হুমায়ূন আহমেদ

কথাসাহিত্যের জাদুকর

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮      

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী

কথাসাহিত্যের জাদুকর

হুমায়ূন আহমেদ [১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮-১৯ জুলাই ২০১২]-ছবি ::রাজিব পাল

সম্প্রতি কলকাতার গবেষক রাহুল দাশগুপ্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দ হইতে ২০১৫ কালপর্বে প্রকাশিত এক সহস্র বাংলা উপন্যাসের একটি নির্দেশিকা গ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছেন। এইরূপ নির্দেশিকা গ্রন্থ উপকারী দলিল বটে। 'বাংলা উপন্যাসকোষ' নামীয় উক্ত গ্রন্থটিতে হুমায়ূন আহমেদ নামে কাহারও অস্তিত্বের সংকেতমাত্র নাই। ইহাতে বিস্ময়ের কিছু নাই। সর্বজনবিদিত যে, বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকেরা কলকাতা সম্পর্কে যতটা সোৎসাহ; ঢাকা লইয়া কলকাতার কবি-সাহিত্যিকদের তদ্রূপ আদিখ্যেতা নাই। তবে হইতেও পারে 'বাংলাদেশের প্রধানতম কথাসাহিত্যিক' কে- এই প্রশ্ন গবেষক রাহুল দাশগুপ্তের মনে আদৌ উদয় হয় নাই।

একই সঙ্গে এই কথাও কবুল করিতে হইবে যে, খোদ বাংলাদেশেই তাহাকে বাতিল করিয়া দিবার লোকের অভাব নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগের তদানীন্তন শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ হুমায়ূন আহমেদের রচনাকে 'অপন্যাস' বলিয়া গভীর তৃপ্তির হাসি হাসিয়াছিলেন। এই বদরসিকতার কথার কথা ছাড়িয়া দিলেও অনস্বীকার্য যে, সমসাময়িক কালের অনেক প্রবীণ সাহিত্যিক-সমালোচক হুমায়ূন আহমেদের অবদান সম্পর্কে সন্দিগ্ধ। বস্তুত তাহারা দীর্ঘকাল আগেই হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থপাঠ পরিত্যাগ করিয়াছেন; কারণ তাহার রচনায় পর্যাপ্ত 'গভীরতা' নাই; নাই 'মননশীলতা' কি 'ভাবুকতা'। গ্যাটে কথিত 'মহৎ বিষয়' নাই, নায়কের মস্তিস্কে প্রবহমান 'স্ট্রিম অব কনশাসনেস'-এর ধারাভাষ্য নাই। নাই কোনো 'কাফকায়েস্ট্‌্ক' জগতের দুরূহতা; এমনকি আদ্যিকালের ফ্রয়েডীয় মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান পর্যন্ত অনুপস্থিত। ইহা সত্য- 'শঙ্খনীল কারাগার' এবং 'নন্দিত নরকে' লিখিয়া তিনি প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর রাখিয়াছিলেন, কিন্তু আত্মপরিণতির আদি স্তর অতিক্রম করিয়া উচ্চ শিখরে আরোহণ করিতে সক্ষম হন নাই। পুনরাবৃত্তির চক্রজালে তাহার কল্পনাশক্তি আটকাইয়া গিয়াছিল।

এইসব আপ্তধারণার বিপরীতে বাস্তবতা হইল এই যে, হুমায়ূন আহমেদ সেই সকল বিরল প্রতিভাধর সাহিত্যিকের একজন, যিনি জীবদ্দশায় দেশবাসীর কাছে ব্যাপকতম স্বীকৃতি লাভ করিয়াছিলেন। 'কাল নিরবধি' বলিয়া ভবভূতির ন্যায় তাহাকে দীর্ঘশ্বাস ফেলিতে হয় নাই; বাংলাদেশের মতো নিম্নআয়ের দেশে জীবদ্দশায়ই তিনি সংবৎসরে নবপ্রকাশিত গ্রন্থের লক্ষ কপি বিক্রি হইতে দেখিয়াছেন। তাহার প্রকাশক দেড়-দুই মাসে দশটি সংস্করণ করিতে গিয়া হাঁফাইয়া উঠিয়াছে। তাহার নতুন উপন্যাসের জন্য পাঠকের অস্থিরতাও প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। জনবন্দনার পরিমাপে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি একক পুরুষ হইয়া রহিয়াছেন।

২.

