স্থিতিস্থাপকতা, সভ্যতা ও একটি কচ্ছপ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

রাজিব মাহমুদ

গল্পটা সেজান আর আনিকার। কিছুটা স্থিতিস্থাপকতারও। আবার অনেকটাই সভ্যতার। প্রেম-ভালোবাসারও যে নয়, সে রকম দাবি করাও মুশকিল।

সে যাই হোক, গল্প শুরুর আগে সেজান আর আনিকার দেশটা বা গল্পের পটভূমি সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেওয়া যাক।

১০০ বছর আগের কথা। একটা বিশাল মহাদেশে ছিল ছোট্ট, স্বাধীন, সার্বভৌম, মনকাড়া এক সবুজ ডেল্টা। উন্নয়নশীল থেকে দেশটা উন্নত দেশে ওঠার মহাসড়কে মাত্র যাত্রা শুরু করেছিল। নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশটার মানুষেরা হাজারো সংগ্রাম ও দীর্ঘশ্বাসের ভেতরেও আনন্দে থাকার একটা উপায় খুঁজে নিয়েছিল। এই আনন্দের মূল উৎস ছিল যে কোনো কিছু ভুলে থাকার এক আশ্চর্য ক্ষমতা। যেমন আগের দিন উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হলেও পরদিন ফেসবুকে নানা মসলাযুক্ত খাবারের হাই রেজুলেশান ছবি দিয়ে ছবির ক্যাপশনে দেশটির অনেক নাগরিকই লিখত 'আলহামদুলিল্লাহ। লাইফ ইজ গুড।'

তবে দেশটাতে একবার এমন এক সমস্যা দেখা দিল, যা ভুলে থাকা বা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। খুবই উৎকট ও লজ্জাকর একটা সমস্যা। দীর্ঘ তিন দশক নারী নেতৃত্বাধীন থাকার পরও কিংবা হয়তো সে কারণেই দেশটির পুরুষেরা নারীদের প্রতি ভয়াবহ মাত্রায় সহিংস হয়ে উঠল। সমস্যাটা নতুন না হলেও এর প্রকটত্ব অভাবিত মাত্রায় নতুন। দেশটিতে সাম্প্রতিক নারী নির্যাতনের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল।

নারী (নিজের রক্ত সম্পর্কীয় ও পরিবারের সদস্য বাদে) দেখলেই পুরুষদের আপাত নিরীহ-দর্শন স্থিতিস্থাপক অঙ্গটি রীতিমত হিস হিস করে ফণা-তোলা সাপের মতো তেড়ে আসতে চাইত। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার ছিল যে, দেশটির বেশিরভাগ পুরুষ তাদের এই অঙ্গটির স্থান-কাল-পাত্র ভোলা ঔদ্ধত্যকে খুবই স্বাভাবিক মনে করত। তারা বরং উল্টো দোষ চাপাত আক্রমণের শিকার মেয়েটির ওপর। মেয়েটির উত্তেজক পোশাক আর অঙ্গভঙ্গিই নাকি তাদের অঙ্গটিকে উত্তেজিত করে তোলার জন্য দায়ী।

তবে ২-৩ স্তরের পোশাক চাপিয়ে মাথা নিচু করে হাঁটা মেয়েরাও রক্ষা পেত না। শুধু তাই নয়; পুরুষের স্থিতিস্থাপক অঙ্গটিকে দিশেহারা করে দেওয়ার কোনো বৈশিষ্ট্যই অর্জন করেনি যে শিশুরা, তারাও ছাড় পেত না পুরুষের যৌন নিগ্রহ থেকে। তাই ঘরে-বাইরে যে অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল তা হলো, নারী যে বয়সেরই হোক না কেন, পুরুষ তার দিকে ভোগী চোখে তাকাবেই। পুরুষকে নাকি তৈরিই করা হয়েছে এভাবে। অতএব সাবধান হতে হবে নারীদেরই।

