আরও বললেন, 'ওকে সঠিক পরিচয় করিয়ে দিইনি, দুঃখিত। পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগেই ভারতীয়দের যা স্বভাব, একপ্রস্থ ঝগড়া, গালমন্দ।'

ভেদিয়ার কথা, 'তুমি হে আমার পরিবার সম্পর্কে অনেক কিছু জানো, তোমার সঙ্গে আবার মোলাকাত হবে।'

-কবে হবে, অজানা।

-১৬ অক্টোবর গুন্টার গ্রাসের ৬০তম জন্মদিন। ওইদিন নাইপল থাকবেন না, সকালের প্লেনেই ফিরে যাবেন লন্ডনে, ১৫ তারিখে এসেছেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ৬০টি ফুল নিয়ে।

উটে রসিকতা করলেন, 'জন্মের আগে শুভেচ্ছা।'

ওই সান্ধ্য আড্ডায় পূর্ব ও পশ্চিম রাজনীতির কথা, দুই সাহিত্যিকের নানা আলোচনা, রাজনীতির ভেতরমহল নিয়ে।

-সব কথোপকথন মনে নেই, লেখা ধৃষ্টতা। গ্রাসের কথা কানে বাজে, 'পূর্ব জার্মানি টিকবে না।'

রীতিমতো আঁতকে ওঠেন বিদ্যাধর। কেন টিকবে না- গুন্টারের নানা যুক্তি। রাজনৈতিক যুক্তি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ক্রমশ দুর্বল; অর্থনীতির দিক থেকে, রাজনীতির দিক থেকে এমনকি কর্তৃত্বের দিক থেকেও।

বিদ্যাধর স্বীকার করেন, ইসলামিক দেশগুলো সম্পর্কে যতটা জানেন, কমিউনিস্ট দেশগুলোর ভেতরমহলের খবরাখবর অজানা।

গুন্টারের মতো বৈশ্বিক, বিশেষত পূর্ব-পশ্চিমের রাজনীতি নিয়ে মাথা খামচান না বিদ্যাধর, ইসলামী দেশগুলোয় 'জার্নি' করে জেনেছেন ধর্মের বাতাবরণে রাজনীতির নানা মুখ ও মুখোশ। ইসলামিক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিশ্বাস রাজনীতির বলয়েও কীভাবে আন্দোলিত।

ভেবেছিলুম, বাংলাদেশ বিষয়ে বিশদ 'জ্ঞান' নেই ওর। নেই ঠিকই, কিন্তু জানেন, সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছে 'বিসমিল্লাহ' (করেছেন জিয়াউর রহমান)। 'তোমার দেশের সংবিধান ছিল সেক্যুলার। সংবিধানে বিসমিল্লাহ জুড়ে আখেরে কী হবে, স্পষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশে নানা জাতিগোষ্ঠী, নানা ধর্ম আছে। বিসমিল্লাহ জুড়ে দিয়ে ভিন্ন ধর্মকে উপেক্ষা, অস্তিত্ব অস্বীকার, মানবতা, মানবাধিকারও লোপাট করার পাঁয়তারা।'

তর্ক করি না। কারণও নেই। শুনি ওর আগাম কথা 'বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু, ভবিষ্যতে ইসলামিক দেশ হবে বাংলাদেশ। কার্যকারণে বিস্তর ইঙ্গিত। ভারতের পক্ষেও নিখাদ সেক্যুলার হওয়া সহজ নয় আর। ভারতের রাজনীতির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন।'

রাজনীতির প্রসঙ্গ উল্টে যায় উটের রসিকতায়, 'আপনার চিবুকে দাগ কেন?' লক্ষ্য করি, বিদ্যাধরের সঙ্গিনীর সলজ্জ মুখ। সামাল দেন বিদ্যাধর, 'দাড়ি কাটতে গিয়ে কেটে গেছে।'