হুমায়ূন আহমেদকে লইয়া সমসাময়িক বিদ্বৎসমাজের অস্বস্তির কারণ ঈর্ষাপ্রসূত বলিলে কাহিনীর মূলাংশ অকথিত রহিয়া যায়। বিদ্বৎসমাজের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একটি প্রবল ধাঁধা হইয়া আবির্ভূত হইয়াছিলেন। কেহ কেহ তাহাকে 'জনপ্রিয় ধারার লেখক' হিসাবে আখ্যায়িত করিয়া সংক্ষেপে মামলা চুুকাইয়া ফেলিতে তৎপর হইলেও তাহাতে ধন্দের নিরসন হয় নাই। কারণ হুমায়ূন আহমেদ যখন 'লীলাবতী' বা 'জোছনা ও জননীর গল্প' কিংবা 'মধ্যাহ্ন'র মতো উপন্যাস লিখিয়াছেন, হিমু ও মিসির আলিভক্ত পাঠক তাহা সমাদরে গ্রহণ করিতে কালমাত্র বিলম্ব করে নাই।

১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগ হইতে শুরু করিয়া হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয়তার যে উত্তুঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন, তাহা বিস্ময়কর। কিন্তু এই নিবিড় ও পরিব্যাপ্ত জনপ্রিয়তার কার্যকারণ সূত্রগুলি অদ্যাবধি কোনো সহৃদয় ও যোগ্য সমালোচকের হাতে নিরূপিত হয় নাই। যতদিন এই রহস্যের উন্মোচন না হইবে, ততদিন কথাসহিত্যিক হিসাবে হুমায়ূন আহমেদের প্রকৃত মূল্যমান নির্ণিত হইবার আশা দুরাশাই থাকিয়া যাইবে।

ইহা ঐতিহাসিক সত্য যে, এই দেশের সাহিত্য সমালোচকেরা বাংলা উপন্যাসের বিষয়ে তেমন একটা মনোনিবেশ করিতে পারেন নাই। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৮৯৪) কথা বাদ দিলে বাংলা সাহিত্যের মহাপুরুষদের অধিকাংশই কবি হিসাবেই পরিগণিত। উপন্যাস প্রসঙ্গে সমালোচকদের যে কিয়ৎ পরিমাণ আগ্রহ, তাহা বঙ্কিমচন্দ্রের আলোচনার পর তেমন আর অবশিষ্ট থাকে না। যাহা থাকে তাহাতে রবীন্দ্রনাথের 'গোরা' কি 'নৌকাডুবি', কিংবা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুতুলনাচের ইতিকথা' আলোচনার পর অগ্রসর হওয়া কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের আলোচকরা অজ্ঞাত কারণে 'আনোয়ারা', 'আবদুল্লাহ্‌', 'কর্ণফুলী', 'ক্রীতদাসের হাসি', 'উত্তর পুরুষ', 'সূর্যদীঘল বাড়ি', 'পান্না হল সবুজ' প্রভৃতি উপন্যাসের নামের সহিত সুপরিচিত। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ তাহার 'লাল সালু', 'চাঁদের অমাবস্যা' ও 'কাঁদো নদী কাঁদো'- এই তিনটি উপন্যাসের জন্য বেশ প্রসিদ্ধ বলিয়াই মনে হইতেছে। তবে এইখানেই যেন পূর্ববঙ্গের কথাসাহিত্যের যবনিকাপাত হইয়াছে।

অন্যদিকে আমাদের সমালোচকেরা ঠিক কোন্‌ শ্রেণির সাহিত্যিক মূল্যায়নে আগ্রহী ও অভ্যস্ত, তাহা উপন্যাস-বিষয়ক বিভিন্ন নিবন্ধের শিরোনাম হইতে অনুমান করা যায়। যেমন- 'শওকত আলীর উপন্যাসে শোষিত শ্রেণির অসহায়ত্ব ও সংগ্রামের প্রকৃতি অন্বেষণ', 'আবুল ফযলের উপন্যাসে সমাজ বাস্তবতা', 'বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও সেলিনা হোসেনের গায়ত্রী সন্ধ্যা', 'মাহমুদুল হকের জীবন আমার বোন উপন্যাসে কলাকৈবল্যবাদ', 'জীবনের রৌদ্রে উড়েছিল কয়েকটি ধূলিকণা উপন্যাসে নারীবাদ ও সমাজ বাস্তবতা', 'মুক্তিযুদ্ধোত্তর উপন্যাসে নবচৈতন্য ও উপন্যাসের শিল্পরীতি' ইত্যাদি। সৌভাগ্যের কথা, হুমায়ূন আহমেদকে লইয়া এবম্বিধ তরল আলোচনার সূত্রপাত এখনও হয় নাই।