বাসে ও অন্যান্য পাবলিক প্লেসে ভিড়ের মাঝে বয়স্ক পুরুষ থেকে শুরু করে সদ্য গোঁফ গজানো কিশোর- সবাই সুযোগ খুঁজত নারীদের শরীরে হাত দেওয়ার। এটা নিয়ে নারীরা প্রতিবাদ করতে গেলে আশপাশের পুরুষরা ক্ষেপে গিয়ে তেড়ে আসত তাদের দিকে। আর তেড়ে আসা পুরুষরা অবধারিতভাবেই কথা বলত স্পর্শকারী পুরুষটার পক্ষ নিয়ে।

চাকরিজীবী নারীদের অফিসে পুরুষ বস ও সহকর্মীরা নানা বাহানায় তাদের কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করত। রাস্তাঘাটে সামনের বাহনে কোনো নারী আছে কি-না তা পেছনের বাহন থেকে অনুমান করা যেত। কেননা, নারী থাকলে সামনের বাহনটার আশপাশের পুরুষরা নিজেদের মধ্যে গা টেপাটেপি করত বা একটা ফিচেল হাসি হেসে সামনের বাহনটার দিকে আঙুল তুলে দেখাত অথবা ইঙ্গিতপূর্ণ হাত তালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করত কিংবা কোনো যৌন রসাত্মক মন্তব্য করত। কেউ কেউ আবার এ সবই করত একসঙ্গে।

দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে পুরুষ বিক্রয়কর্মীরা নারী ক্রেতাদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করত। যেমন একবার মাঝবয়সী এক নারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখলেন, 'সেদিন একটা কসমেটিক্‌সের দোকানে ক্রিম দেখার সময় এক কিশোর বিক্রয়কর্মী এসে মহিলার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক কিশোরকে পাশ থেকে জড়িয়ে ধরে নিজের স্থিতিস্থাপক অঙ্গটি সেই কিশোরটির কোমরের পাশের দিকে ঘষতে ঘষতে বলল, 'আরে দেখা আপারে বড় বড় ক্রিম দেখা, বড় বড়।'

শপিং মল, বইমেলা, সিনেমা হল, পার্টি সেন্টার- সর্বত্র পুরুষের কামার্ত দৃষ্টি দেশটির নারীদের প্রতিনিয়ত কুৎসিত ছায়ার মতো অনুসরণ করতে লাগল।

অনেকেই এ সমস্যার সমাধান বাতলাতে চাইলেন নারীদের ঘরে আবদ্ধ করে রেখে। কিন্তু দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী-আমলা, চিকিৎসক, শিল্পপতি, শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন নারী, যাদের ঘরে বসে থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তা ছাড়া দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে নারীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প তো পুরোটাই চলছে নারী কর্মীদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই নারী ঘরে থাকা সত্ত্বেও পুরুষ ঘরের দরজা ভেঙে বা বেড়া কেটে বা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে দল বেঁধে যৌন নির্যাতন চালাত নারীদের ওপর।

অতএব নারীকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখা কোনো সমাধান নয়।

কুৎসিত এই পরিস্থিতিতে শুধু যে দেশটির নারীরাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন, তা নয়; এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল বিদেশি নারীদের ভেতরেও। পর্যটন শিল্পে প্রভূত সম্ভাবনাময় দেশটির নারী পর্যটকের সংখ্যা নেমে এলো প্রায় শূন্যের কোঠায়। বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকার পরও বিদেশি নারী বিনিয়োগকারীরা সেখানে আর বিনিয়োগ করতে চাইলেন না। এমনকি দেশটিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যে দূতাবাসগুলো ছিল সেগুলোর বিভিন্ন পদে বিদেশি নারীরা এসে আর কাজ করতে চাইলেন না।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেশটি নারী-সহিংস দেশ হিসেবে এতটাই আলোচিত হয়ে উঠল যে, এর খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান যথেষ্ট উন্নত হওয়া সত্ত্বেও বিদেশি ছাত্রী ভর্তির হার কমতে কমতে নেমে গেল শূন্যের কোঠায়। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তাদের ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এদেশি ছাত্র আর ভর্তি করতে চাইল না। এখানেই শেষ নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশে এদেশি পুরুষ কর্মী নিয়োগের ওপরেও পড়ল ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব। সেসব দেশে চাকরির আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দিলেও দেশটিতে অবস্থিত সেসব দেশের দূতাবাস পুরুষ আবেদনকারীদের 'সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার' বা যৌন আচরণ নিয়ে গোপনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করত; সামান্য সন্দেহ হলেই ভিসার আবেদন বাতিল করে দেওয়া হতো।