আরও আধঘণ্টার বেশি আড্ডা। ইতিমধ্যে দুই বোতল রেড ওয়াইন শেষ (পাঁচজন গিলেছে)।

বিদ্যাধর ওঠার আগে ভারতীয়দের উচ্চারণ সম্পর্কে মন্তব্য, "আমার নাম ভিদ্যিয়াধর। ইংরেজি বানানও 'ভি' দিয়ে, ভারতীয়রা বলবে, 'বিদ্যা'। শুনেছি, বাঙালিরা আরও বেশি পণ্ডিত, ভি-কে 'বি' বলে। ভিদ্যিয়া হয়ে যায় বিদ্যা।"

হেসে বলি, "ভাগ্যিস, মিস্টার 'ভিশ্বাস' লেখেননি, ঠিকই লিখেছেন 'বিশ্বাস', যথাযথ উচ্চারণে (ওঁর একটি বিখ্যাত উপন্যাস 'আ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস')। বাংলার (পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গ) বহু হিন্দু-মুসলমানের পদবি বিশ্বাস। ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত এই পদবি নেই। ত্রিপুরা, আসাম রাজ্যেও বিশ্বাস পদবি পাওয়া যাবে। ত্রিপুরা-আসাম একদা বৃহত্তর বাংলারই অংশ। পরাধীন ভারতে অনেক 'বিশ্বাস' পরিবার কাজ-জীবিকার সন্ধানে ভারতের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতে। আপনার বিশ্বাস হয়তো এদেরই একজন।"

- কয়েক সেকেন্ড চুপ। অতঃপর দুই ঠোঁটের ফাঁকে পাতলা হাসি। "হতে পারে, আমরা বিশ্বাস। নাইপল নই। তবে আমাদের মহল্লায় (ত্রিনিদাদ) একটি ফ্যামিলি ছিল, পদবি বিশ্বাস। আমাদের পরিবারের মতো তাদের গল্পগাথা। হুবহু। যেন পারিবারিক। নাইপলই 'মিস্টার বিশ্বাস'।"



দুই.

চার বছর পরে বিদ্যাধর সুরজপ্রসাদ নাইপলের সঙ্গে আবার মোলাকাত। বার্লিনেই, স্থান :হাউস ড্যের কুলটুরেন ড্যের ভেল্ট (বিশ্ব সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা হাউস অব ওয়ার্ল্ড কালচার)। দুই বার্লিন তথা দুই জার্মানির একত্রীকরণ নিয়ে (এক বছর পরে, ৩ অক্টোবর ১৯৯০ সালে একত্রীকরণ) বিশ্বে কয়েকজন নামি রাজনীতিক (একজন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার) পশ্চিম জার্মানির ফ্যুয়র্থ জেলার 'কিসিংগার' গ্রামে জন্ম [আমেরিকান উচ্চারণে 'কিসিঞ্জার']। নাৎসি আমলে ১৯৩৮ সালে আমেরিকায় চলে যান। চমৎকার জার্মান বলেন), রাজনীতি-বিশেষজ্ঞ, সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্যিকের তিন দিনের সেমিনার। বিদ্যাধর দ্বিতীয় দিনে (৪ অক্টোবর ১৯৯১) বক্তা, প্যানেলে। পাঁচজন বক্তা। হেনরি কিসিঞ্জার এক ঘণ্টার বেশি বকবক করলেন- ১৯৩৮ সালে কী করে সপরিবারে পালিয়েছিলেন; তার দুই কাজিন নাৎসির কবলে ধরা পড়ে প্রাণ দেন, ইত্যাদি গপ্পো। বিরক্ত শ্রোতাকুল। বাকি তিন বক্তাও থামতে অরাজি। সময় পেরিয়ে যায়। সঞ্চালক কোনো রকমে থামিয়ে বিদ্যাধরের কথা শুনতে চান। বিদ্যাধরের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য : 'পূর্বতন বক্তারা যা বলেছেন, শুনে জ্ঞানী। আমি আর কী বলব!' বক্তৃতা শেষ। শ্রোতাকুলের তুমুল করতালি। সেমিনার শেষ।