হুমায়ূন আহমেদ কী করিয়া বাঙালি পাঠক সমাজের মর্মমূলে পৌঁছিয়া গিয়াছিলেন, অদ্যকার পরিসর সেই রহস্য উন্মোচনের সুযোগ প্রশস্ত নহে। তবে উপস্থিত এই প্রসঙ্গে দুই-একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা যাইতে পারে। পাঠক জানেন, হুমায়ূন আহমেদ প্রধানত সমসাময়িক মানবজীবনের গল্পকেই তাহার রচনার উপজীব্য করিয়াছেন। যে জীবন সম্পর্কে পাঠক সম্যক অবহিত, সেই জীবনের কাহিনীই তিনি পাঠককে নতুন রূপে শুনাইয়াছেন। জানা কাহিনীকে তিনি অচেনা করিয়া উপস্থাপন করিতে পারঙ্গম। পাঠক সেই কাহিনী সানন্দে গ্রহণ করিয়া উপভোগ করিয়াছে। ইহা তাহার রচনা-কৌশলের কৃতিত্ব।

কথাসাহিত্যের জাদুকর এই লেখক কখনোই পুরাণের দ্বারস্থ হন নাই; শাসকবর্গ বা রাজনীতি লইয়া সবিশেষ মাথা ঘামান নাই। জীবনের শেষভাগে কখনও কখনও তিনি ইতিহাসের কাহিনী অবলম্বন করিয়াছেন বটে, কিন্তু তাহা শুদ্ধ অবলম্বনই বটে- তিনি ইতিহাস রচনা করেন নাই। মানুষই তাহার উপজীব্য, মানুষের দৈনন্দিন জীবনাচরণ ও সুখ-দুঃখের বয়ানই তাহার গল্প কিংবা উপন্যাস। তাহার রচনায় গল্প ও উপন্যাসের ভেদ নিরূপণ করা কঠিন- যদি না কলেবর প্রধান নিয়ামক বলিয়া গণ্য হয়। তাহার কাহিনী মানুষের মিথস্ট্ক্রিয়ার মধ্য দিয়া গ্রন্থিত হইয়া ওঠে; যেন লেখক একটি দাবার ছকে ঘুঁটিগুলি সাজাইয়া দিয়া সট্‌কিয়া পড়িয়াছেন; অতঃপর লেখকসৃষ্ট বিভিন্নরূপ চরিত্রসমূহের জীবনযাপনের স্বাভাবিক মিথস্ট্ক্রিয়ার মধ্য দিয়া আখ্যানভাগ গড়িয়া উঠিয়াছে। এই জন্য লেখকের বয়ান সংকীর্ণ, অন্যদিকে সংলাপ লাভ করিয়াছে প্রাধান্য। সংলাপের প্রাধান্যে ক্ষুদ্র পরিসরেই বিশদ বর্ণনার কার্যসমাধা হইয়াছে। প্রাণবন্ত ও রসময় স্বল্পদৈর্ঘ্য আখ্যানে বৈদগ্ধ সঞ্চারণ করিয়া তিনি কথাসাহিত্যের এক জাদুকরী কৌশলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন, বিশ্বসাহিত্যে যাহার সমকক্ষতা পরিদৃষ্ট হয় না। বাগ্মিতা প্রদর্শনের লোভ সংবরণ করিয়া পাঠককে তিনি নিরেট গল্প উপহার দিয়াছেন- যাহা পড়িয়া পাঠক হাসিয়াছে, কাঁদিয়াছে; প্রবলভাবে আন্দোলিত হইয়াছে।