সব মিলিয়ে নিজস্ব ভূখণ্ডের ভেতর-বাইরে দেশটির ভাবমূর্তি সাংঘাতিক সংকটের মুখে পড়ে গেল।

দেশটির সরকার অনেক চেষ্টা করেও পুরুষের এই যৌনাগ্রাসী মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলো। নারী নির্যাতন আইন সংশোধন করে কঠোরতর করে জেল-জরিমানা, এমনকি ফাঁসি পর্যন্ত দেওয়ার আইন হলো। কিন্তু এসবে তেমন উল্লেখযোগ্য ফল হলো না। পুরুষের স্থিতিস্থাপক অঙ্গটি দিন দিন আরও আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী হয়ে উঠতে শুরু করল।

এ পর্যায়ে দেশটির গণতান্ত্রিক সরকার একটা চরম অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিল বা বলা যায় নিতে বাধ্য হলো। দেশের সেরা মেডিকেল প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহণে ও বিদেশি প্রযুক্তিবিদদের সহায়তায় উদ্ভাবন করা হলো এক বিশেষ যন্ত্রের। তবে উদ্ভাবনের পুরো সময়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হলো, যা শুধু পারমাণবিক বোমা তৈরির গোপনীয়তার সঙ্গেই তুলনীয়। সরকারের নির্ধারিত প্রযুক্তিবিদদের তাদের পরিবার-পরিজন থেকে আলাদা করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে একটা বিশেষ আন্ডারগ্রাউন্ড মেডিকেল ল্যাবরেটরিতে রাখা হলো। প্রায় দেড় বছর নিবিড় গবেষণার ফল হিসেবে তৈরি হলো এই যন্ত্র। এ যন্ত্রের কাজ হবে পুরুষের স্থিতিস্থাপক অঙ্গটিকে সাময়িকভাবে যৌন-অবশ করে রাখা। যন্ত্রটির নামও দেওয়া হলো অবশ-যন্ত্র।

বলাই বাহুল্য যে অবশ-যন্ত্রের খবরটা প্রকাশ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের ঝড় উঠল। দেশটির সুশীল সমাজ মানববন্ধন করল; মানবাধিকার সংগঠনগুলো বের করল প্রতিবাদ মিছিল। সরকারকে আখ্যা দেওয়া হলো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী হিসেবে। নাগরিকদের করের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ঘেরাও থেকে শুরু করে দেওয়া হলো নানা কর্মসূচি। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সরকার এসবে কর্ণপাত করল না। বরং কৌশলে ও অনেকটা জবরদস্তিমূলকভাবেই অবশ-যন্ত্র চালু করার আইনটা সংসদে পাস করিয়ে ফেলল।

এই আইনে বলা হলো- ১৬-৬৫ বছরের সকল পুরুষকে প্রতিদিন সকালে তাদের এলাকা ছেড়ে বেরোনোর আগে বাধ্যতামূলকভাবে অবশ-যন্ত্রটি ব্যবহার করে তাদের স্থিতিস্থাপক অঙ্গটিকে অবশ করিয়ে নিতে হবে। প্রতি সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার আগে বাধ্যতামূলকভাবে অন্য একটি যন্ত্র ব্যবহার করে তাদের অঙ্গটিকে আবার যৌন-সচল করে নিতে হবে। অঙ্গ-অবশের প্রমাণ হিসেবে সকালবেলায় প্রতিটি পুরুষকে একটা প্রিন্টেড রিসিট দেওয়া হতো, যাতে তারিখ, সময় ও মেয়াদ উল্লেখ থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে কোনো সময় সেই রিসিটটা দেখতে চাইতে পারেন। তবে ছুটির দিন বা অন্য সময় নিজ বাড়িতে অবস্থানের সময় এ আইন কার্যকর হবে না।

আইন অমান্য করার শাস্তি প্রথমবার ৫ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দদ্বিতীয়বার আইন অমান্য করলে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হতে পারে।