সঞ্চালক জানেন, বেশি ঘাঁটালে হিতে বিপরীত। কিসিঞ্জারের বক্তৃতা চলাকালে যে চোখে দেখছিলেন কিসিঞ্জারকে, যে কটাক্ষ, সুখকর নয় খুব।

সেমিনার শেষে আমরা আলাদা, আড্ডায়। বিদ্যাধর মধ্যমণি। আড্ডায় ভারতীয় উপরাষ্ট্রদূতের স্ত্রী (তখনও বার্লিনে পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় দূতাবাস চালু হয়নি)। ভদ্রমহিলার নাম মনে পড়ছে না এই মুহূর্তে। ওর অগ্রজ 'ইন্ডিয়া টুডে'র অরুণ পুরি। সেই সুবাদেই বেশি খাতির। যত না রাষ্ট্রদূতকে। রাষ্ট্রদূতের নাম কমলেশ শর্মা। কমলেশ পরে কমনওয়েলথের মহাসচিব পদে বহুমান্য।

আড্ডায় প্রসঙ্গ উঠল দুই জার্মানির একত্রীকরণের পরে কী কী রাজনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক সমস্যা। নিও নাৎসির বাড়বাড়ন্ত, অত্যাচার। সরকার বেসামাল। লেজেগোবরে। দিশেহারা। সরকারের মিডিয়া ডয়েচে ভেলের সংবাদদাতা হয়েও কীভাবে আক্রান্ত, আক্রমণকারী একজন নয়, চারজন। ওরা নিও নাৎসি। বিদেশি দেখলেই, তথা কালো চামড়া, রেহাই নেই। শনৈঃ শনৈঃ বাড়ছে, এক বছরেই কয়েকজন বিদেশিকে খুন করেছে, এখন পর্যন্ত কেউ ধরা পড়েনি। জার্মানি কোন দিকে যাচ্ছে, সামনে কতটা দুর্দিন, বিপদ ঘনায়মান ইত্যাদি লেকচার ঝাড়লুম হাত নেড়ে। ওই সময় এলেন ফন হারলিনবুর্গ ক্যামেরাবন্দি করে আমাদের।

ডিনারের সময় আরেক প্রস্থ আড্ডা। কথা উঠল সাহিত্য নিয়ে। স্বীকার করেন, বাংলাদেশের কোনো লেখা পড়েননি। 'ভারতের প্রেমচন্দ, ভবানী ভট্টাচার্য, আরকে নারায়ণ, রাজা রাও, মূলক্‌রাজ আনন্দ, ভেদ মেহতা একসময় আকৃষ্ট করেছে।' অতঃপর সরাসরি মন্তব্য, 'নীরদ সি চৌধুরী ফালতু লেখক। খুশবন্ত সিং ইন্টারেস্টিং। শুরু করেছিলেন চমৎকার, এখন চুটকি লেখায় সিদ্ধহস্ত। অমিতাভ ঘোষ খুব পাওয়ারফুল লেখক, বড় মাপের, ওঁকে মান্য করি।' বলি, 'অনিতা দেশাইয়ের নাম বলেননি। নারী লেখিকার লেখা অপছন্দ, অপাঠ্য এমনকি জেন অস্টিনও; জানিয়েছেন।'

- 'এখনও বলি। বলব।' চোখ ট্যারা করে শোনান।

'আপনি নারীবাদী নন, পুরুষবাদই আপনার জয়গান, বউ-বান্ধবী পেটান, যেমন পিছিয়েন কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে, বোটে যাপনকালীন। নারী মানেই আপনার কাছে ভোগ, যৌনতার বস্তা, দলাই-মালাই থেকে শুরু করে যা খুশি করতে পারে। এসব লেখেনও সগর্বে।'