কীরূপ প্রেরণা হইতে হুমায়ূন আহমেদ গল্প-উপন্যাস লিখিয়াছেন, সেই প্রশ্ন সঙ্গতভাবেই উত্থাপিত হইতে পারে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সূত্রপাত হইলেও বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ নাগাদ বাংলা কথাসাহিত্য, বলিলে অত্যুক্তি হইবে না, বেশ দৃঢ়মূল হইয়া উঠিয়াছিল। পরবর্তী পঞ্চাশ বৎসরে পরিলক্ষিত হয় নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথকে (১৮৬১-১৯৪১) অতিক্রমণ লইয়া তিরিশ এবং তিরিশোত্তর আধুনিক কবিদের রীতিমতো জবাবদিহি করিতে হইয়াছে; জগদীশ গুপ্ত (১৮৮৬-১৯৫৭) বা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (১৯০৮-১৯৫৬) এইরূপ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হইতে হয় নাই। তিরিশ এবং তিরিশোত্তর কবিরা ইউরোপীয় কবিদের পদাঙ্ক অনুসরণের অভিযোগের মুখোমুখি হইয়াছেন। এইরূপ অভিযোগের কাঠগড়ায় কথাসাহিত্যিকদের খুব একটা দাঁড়াইতে হয় নাই। অশ্নীলতার অপবাদ সহ্য করিতে হইয়াছে যদিও, তবে তাহাতে সংশ্নিষ্ট লেখকের কলম কিছুমাত্র বিচলিত হইয়াছিল- এবম্বিধ দলিল দৃষ্টিগোচর হয় না। জীবনানন্দ দাশের (১৮৯৯-১৯৫৪) তিরিশ-চল্লিশের দশকে লিখিত এবং সঙ্গোপনে রক্ষিত উপন্যাস ও গল্পগুলি পাঠ করিলে এমন এক লেখকসত্তা সম্পর্কে অবহিত হইতে হয়- যিনি না ঐতিহ্য, না প্রচল শিল্পরীতি, না পাঠকানুগ্রহের কিছুমাত্র তোয়াক্কা করিয়াছেন। বিংশ শতকের প্রথমার্ধে বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের শিরদাঁড়া যথেষ্ট দৃঢ় ও স্বাবলম্বী ছিল বলিয়াই প্রতীয়মান।

তবে বঙ্কিমচন্দ্র্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) হইতে শুরু করিয়া শতাধিককাল যাবৎ বাংলা উপন্যাসের মধ্যে আখ্যানে ও বয়ানে কোনো না কোনোরূপে লেখকের উদ্দেশ্যমূলকতা প্রত্যক্ষ হইতেছে। বঙ্কিমচন্দ্র্র চট্টোপাধ্যায় তাহার রচনায় সচেতনভাবেই সমাজ সংস্কারকের ভূমিকা পালন করিয়াছেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কাহিনী ফাঁদিতে গিয়া শেষাবধি তাহার রচনাকে নিছক রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় পর্যবসিত হইতে দিয়াছেন। অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদ কখনোই 'আমি রাঢ় অঞ্চলের নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবনচিত্র' লিপিবদ্ধ করিব অথবা 'আমি বাংলাদেশের নীতিহীন রাজনীতিবিদদের স্বরূপ উন্মোচন করিব' কিংবা 'এই উপন্যাসে বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীর নিদারুণ দুর্দশার চিত্র তুলিয়া ধরিব'- এই রকম কোনো প্রতিজ্ঞা লইয়া লিখিতে বসেন নাই। অন্যদিকে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে পাশ্চাত্যে 'উপন্যাস' নামীয় গদ্যসাহিত্যের যে নমুনাটি নানা মাত্রায় বিকশিত হইয়াছিল, সেইগুলি দ্বারা তিনি আদৌ প্রভাবান্বিত হন নাই।

পাঠকের মনোরঞ্জনই গল্পকার হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকৃতির প্রধান অভীষ্ট। মানব-মনের জটিল ও রহস্যময় দিকের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিবার লক্ষ্যেই লেখক নানাবিধ চরিত্র সৃষ্টি করিয়া থাকেন। লেখকেরা সাধারণত এই জটিলতার ব্যাখ্যা দিতে অভ্যস্ত; তাহারা ঘটনার কার্যকারণ অনুসন্ধানে আগ্রহী। তাহাতে রচনার পরিধি বাড়ে, লেখকের মননশীলতার স্বাক্ষর রচিত হয়। হুমায়ূন আহমেদ এই দায়িত্বটি পাঠকের জন্য নিরঙ্কুশভাবে সংরক্ষণ করিয়াছেন। ঘটনার নিবিড়-গভীর ময়নাতদন্তে না-গিয়া স্বল্প পরিসরে ঘটনাবহুল তাহার আখ্যান তৈরি করিয়াছেন। এইখানে জাপানের হারুকি মুরাকামি (জন্ম :১৯৪৯) তাহার সগোত্র।

পৃথিবীর রূপ বুঝাইতে গিয়া কোনো চিত্রশিল্পী রঙ-তুলি লইয়া পুরা পৃথিবীর ছবি আঁকিতে বসিয়া যান না; সহস্র দৃশ্যপট হইতে বাছাই করিয়া তিনি কয়েকটি দৃশ্যপট তৈরি করেন মাত্র। এইখানে তাহার বিবেচনাবোধ ফুটিয়া ওঠে। এই বিচারে হুমায়ূন আহমেদের বিবেচনাবোধ অসাধারণ বলিতে হইবে। উপন্যাসের আখ্যান নির্মাণে, ঘটনা নির্বাচনে, সংলাপ গঠনে তাহার দক্ষতা প্রশ্নোর্ধ্ব। বিভিন্ন ঘটনার পরিসর নিয়ন্ত্রণেও তাহার মনোযোগ সর্বদাই সযত্ন ও সতর্ক। ঘটনা গ্রহণ ও বর্জনে তিনি অসামান্য দক্ষতার প্রমাণ দিয়া তাহার রচনার কলেবর নির্মেদ রাখিতে সমর্থ হইয়াছেন।