শহর ও গ্রামে প্রতিটি এলাকা, মহল্লা, থানা বা ইউনিয়নে বসানো হলো স্বয়ংক্রিয় এই অবশ-যন্ত্র। এই যন্ত্রগুলোতে সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিটি পুরুষের যাবতীয় তথ্য জমা করে রাখা হতো। তবে এগুলোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকত সংশ্নিষ্ট জায়গাগুলোর কাছাকাছি স্থানীয় সরকারের একটা নির্দিষ্ট অফিসে।

এ যন্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদে কাজ না হওয়ায় অনেক জায়গায় কিছু পুরুষ রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালিয়ে বেশ কিছু অবশ-যন্ত্রের সার্কিট ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করল। এর পরিপ্রেক্ষিতে যন্ত্রগুলোকে ঘিরে বসানো হলো বিশেষ পুলিশি প্রহরা এবং করা হলো অবশ-যন্ত্র রক্ষা আইন। এ যন্ত্রের ওপর হামলার নূ্যনতম শাস্তি হলো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

যন্ত্রটি ব্যবহারের ছয় মাসপূর্তিতে দেখা গেল দেশের সার্বিক যৌন পরিস্থিতির এতটাই উন্নতি হয়েছে যে, সংসদে দেশটির প্রধান বিরোধী দলও সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানাল। তবে বিপর্যয়টা ঘটল কিছুদিন পর। সেটায় পরে আসছি।

শুরুতে বলেছিলাম গল্পটা সেজান ও আনিকার বা অন্য আরও অনেক কিছুর। সে প্রসঙ্গে ফেরা যাক।

সেজানের সঙ্গে আনিকার পরিচয় অবশ-যন্ত্র চালু হওয়ার চার মাসের মাথায়। সেজানের বয়স অনুসারে সেও বাধ্যতামূলকভাবে অবশ-যন্ত্র ব্যবহারকারীদের একজন। প্রতিদিন সকালে রিসিট নিয়ে তার দিন শুরু করতে হয়।

সেজান আর আনিকা দু'জনেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা করত। দু'জনেই বেশ সচ্ছল পরিবারের সন্তান, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিসম্পন্ন। এবং এ গল্পের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, দু'জনেরই একটি করে কচ্ছপ আছে।

ওদের দেখা হয়ে গেল যার যার কচ্ছপের জন্য খাবার কিনতে গিয়ে। শহরে কচ্ছপের খাবারের দোকান তেমন নেই। যারা কচ্ছপ পালে বা চাষ করে; ঘুরেফিরে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নির্দিষ্ট একটা দোকানেই যায়। ওরাও সেখানেই গিয়েছিল।

সেজানের কচ্ছপটার নাম টিটো আর আনিকারটার নাম সিলিয়া। যাই হোক, সেজান-আনিকার নাম্বার বিনিময়-পরবর্তী যোগাযোগের ক্ষেত্রে কচ্ছপ একটা বড় বিষয় বা অজুহাত হয়ে উঠল। যেমন আনিকা হয়তো একদিন সেজানকে ফোন দিয়ে বলল-

'জানো, সিলিয়া কিছু খেতে চাচ্ছে না। কোনো সাড়া-শব্দও করছে না। কী করব বুঝতে পারছি না!'

বা সেজান আনিকাকে ফোন দিয়ে বলল-

'টিটো মানুষদের সামনে একটা বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ও খুব মেপে মেপে আর চিন্তা করে কথা বলে। ওর বলা অনেক কথাই পরে মিলে যায়। তবুও মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা কচ্ছপ কথা বলবে- এটা মেনে নেওয়া যায় না।'

