একটি সাজানো বাগান

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০১৮      

রুমান হাফিজ

পুরো নাম আনিসা তাসনিয়া কারিমা। আনিসা নামেই যিনি সবার কাছে পরিচিত।

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় জন্ম নেওয়া আনিসা সিলেট শহরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

লেখাপড়ায় সব সময়ই ভালো থাকা আনিসাকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরপরই শহরের একটা স্কুল থেকে চাকরির অফার আসে। আনিসা যোগ দেন সেই স্কুলে। পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাচ্ছেন। চাকরি, পড়াশোনার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার চিন্তাভাবনা আনিসাকে তাড়িত করত। দেশ, মা, মাটির জন্য কিছু করার ইচ্ছা সব সময় তার চিন্তার জগতে ঘুরপাক খেত। স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে সেই জায়গা থেকে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি জড়িত হন সিলেট শহরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'আলোকিত পাঠশালা'য়।

'আলোকিত পাঠশালার' একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সর্বোচ্চ সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন আনিসা। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে পড়াতে তার খুব ভালো লাগে। খুব বেশিদিন লাগেনি, আনিসা এই সংগঠনের বিশেষ একজন হয়ে ওঠেন।

শিশুদের নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের যে কোনো সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

আলোকিত পাঠশালায় পড়ছে এমন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা একশ' জনের কাছাকাছি। তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে নানাবিধ আয়োজন, বেড়ানো, ঈদ উপলক্ষে নতুন কাপড়চোপড়, মেয়েশিশুদের মেহদি পরানোসহ শিক্ষামূলক নানারকম আয়োজন করা হচ্ছে।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আনিসা এ বছর সেরা ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

খুশির মুহূর্তটা আনিসার অনুভূতিকে যেন আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে।

'আমি ওখানে কিছু পাওয়ার জন্য কাজ করিনি, শুধু নিজের জায়গা থেকে যেটুকু পারি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই সংগঠন আমাকে ঋণী করে ফেলল। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, বিনয়ের অন্ত নেই। দায়িত্ব বেড়ে গেল। এখন থেকে আরও বেশি কাজ করতে চাই।'

চঞ্চল আনিসা সিলেট সাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও জড়িত।

তাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাইডে অংশগ্রহণ করেন। সাইক্লিংয়ে অভিজ্ঞ আনিসা নিজের সব প্রয়োজনে ব্যবহার করেন দুই চাকার বাহন। যেমন চাকরি, নিজের কলেজ কিংবা আলোকিত পাঠশালার স্কুল- সবখানেই সাইকেল নিয়ে যাতায়াত।

নারী হিসেবে সাইকেল চালানোতে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা আছে কি-না জানতে চাইলে আনিসা বলেন, 'প্রতিবন্ধকতা যে একেবারে নেই, তা নয়। পরিবার, সমাজ সব জায়গাতেই আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু আমি ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরে যেতে রাজি হইনি। নিজের মতো চলতে চাই, বাঁচতে চাই। এখন কে কী বলল এসবে আমার কিছুই যায় আসে না।

চাকরি, নিজের পড়াশোনা, বাচ্চাদের পড়ানো, পাশাপাশি সাইক্লিং এসব কীভাবে পারেন? প্রশ্নের উত্তরে আনিসা অনেকক্ষণ হেসে বললেন, কীভাবে পারি সেই চিন্তা কখনও মাথায় আসেনি। আর না আসাটাই ভালো! তবে কাজের মাঝে নিজেকে সবসময় রাখাতেই আমি সুখ খুঁজে পাই। একদম বিরক্তিবোধ হয় না। অসুস্থ কিংবা অন্য কোনো কারণে কাজ থেকে বিরত থাকার সময়টা যেন আমার কোনোভাবেই কাটতে চায় না।

পরবর্তী খবর পড়ুন : প্রকৃত মানুষ হই

ইলিশ উৎপাদন এ বছর ৫ লাখ টন ছাড়াবে

ইলিশ উৎপাদন এ বছর ৫ লাখ টন ছাড়াবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেছেন, চলতি বছর ইলিশের ...

গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হেফাজত নেতা

গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হেফাজত নেতা

ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভা সদরে এহসান সোসাইটি নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ...

সরকারি হলো আরও ৪৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সরকারি হলো আরও ৪৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

দেশের বিভিন্ন উপজেলার আরও ৪৩টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা ...

বাংলা ভাষা ও বই কখনও অস্তমিত হবে না, লন্ডন বইমেলায় বক্তারা

বাংলা ভাষা ও বই কখনও অস্তমিত হবে না, লন্ডন বইমেলায় বক্তারা

যা শোভাবর্ধন করে তাকেই বলা হয় অলংকার। শরীরকে চাকচিক্যময় রাখতে ...

কালাইয়ে সমকাল প্রতিনিধির ওপর হামলা

কালাইয়ে সমকাল প্রতিনিধির ওপর হামলা

দৈনিক সমকালের জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলা প্রতিনিধি শাহারুল আলমের ওপর ...

অবশেষে প্রেমের জয়

অবশেষে প্রেমের জয়

গত কয়েক দিনের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জয় হলো ...

জয়টা জীবনের সেরা মুহূর্ত: মুস্তাফিজ

জয়টা জীবনের সেরা মুহূর্ত: মুস্তাফিজ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে 'সুপার ওভারের' মতো ...

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ডিএসসিসি

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ডিএসসিসি

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়েছে ঢাকা ...