পাঠক সম্যক জানেন- তাহার সাহিত্যে দর্শন আছে, দার্শনিকতা নাই। তাহার সাহিত্য কোনো বিশেষ বক্তব্য প্রতিষ্ঠার জন্য লিখিত হয় নাই। লেখকের বিশেষ কোনো দর্শনোপলব্ধিও পরিদৃষ্ট হয় না। কোনো বানোয়াট জীবনজিজ্ঞাসার ভারে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ভারাক্রান্ত নহে। এই লেখক কখনোই স্বীয় জীবনজিজ্ঞাসা বা স্বীয় দর্শনোপলব্ধিকে পাঠকের সম্মুখে প্রকটিত করেন নাই।

বাস্তবতার সহিত অসম্ভবের সন্ধি হুমায়ূন আহমদের প্রিয় কৌশল। যাহাকে আমরা 'জাদু বাস্তবতা' বলিতে অভ্যস্ত, হুমায়ূন আহমেদ তাহার দক্ষ কারিগর। তাহার বিভিন্ন গল্পে আমরা লক্ষ্য করি অসম্ভবের বহুবর্ণ উপস্থিতি। অতুলনীয় বিশ্বাসযোগ্যতা লইয়া হুমায়ূন আহমেদ বয়ান করিয়াছেন মানুষের অভিজ্ঞতা, কল্পনা, বিশ্বাস ও চিন্তার ভারসাম্যমণ্ডিত সংশ্নেষ। অতিলৌকিক ও অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাবলি এবং রহস্যের ঘেরাটোপে বন্দি ঘটনাও তাহার লেখনীতে বিশ্বাসযোগ্যতা লাভ করিয়াছে। পাঠকের স্বাভাবিক যুক্তিবোধ এই সকল ঘটনা অগ্রাহ্য করে নাই।

সর্বপ্রকার মানবচরিত্র ভূমিকা রাখিয়াছে তাহার গল্পের মানচিত্রে। ব্যাপক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সূক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও কল্পনাশক্তি যুক্ত হইবার ফলে তাহার চরিত্রগুলি হইয়াছে একই সঙ্গে কৌতূহলোদ্দীপক ও কৌতুকাবহ। এই প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য যে, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে এই লেখকের সম্পর্ক নির্বিরোধী। লেখকের রাজনীতি কার্যত শিল্পবিরোধী। চরিত্রচিত্রণে হুমায়ূন আহমেদ রাজনীতি করেন নাই; ফলে চরিত্রচিত্রণে তাহার নিঃসক্ত অবস্থান স্পষ্ট। তাহার রচনায় পাঁকের ছবি হইতে পদ্ম বাদ পড়িয়া যায় নাই। প্রতিহিংসাপরায়ণতা বা বিদ্বেষের চরিতার্থতায় তাহার কলম ব্যবহূত হয় নাই। হুমায়ূন আহমেদের গল্পে সকল চরিত্র সমান গুরুত্ব লাভ করে, যেমনটি আমরা মিলন কুণ্ডেরার উপন্যাসে সচরাচর প্রত্যক্ষ করিয়া থাকি।

সমাজ সংস্কার বা নৈতিকতার প্রচার সাহিত্যের কাজ কি-না- সেই প্রশ্ন শত শত বৎসর যাবৎ উত্থাপিত হইতেছে। কিন্তু বস্তুত মানুষ নানা প্রকার এবং একই সঙ্গে সততা ও শঠতাকে সমানভাবে ধারণ করিতে পারে। এই সত্য হুমায়ূন আহমেদ প্রশ্রয়ের সহিত গ্রহণ করিয়াছেন। চরিত্র নির্মাণে হুমায়ূন আহমেদ কখনও মানুষকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে পছন্দ করেন নাই; কে আসামি আর কে সাধু, তাহার সিদ্ধান্ত সর্বদাই পাঠকের এখতিয়ারে সংরক্ষণ করিয়াছেন।

৩.