টিটো ছিল বিরল প্রজাতির বাচ্চা কচ্ছপ। সেজানের ঘরের এক কোণের অ্যাকুয়ারিয়ামে ছিল তার বসবাস। বাহ্যিকভাবে অন্য কচ্ছপদের মতো হলেও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল টিটোর, যা সাধারণ কচ্ছপের নেই। দৈর্ঘ্যে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার। স্বভাবে গম্ভীর আর চিন্তাশীল। যোগাযোগ করত মূলত রঙের মাধ্যমে। চারপাশের প্রকৃতির নানা পরিবর্তনে ওর রঙ বদলে যেত। যেমন সেজানদের বাগানে যখন কুঁড়ি ফুটে ফুল হতো বা কাঠফাটা গরমের পর বৃষ্টি নামত কিংবা আশপাশের কোনো বাড়িতে কোনো শিশুর জন্ম হতো, টিটোর পিঠের শক্ত খোলসটা ভেদ করে ভেতর থেকে গাঢ় সবুজ রঙ ঠিকরে বেরোত। আবার কখনও যদি পাশের বাড়ির কুকুরটাকে পাড়ার কিশোরদের একটা দল পিটিয়ে মেরে ফেলত বা বাগানের ধুঁকতে থাকা গাছটা পোকার আক্রমণে মারা যেত বা নিচতলার নতুন দম্পতি ঝগড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে যেত, তখন টিটোর খোলস থেকে বিচ্ছুরিত হতো লাল রঙ। এই দুটো রঙের আভাই পরিস্কার বোঝা যেত রাতের বেলা। এ সময় বাইরের কেউ সেজানের ঘরে এলে ভাবত উচ্চশক্তির ডিম লাইট জ্বলছে।

সেজান আর আনিকার সম্পর্ক ধীরে ধীরে গাঢ় হতে থাকে। রাত জেগে জেগে কথা বলতে শুরু করে ওরা। কথার বিষয় শুরুতে কচ্ছপ থাকলেও আস্তে আস্তে কচ্ছপ প্রসঙ্গ চাপা পড়ে যায়। সেই জায়গা দখল করে নেয় টক-ঝাল-নোনতা-মিষ্টি প্রেমালাপ। মাঝে মাঝে চলত অভিমানও।

নিজেদের অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এ সম্পর্কের কারণে কচ্ছপ দুটো আস্তে আস্তে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়তে থাকে। আনিকা একটু পরিবারকেন্দ্রিক হওয়ায় ও এটা-সেটা পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকত। তাই সিলিয়ার সঙ্গে ছুটির দিন ছাড়া ওইভাবে সময় কাটানো হতো না ওর। কিন্তু সেজান আনিকার সঙ্গে পরিচয়ের আগে খুব আত্মমগ্ন আর নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করত। টিটোই ছিল ওর একমাত্র সঙ্গী। সে প্রায়ই টিটোকে অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে বের করে মেঝে বা পড়ার টেবিলে ছেড়ে দিত। নিজে নিজেই কথা বলে যেত টিটোর সঙ্গে। টিটোও তার পাগুলো নাড়িয়ে বা মাঝে মাঝে মাথা কাত করে ধৈর্য নিয়ে সেজানের কথা শুনত। এখন সেটা প্রায় হয়ই না। সেজান বোঝে যে টিটো তার ওপর কিছুটা অভিমান করেছে। তবে আনিকার সঙ্গে ওর সম্পর্কটা নিয়ে টিটোর একটা কচ্ছপীয় কৌতূহলও আছে।

কচ্ছপের খাবারের দোকানে দেখা হওয়ার পর আরও বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল ওদের। এবার ওরা ঠিক করল, আনিকার জন্মদিনে সেজানদের এলাকা অর্থাৎ শহরের উত্তর দিকের একটা রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাবে।

এদিকে টিটো যে বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল, সেটাও ঘটার জন্য আনিকার জন্মদিনকেই বেছে নিয়েছিল।

সেদিনই সকালবেলায় শহরের উত্তরাংশের সব অবশ-যন্ত্র একসঙ্গে নষ্ট হয়ে গেল। কারণ এই যন্ত্রগুলো যে কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো, সেখানকার মূল কম্পিউটারটি বিগড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। কেন্দ্র থেকে বলা হলো, কম্পিউটারটি ঠিক হতে আট থেকে দশ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সময়ে এই অঞ্চলে বসবাসকারী পুরুষরা কী করবে? তারা কি তাদের স্থিতিস্থাপক অঙ্গটি অবশ না করেই নিজ নিজ কর্মস্থলে যাবে, নাকি তারা অবশ-যন্ত্রগুলো ঠিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে?