নাইপল : যেসব পুরুষ নারীবাদীর তকমাধারী, অতিশয় কপট, হাড়েমজ্জায় পাজি। এক মুখে নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার, গোপনে নারীর শরীরই তার আরাধনা। এই ভণ্ডামি বিস্তর দেখেছি। সেক্স চাই এবং নারীর সঙ্গে সেক্স, সেক্সে নারী যতই উথাল-পাথাল হোক, মূলত বস্তা (হুবহু কি এই কথাই বলেছেন? হয়তো নয়। কথামালার মূল অনেকটাই ওই রকম। স্মৃতি থেকে লিখছি)।

জিজ্ঞেস করি, ইন্দিরা গান্ধী, ম্যাগি (মার্গারেট) থ্যাচারকে পুরুষরা কি যৌনতার বস্তা ভেবে ভোট দিয়েছেন?

নাইপল : এখানে রাজনীতিই মুখ্য। বিকল্প নেই জেনেই ভোট দিয়েছেন।

বুঝলুম, তর্ক বহুদূর গড়াবে, বাদ দিই। জানি, বিদ্যাধর ঠোঁট কাটা, আর পাঁচজন বাঙালির মতো যুক্তির বদলে ঝগড়াটে। অনায়াসে বলবেন, 'গ্রেট নুইসেন্স। রাবিশ। ফাক।'

এই তিনটি শব্দ বোধ হয় ওঁর ভোকাবুলারিতে স্থায়ী, সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে বার্লিনে এসেছেন আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন আড্ডায় সমবেত। প্রথম কথা- 'সব নুইসেন্স এখানে, রাবিশ। ফাক।'

গত বছর ২৩ এপ্রিলে লন্ডনে ওঁর আস্তানায় হাজির, বিকেলে। না জানিয়ে যাওয়া। বেজার হননি। মুখে দাড়ি। উদাস চাহনি। হুইলচেয়ারে বসা। দুই হাত কাঁপছে। দুই পাও কম্পমান। পরনে পায়জামা, সাদা শার্ট। কথাবার্তা অসংলগ্ন নয়। বললেন, 'গত বছর (২০১৬) ঢাকায় গিয়েছিলাম, লিট ফেস্টিভালে। গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথায়, ঘরোয়া আড্ডায় স্পষ্ট হলো, বাংলাদেশ পুরোপুরি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। সরকারই তৈরি করছে। নো মোর সেক্যুলারিজম। ফাক।' া
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের অধীনে ...

সুলতান সুলেমানের পর এবার ‘জান্নাত’

সুলতান সুলেমানের পর এবার ‘জান্নাত’

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি সিরিয়াল গুলো বাংলা ডাবিং করে প্রচার ...

২ কর্মী হত্যায় ইউপিডিএফ দুষছে সংস্কারবাদী জেএসএসকে

২ কর্মী হত্যায় ইউপিডিএফ দুষছে সংস্কারবাদী জেএসএসকে

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় নিজেদের দুই কর্মীকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও ...

গায়ের জ্বালা মেটাতে সিনহা মিথ্যা কথা লিখেছেন: আইনমন্ত্রী

গায়ের জ্বালা মেটাতে সিনহা মিথ্যা কথা লিখেছেন: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ...

'পটাকা'র লভ্যাংশ দেয়া হলো স্কুলে

'পটাকা'র লভ্যাংশ দেয়া হলো স্কুলে

উপস্থাপিকা থেকে নায়িকা হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। চলতি বছর ২৬ এপ্রিল ...

কবরীর  বাসায় চুরি

কবরীর বাসায় চুরি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সারাহ বেগম কবরীর গুলশানের বাসায় ...

কোমর-পিঠ ব্যথায় কার্যকর ব্যায়াম

কোমর-পিঠ ব্যথায় কার্যকর ব্যায়াম

কোমর ও পিঠে ব্যথার সমস্যা খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ...

'আসল' খেলায় জ্বলে উঠুক টাইগাররা

'আসল' খেলায় জ্বলে উঠুক টাইগাররা

আকাশছোঁয়া অট্টালিকার সারি, ঝকঝকে শপিংমল, এমিরেটসের বৈভব ভরা বিমান মহল- ...