'লীলাবতী' হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। সিদ্দিকুর রহমানের কন্যা লীলাবতী আজন্ম মামার বাড়িতে মানুষ হইয়াছে। সিদ্দিকুর রহমান নামের মানুষটা খারাপ ভয়ঙ্কর খারাপ- এই কথা জ্ঞান হওয়ার পর হইতে সে শুনিয়া আসিতেছে। এই মানুষটা তাহার প্রথম স্ত্রীকে ত্যাগ করিয়াছেন। অসহায় সেই স্ত্রী মনের দুঃখে ইহজগৎ ত্যাগ করিয়াছে। লোকটি কোনও দিন খোঁজ করেন নাই প্রথম স্ত্রীর ফুটফুটে একটা কন্যা সন্তান একা একা মামার বাড়িতে বড় হইতেছে। দুঃখে-কষ্টে তাহার দ্বিতীয় স্ত্রীরও মাথাখারাপ অবস্থা। চিকিৎসার পরিবর্তে তাহাকে ঘরে তালাবদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছে। লীলাবতী এখন বড় হইয়াছে; দূরসম্পর্কের মামাকে সঙ্গে লইয়া সে বাবাকে দেখিতে আসিয়াছে :

"সারা-রাত ঝড়-তুফানে গ্রাম লণ্ড-ভণ্ড। ফযরের আজানের অপেক্ষা করিতে করিতে ইজিচেয়ারে কাৎ হইয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছেন সিদ্দিকুর রহমান। তাহার ঘুম ভাঙিল আজানের কিছু পরে। তিনি চোখ মেলিয়া দেখিলেন অসম্ভব রূপবতী অপরিচিত একটি তরুণী তাহার দিকে তাকাইয়া আছে। তরুণীটির মুখ হাসি হাসি, চোখে বিস্ময়। তাহাকে চোখ মেলিতে দেখিয়া তরুণী তাহার দিকে ঝুঁকিয়া আসিয়া বলিল, 'বাবা আমি লীলা। লীলাবতী। আপনার কি শরীর খারাপ?' সিদ্দিকুর রহমান জবাব দিলেন না; মেয়ের দিকে তাকাইয়া রহিলেন। লীলাবতী অসঙ্কোচে তাহার বাবার বুকের উপর হাত রাখিল। সিদ্দিকুর রহমানের দুই চোখ দিয়া পানি পড়িতে শুরু করিল।"

এই উদাহরণটি উপস্থাপনের পশ্চাতে একটি কারণ রহিয়াছে। কথাসাহিত্যিকদের একটি প্রবণতা হইল নানা ফিকিরে-ফন্দিতে বয়ান দীর্ঘ করা। হুমায়ূন আহমেদ ইহার ব্যতিক্রম। দীর্ঘ রচনা হুমায়ূন আহমেদের ধাতে ছিল না। তাহার অধিকাংশ গ্রন্থই স্বল্পাবয়ব। ইহার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হইল স্বল্প পরিসরে চরিত্রচিত্রণের ক্ষমতা। ইনাইয়া-বিনাইয়া বর্ণনা তাহার রচনায় পাওয়া যায় না। ঝটিতে মাত্র কয়েকটি বাক্যে একটি মানুষের ছবি তিনি পরিপূর্ণভাবে ফুটাইয়া তুলিতে পারেন। পাঁচ-সাতটি মোক্ষম সংলাপে ফুটিয়া ওঠে এক-একজন মানুষের চারিত্রিক প্রবণতা। পৃথিবীতে আর কোনো লেখক এত স্বল্প পরিসরে একটি মানব-চরিত্র সুনির্দিষ্টভাবে নির্মাণ করিতে পারেন- এই রূপ উদাহরণ সহসা পরিদৃষ্ট হয় না। হুমায়ূন আহমেদ এই 'সংকোচনের কৌশল' আদ্যোপান্ত ব্যবহার করিয়াছেন। তিনি বর্ণনার পরিবর্তে চলচ্চিত্রের ন্যায় ঘটনার চিত্রায়ন করিয়াছেন। লীলাবতী বাবাকে ক্ষমা করিয়াছে- ইহা বুঝাইতে তিনি লিখিয়াছেন 'তরুণীটির মুখ হাসি হাসি, চোখে বিস্ময়।' হঠাৎ কন্যাকে দেখিয়া সিদ্দিকুর রহমান আনন্দে আত্মহারা হইয়া পড়িলেন- না লিখিয়া লিখিয়াছেন 'সিদ্দিকুর রহমানের দুই চোখ দিয়া পানি পড়িতে শুরু করিল।' কী কারণে লীলাবতী তাহার বাবাকে ক্ষমা করিল, আর কেনই-বা সিদ্দিকুর রহমান আনন্দে আত্মহারা হইলেন, ইহার ব্যাখ্যা না দিয়া হুমায়ূন আহমেদ নীরবতা অবলম্বন করিয়াছেন। এবম্বিধ সংযম তাহার 'সংকোচনের কৌশল'-এর চাবিকাঠি।