দ্বিতীয়টি করলে মুশকিল হবে। কেননা, ওই এলাকায় বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বড় ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা থাকেন। তার আট-দশ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া মানে গোটা দিনই নষ্ট হওয়া, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এমনিতেই যানজটের কারণে প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। শেষমেশ স্থানীয় সরকার থেকে নির্দেশনা এলো- পুরুষরা অবশ-যন্ত্র ব্যবহার না করেই তাদের এলাকা থেকে বের হবে। তবে সম্ভাব্য যৌন-নাশকতা এড়ানোর জন্য নামানো হবে পুলিশের বিশেষ টহল টিম। বোঝা গেল, এ ধরনের বিপর্যয়ের জন্য সরকারের প্রস্তুতি ছিল।

সেজান সেদিন রাস্তায় বের হয়েই দেখল বাড়তি পুলিশের টহল। আশপাশের সব পুরুষের ভেতর একটা চাপা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছিল। এমনকি এলাকার পুরুষ পুলিশদের ভেতরেও একটা দমকা উত্তেজনা টের পাওয়া যাচ্ছিল।

আজই প্রথম অবশ-যন্ত্রের প্রভাবমুক্ত অবস্থায় আনিকাকে সামনাসামনি দেখল সেজান। এর আগে প্রত্যেকবার ওকে অবশ-যন্ত্রের রিসিট নিয়ে আনিকার সঙ্গে দেখা করতে হয়েছিল। তাই এবারের অভিজ্ঞতাটা আগের বারের তুলনায় শুধু আলাদাই না, দারুণ রোমাঞ্চকরও বটে।

সেদিনের আনিকা একেবারেই আলাদা। দারুণ প্রস্ম্ফুটিত আর অপূর্ব আকর্ষণীয় লাগছিল ওকে। চাপা গায়ের রঙের সঙ্গে সাবলীল হাসিতে আনিকা এমনিতেই যে কোনো ছেলের নজর কাড়তে সক্ষম। তবে অবশ-যন্ত্রের প্রভাবেই হয়তো পুরুষরা ওর দিকে আর হাঁ করে তাকিয়ে থাকত না, যেটা এই যন্ত্র চালুর আগে নিত্যদিনের ব্যাপার ছিল। সেজানের মনে হচ্ছিল, সেদিন আনিকার প্রতিটা অঙ্গ যেন আলাদাভাবে সুন্দর হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ওর ঠোঁট, গ্রীবাভঙ্গি, চোখের পাতা, কানের লতি থেকে একটা উষ্ণ কোমল আভা বিকিরিত হচ্ছিল থেকে থেকে। সেজানের ভীষণ ইচ্ছা করছিল আনিকার হাতটা ধরতে, ওর মুখের কাছে নিজের মুখ নিয়ে যেতে। তবে ব্যাপারটা ঠিক নগ্নভাবে শারীরিক নয়; একটা তীব্র আন্তঃটান শরীরী আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এক অদ্ভুত মানবিক অনুপাতে মিশে ছিল।

কিন্তু বিপর্যয়ের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে গেল ওদের দেখা হওয়ার কিছুক্ষণের ভেতরেই। অর্ডার করা খাবার আসতে না আসতেই রেস্তোরাঁর টিভিতে ভেসে উঠল শহরের উত্তরাংশের পুরুষদের আগ্রাসী যৌন-আচরণ দৃশ্য। প্রায় ছয় মাস পরে এরা তাদের স্থিতিস্থাপক যন্ত্রটি অবশ না করে রাস্তায় বেরোনোর সুযোগ পেয়েছে। আর সেটা পাওয়ামাত্রই এদের আচরণ হয়ে উঠেছে খাঁচা-ছাড়া বাঘের মতোই হিংস্র।

টিভিতে বিভিন্ন জায়গায় বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছিল, পুরুষরা ফুটপাতে তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া নারীদের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছিল; বাস স্টপে নারীদের পেছনে দাঁড়ানো পুরুষরা নানা কায়দায় নারীদের পশ্চাদ্দেশ ছুঁয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল; শপিং মলে নারী ক্রেতার হাত চেপে ধরে অসভ্যতা করার চেষ্টা করছিল পুরুষ বিক্রয়কর্মীরা। এমনকি ব্যাংক বা অন্যান্য পাবলিক অফিসে অসংখ্য অস্থির পুরুষ প্রকাশ্যে নারীদের জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ারও চেষ্টা করছিল।

টিভির পর্দায় দেখা যাচ্ছিল শহরের উত্তরাংশের নারীরা টহল পুলিশের গাড়ির কাছে গিয়ে পুরুষদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছিল। কিন্তু টহল পুলিশের সদস্যরাও তো পুরুষ। তাই বিভিন্ন জায়গায় পুরুষ পুলিশ সদস্যদের দ্বারা অভিযোগকারী নারীদের যৌন নিগ্রহের খবর আসা শুরু করল। পুলিশের এমন আচরণ দেখে সাধারণ পুরুষরা আর ঠিক থাকে কী করে! তাদের যৌন-সতর্কতার বিশীর্ণ লাগাম যেটুকু ছিল সেটা ছিঁড়ে গেল এক টানে; উত্তরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুরুষরা দল বেঁধে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ল রাস্তায় চলাচলকারী নারীদের ওপর।

দুপুর শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। সামাল দিতে না পেরে উত্তরের স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি নিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার ঘোষণা দিল। এই এক ঘণ্টার মধ্যে যে উত্তরের সকল পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। শহরে নামানো হলো সেনাবাহিনীর নারী সদস্য নিয়ন্ত্রিত সাঁজোয়া যান। বলা হলো- ১৪৪ ধারা চলাকালীন সময়ে রাস্তায় কোনো পুরুষকে দেখা গেলেই তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে এই ট্যাঙ্কে উঠিয়ে নেওয়া হবে। কোনো পুরুষ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গুলি করার অনুমতিও দেওয়া হলো সেনাবাহিনীকে।

ঘোষণা শুনে সেজান সামনে খাবার রেখে হতভম্ব হয়ে বসে রইল। আনিকা সেজানকে ওই মুহূর্তে ওর বাসার দিকে রওনা হয়ে যেতে বলল। সেজান কাতর স্বরে বলল-

'তাহলে তুমি?'

'আরে, আমি তো যাব দক্ষিণে; আর আমি পুরুষও না। আমার এই এলাকা ছাড়তে দেরি হলেও কোনো অসুবিধা নেই। তুমি প্লিজ দৌড়াও।'

পরিস্থিতির ভয়াবহতা চিন্তা করে সেজান দৌড়ে বের হয়ে এলো রেস্তোরাঁ থেকে।

ঘর্মাক্ত অবস্থায় ফুটপাতের ওপর দিয়ে নিজের বাড়ির দিকে ছুটতে ছুটতে সেজানের বারবার মনে হলো, একেকটা পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে ও আনিকার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। একটা তীব্র ভালোবাসা-মাখা ভয় গ্রাস করেছিল ওকে- আনিকা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে তো? যদি রাস্তায় কোনো পুরুষ ওকে আক্রমণ করে বসে!

শহরের অতল থেকে দ্রিম দ্রিম ড্রামের আওয়াজ উঠে এসে সেজানের বুকে গুব গুব করে ধাক্কা দিতে থাকে। আর ওর দুই চোখ দিয়ে নামতে থাকে অসহায় উষ্ণ জলের ধারা, যা কিনা মিশে যেতে থাকে সময়, রাজনীতি, সমাজনীতি, সভ্যতা ইত্যাদির ভারী তত্ত্বের ধারার সঙ্গে।


পরিশিষ্ট
সেজানের ফুটপাত ধরে দৌড়ানোর দৃশ্যটা মহাকালের অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ফিরে এলো একশ' বছর পরের এক নিথর মধ্যরাতে- বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়া এক যুবকের স্বপ্নদৃশ্য হয়ে। একশ' বছর আগে সেজানদের দোতলা বাড়িটা যেখানে ছিল সেখানেই ওঠা বিশাল একটা অ্যাপার্টমেন্টের ৭০ তলায় নিজের বেডরুমে স্বপ্ন-পরবর্তী কাঠ-ফাটা তৃষ্ণা নিয়ে ধড়মড় করে উঠে বসে এক যুবক। এই যুবকের নামও সেজান। তারও টিটো নামে একটা কচ্ছপ আছে। কিন্তু তার জীবনে কোনো আনিকা নেই। কারণ এই একশ' বছরে এই দেশটার নিয়ম আরও অনেক বেশি কঠোর হয়েছে।