হুমায়ূন আহমেদের আলোচনায় আমরা তাহার প্রসিদ্ধ উপন্যাস 'মধ্যাহ্ন' লইয়া দুই-চারিটি বাক্য বিনিময়ে আগ্রহী। কারণ আমাদের বিশ্বাস, এই গ্রন্থ হুমায়ূন আহমেদেন অন্যতম প্রধান শিল্পকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত হইবে। শেক্‌সপিয়রের কথা উঠিলেই যেমন 'হ্যামলেট'; তলস্তয়ের কথা উঠিলেই যেমন 'আনা কারেনিনা' জেমস জয়েসের নামোত্থাপন হইলেই যেমন 'ইউলিসিস'-এর কথা স্মরণ হয়; হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস প্রসঙ্গে ভবিষ্যতে সর্বাগ্রে 'মধ্যাহ্ন'র কথা স্মরণে আসিবে বলিয়া আমদের দৃঢ় প্রতীতী। যাহারা হুমায়ূন আহমেদকে দীর্ঘ কাল দূরে ঠেলিয়া রাখিয়াছেন, তাহারা অনুগ্রহপূর্বক ক্ষমা-ঘেন্না করিয়া 'মধ্যাহ্ন' পাঠ করিবেন। কবি মাহবুব আজীজকে ঠিকানা দিলে আমি উপহার হিসাবে এক প্রস্থ বিলকুল পাঠাইয়া দিব।

'মধ্যাহ্ন' দূর অতীতের আবহে লালিত কিন্তু ইহা কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস নহে। অত্র উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের জন্ম-পূর্ববর্তী একটি বিশেষ কালখণ্ড পুনর্নির্মাণ করিয়াছেন। ইতিহাস ঝুলিয়া আছে সময় রেখার মতো, নিছকই মঞ্চের বাহিরে। ঐতিহাসিক পটভূমি নির্মাণের জন্য হুমায়ূন আহমেদ বাছিয়া লইয়াছেন বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের বাংলাদেশের নেত্রকোনা এলাকা। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে কাহিনী শুরু হইয়াছে বান্ধবপুর নিবাসী সফল ও সৎ ব্যবসায়ী হরিচরণ সাহাকে লইয়া, যিনি মুসলমান একটি বালককে আদর করার দোষে সমাজচ্যুত হইয়া পরবর্তীকালে ঋষিসুলভ জীবন বাছিয়া লন। অতঃপর একে-একে যুক্ত হইয়াছে এলাকার ব্রাহ্মণ অম্বিকা ভট্টাচার্য ঘটনাক্রমে মুসলমান হইতে বাধ্য হইলে যাহার নাম হয় সিরাজুল ইসলাম ঠাকুর; কাঠমিস্ত্রি সুলেমান; সুলেমানের রূপবতী জুলেখা তালাকের পর যে আশ্রয় নেয় বেশ্যাপল্লীতে, যদিও শেষাবধি কলকাতায় গিয়া সে চানবিবি নামে সুকণ্ঠী গায়িকা হিসাবে খ্যাতি অর্জন করে; সুলেমানের রূপবান পুত্র জহির; সোনাদিয়ার জমিদার বাবু শশাংক পাল; অন্যতম সমাজপতি ন্যায়রত্ন রামনিধি চট্টোপাধ্যায়; শাল্লার দশআনির মুসলমান জমিদার নেয়ামত হোসেন এবং তাহারই অর্থে নির্মিত জুম্মাঘরের ইমাম মাওলানা ইদরিস; সোনাগঞ্জ লঞ্চঘাটের টিকেটবাবু ধনু শেখ পরবর্তীতে যে লঞ্চের মালিক হইয়া বসে; হয় জমিদার এবং বিপ্লবী জীবনলালকে ধরাইয়া দিয়া লাভ করে ব্রিটিশরাজের দেয়া 'খানসাহেব' উপাধি; কলকাতা প্রবাসী মণিশংকর দেওয়ান; স্বদেশী-করা যুবক শশী ভট্টাচার্য যাহার প্রকৃত নাম কিরণ গোস্বামী এবং তাহার সতীর্থ জীবনলাল চট্টোপাধ্যায়; কবিরাজ সতীশ ভট্টাচার্যের কন্যা যমুনা ধর্ষণের কারণে সমাজপতিরা যাহাকে বেশ্যালয়ে আশ্রয় গ্রহণের বিধান দেন; অদূরবর্তী সোহাগগঞ্জ বাজারের রঙিলা নটিবাড়ির মালেকাইন সরযুবালা; মোহনগঞ্জের বরান্তর গ্রামের মসজিদের ইমাম এবং গায়ক আব্দুল হক যাহার ডাকনাম উকিল মুনসি ও তাহার নিঃসন্তান স্ত্রী 'লাবুসের মা'; মোহনগঞ্জের বাম গ্রামের বিদ্বান মানুষ শৈলজারঞ্জন মজুমদার এবং সর্বশেষ জোড়াসাঁকোর ব্রাহ্ম জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি গান লেখেন, গানে সুর দেন। অনুপস্থিত থাকিয়াও ভূমিকা রাখিয়াছে হরিচরণ সাহার কন্যা শিউলি; শৈশবে পুকুরে ডুবিয়া যাহার অপমৃত্যু হইয়াছিল। পাঠক জানেন, প্রতিটি চরিত্র স্ব-স্ব গুণে অনবদ্য আকর্ষণের অধিকারী।