নানাভাবে চেষ্টা করেও পুরুষের যৌন-সহিংস আচরণে লাগাম টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র। এমনকি শুরুর দিকে এত সফল যে অবশ-যন্ত্র, সেটাও আর কাজ করেনি। কেননা, দেখা গেছে এই যন্ত্রের প্রভাবে পুরুষরা ঘরের বাইরে কিছু করতে না পারলেও ঘরের ভেতরে সুযোগ পেলেই গৃহপরিচারিকা বা অনাত্মীয় নারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই রাষ্ট্র এখন নারী-পুরুষের একসঙ্গে থাকাকেই আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

দেশটির আইন অনুযায়ী জন্মের পরপরই নারী-পুরুষকে আলাদা করে ফেলা হয় ও রাস্ট্রের নিজস্ব রোবটদের মাধ্যমে তাদের লালন-পালন করা হয়। অর্থাৎ এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এ রকম কোনো সম্পর্কই আর টিকে নেই। অর্থাৎ নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে- তাহলে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম কী করে টিকে থাকবে? সে উপায়ও বের করা হয়েছে।

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের যাবতীয় তথ্য রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে জমা করে রাখা হয়। সেই ডেটাবেজ ঘেঁটে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নির্বাচন করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা। একটা নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করানো হয় ও এর পর তাদেরকে আবার আলাদা করে ফেলা হয়। পুরো ব্যাপারটাই ভয়ঙ্কর রকম যান্ত্রিক আর তীব্রভাবে শারীরিক।

এখন দেশটি নারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তবে নারী-পুরুষের মধ্যে প্রেম, টান বা কোনো আবেগ আর টিকে নেই। সময়ের প্রয়োজনে ওগুলোকে বহু আগেই জাদুঘরে পাঠানো হয়েছে।

এমনকি একশ' বছর আগে আনিকার জন্য ভালোবাসার উৎকণ্ঠা নিয়ে ফুটপাত ধরে সেজানের দৌড়ানোর দৃশ্যটা যখন একশ' বছর পরের সেজানের ঘুমের ভেতর ফিরে এলো, তখনও এই শতবর্ষী দৃশ্যকে নিয়ে কোথাও কোনো নস্টালজিক আদিখ্যেতা দেখা গেল না।

শুধু সেজানের ঘরের কোণায় থাকা টিটোর অ্যাকুয়ারিয়ামের ভেতরটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল তীব্র সবুজ আলোয়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : একটি আমকাঠের চৌকি

জয়পুরহাটে লেভেল ক্রসিংয়ে অল্পের জন্য বাঁচলো ৪৮ বাস যাত্রী

জয়পুরহাটে লেভেল ক্রসিংয়ে অল্পের জন্য বাঁচলো ৪৮ বাস যাত্রী

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম আমুট্ট (মহিলা কলেজ সংলগ্ন) এলাকায় ...

সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর প্রত্যাবর্তন

সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর প্রত্যাবর্তন

প্রলংয়করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর বাড়ি ফিরেছেন শরণখোলা ...

সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির জেল

সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির জেল

সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ...

আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদের চিঠি

আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদের চিঠি

আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে সময় চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ...

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দেশবাসী ক্ষমা করবে না: বি. চৌধুরী

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দেশবাসী ক্ষমা করবে না: বি. চৌধুরী

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন ...

মিটু আন্দোলন: যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলাদেশের নারীরাও

মিটু আন্দোলন: যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলাদেশের নারীরাও

যৌন নিপীড়নের শিকার যে কেউ হতে পারে। শুধু নারী ও ...

নির্বাচনকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই: আসাদুজ্জামান নূর

নির্বাচনকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই: আসাদুজ্জামান নূর

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, 'নির্বাচনকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ ...

পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি: গণপূর্ত মন্ত্রী

পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি: গণপূর্ত মন্ত্রী

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে বলে আশা প্রকাশ ...