হুমায়ূন আহমেদের অন্য সকল উপন্যাসের মতোই 'মধ্যাহ্ন' একটি বহুকেন্দ্রিক বিবরণী, যাহার মধ্যে লেখকের দৃষ্টি কেবল বিশেষ কয়েকজন মানুষ ও কয়েকটি ঘটনার উপর আলোকসম্পাত করিয়া একটি বিশেষ সময়ের সমাজের আকর্ষণীয় বিবরণী প্রণয়ন করিয়াছেন। কোনো বানোয়াট জীবনজিজ্ঞাসার ভারে মধ্যাহ্ন ভারাক্রান্ত হয় নাই। এই লেখক কখনোই স্বীয় জীবনজিজ্ঞাসাকে পাঠকের দরবারে প্রক্ষিপ্ত করেন না; স্বীয় দর্শনকে প্রকটিত করিবার জন্য সাহিত্যকে ব্যবহার করেন না। ইহার অর্থ এই রূপ নহে যে, 'মধ্যাহ্ন' একটি ঘটনাসর্বস্ব গল্পাবর্ত মাত্র। হরিচরণ সাহার ঋষিসুলভ চারিত্র্যের বিপরীতে জমিদার শশাংক পালের ভোগবাদিতা বা মাওলানা ইদরিসের নিস্কলুষ ব্যক্তিমানসের বিপরীতে ধুরন্ধর ধনু শেখের নির্লজ্জতা ও শঠতার বিবরণ পাঠকের মনে নানা প্রশ্নের ঘূর্ণিপাক তুলিয়া দেয়। তালাকের পর কাঠমিস্ত্রি সুলেমানের স্ত্রী জুলেখা বাপের বাড়ি না যাইয়া বারবণিতার জীবন বাছিয়া নেয়। তাহার এই কঠিন অথচ অকাতর সিদ্ধান্ত পাঠককে ভাবিত করে; মানব-মনের জটিল ও রহস্যময় দিকের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে। হুমায়ূন আহমেদ এইভাবে বিনোদনের সুযোগ বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না করিয়া জীবনের নানা প্রশ্ন নিরুত্তর উত্থাপন করিয়াছেন। আমরা দেখি, জাপানি ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামিও এই পথে অগ্রসর হইয়াছেন।
এক আসনেই আ'লীগের ৫২ মনোনয়নপ্রত্যাশী

এক আসনেই আ'লীগের ৫২ মনোনয়নপ্রত্যাশী

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য এক আসনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর ...

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস মার্কেটে, আহত ২০

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস মার্কেটে, আহত ২০

সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী পোর্টলিংকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস রাস্তার ...

ছাড়পত্র পাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে

ছাড়পত্র পাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা ...

১০ বছর পর উৎসবমুখর নয়াপল্টন

১০ বছর পর উৎসবমুখর নয়াপল্টন

প্রায় দশ বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ...

সাক্ষাৎকার নয় দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

সাক্ষাৎকার নয় দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে না। তবে তাদের ...

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

'হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ আছেন। যারা তার সাহচর্য পেয়েছিলেন, ...

আসন হারানোর শঙ্কায় জাপা

আসন হারানোর শঙ্কায় জাপা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের কাছে ...

জামায়াতও ৩৫ আসনের কমে মানতে নারাজ

জামায়াতও ৩৫ আসনের কমে মানতে নারাজ

নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় পরিচয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই ...