চাপমুক্ত সুন্দর জীবন

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০১৮      

শরীফুল শাওন

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে জীবনের ভোঁ দৌড়। সন্তানকে সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোল রে। তাকে তৈরি করে স্কুলে পাঠাওরে। সেই সঙ্গে আছে নিত্য টিফিন দেওয়ার ঝক্কি। তাকে স্কুলে পৌঁছে টেবিলে নাশতা। পরিবারের সবার সারাদিনের খাবারে মেন্যু ঠিক করা। আর কর্মজীবী নারী হলে তো কথাই নেই। কিছু কিছু কাজ ঠিক করে রাখতে হয় আগের দিন রাতেই। কর্মজীবী নারীকে যেমন দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হয় কর্মক্ষেত্রে, তেমনি বাড়ির পান থেকে চুন সবকিছুর খবর তারই রাখতে হয়। আর কর্মজীবী না হলেও গৃহিণী নারীরও ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে দৌড়েই চলতে হয়। এই যে সংসারের এত কিছু। এত দেখভাল। পরিবারের সবার দেখভাল এবং সংসারের নিত্য ঝামেলায় নারী অজান্তে কখন স্ট্রেসের মুখোমুখি হন, তিনি নিজেও বুঝে উঠতে পারেন না।

দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে মানসিক চাপমুক্ত থাকা যায় এবং কীভাবে জীবনকে সুন্দরের পথে চালানো যায়, তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারাহ দীবা। তিনি জানান, অনেকে বুঝে উঠতে পারেন না তিনি আসলে কী চান। কী পেলে জীবনটা ঠিকঠাক চলে। সব কিছুর পেছনে না ছুটে সঠিক লাইফস্টাইল নির্বাচন করা। এখনকার পুরুষ-মহিলারা 'সব চাই আরও চাই' করতে গিয়ে ঘরে-বাইরের ব্যালান্স হারিয়ে ফেলছে। এতে ডিপ্রেশনের আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। যদি আপনাকে বেশি কাজ করতে হয়, তবে নিজের জীবনযাত্রাকে একটা নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। তাতে মন ও শরীর সুস্থ থাকবে। কোয়ালিটি টাইমটা ভালো কাজে ব্যয় করা যাবে।

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা থেকে বাঁচতে হলে একটা সময় ব্যবস্থাপনা করতে হবে। মানসিক চাপের শিকার হলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়-

-ওজন বেড়ে যায়, কারণ তখন খাওয়া বাড়ে।

- হরমোন ডিসব্যালান্স হয়ে যায়।
 
-মানসিক চাপে ত্বক খারাপ- যেমন কালো ও শুস্ক হয়ে যায়, ব্রণ হয়। সোরাইসিস, রোসিয়া, একজিমা, ফেস ড্যামেজ হয়, অ্যালার্জি বেড়ে যায়। ত্বক প্রাণহীন ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।

মানসিক চাপ থেকে অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হন। তবে সফল ব্যক্তিরা এ চাপ মোকাবেলা করেই কাজ করে যান এবং সফলতা ছিনিয়ে আনেন। রইল তেমনই কিছু পরামর্শ-

সন্তুষ্টিময় জীবন : অসন্তুষ্টি থেকে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। তাই সফল ব্যক্তিরা এ থেকে দূরে থাকেন। তারা নিজের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন। এটি কর্টিসল নামে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে রাখে। ফলে মানসিক চাপও কমে।

জীবনে 'যদি' না থাকুক : 'যদি বিষয়টা এমন হতো, তাহলে কেমন হতো...' ধরনের প্রশ্ন কোনো সমাধান আনে না। বাস্তবতাকে মেনে নিতে সমস্যা করে এমন প্রশ্ন। তাই এ ধরনের প্রশ্ন সফলরা এড়িয়ে চলেন।

সব সময় ইতিবাচক : ইতিবাচকতা মস্তিস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানসিক চাপমুক্ত রাখে এবং সফল হতে সহায়তা করে। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে তৈরি হতে পারে নেতিবাচক আত্মকথন। এতে মানসিক চাপ আগের তুলনায় আরও বেড়ে যেতে পারে। আর এ সমস্যা দূর করার জন্য সফল ব্যক্তিরা নেতিবাচক আত্মকথন বাদ দেন। কোনো পর্যায়ে মানসিক চাপের সৃষ্টি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে সফল ব্যক্তিরা 'বিচ্ছিন্নতা' তৈরি করেন। ফলে মানসিক চাপের অনেক বিষয় তাদের স্পর্শ করতে পারে না।

ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ : চা কিংবা কফির মতো পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন মানসিক চাপ অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। এ পানীয় নিয়ন্ত্রণ করলে তা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। আর ঘুম মানসিক স্বস্তি দেয় এবং চিন্তাভাবনা পরিস্কার করে। পর্যাপ্ত ঘুমালে মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি ঠাণ্ডা মাথায় বড় কোনো সমস্যার সমাধান করাও সহজ হয়।

কারণ খুঁজে বের করা : কী কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে চিন্তাভাবনা করা অনেক সময় চাপ কমাতে সহায়তা করে। এ কাজটি সফল ব্যক্তিরা অহরহ করে থাকেন মানসিক চাপ উপশম করতে। সঠিক উপায়ে বড় করে শ্বাস নিয়ে মানসিক চাপ কমানো যায়। এ অনুশীলন করে অনেকেই মানসিক চাপ কমাতে সক্ষম হন। এ ছাড়া যে কোনো ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়া শুরু করলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'দুশ্চিন্তা কি আমাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারবে?' বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রশ্নের উত্তর 'না'। প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বড় করে শ্বাস নিলেই একটু ফুরফুরে লাগতে থাকবে!

আবার স্ট্রেসগুলোকে চমৎকার একটা ছকে বেঁধে ফেলুন। অফিসের কাজটাকে অফিসেই করে, কাজের চিন্তাটুকু সেখানেই রেখে দিয়ে আসুন। কাজ যদি শেষ নাও হয়, বাসায় বসে দুশ্চিন্তা করে যেহেতু আমার কোনো উপকার হবেনা (প্রথম প্রশ্ন!), তাই সেটা নিয়ে না ভাবা। বাসায় আয়েশ করে এক কাপ চা নিয়ে সবার সঙ্গে গল্প করতে থাকলেই স্ট্রেস কমে যাওয়া শুরু করবে, পরদিন চট করে বাকিটুকু শেষ করে ফেলুন। দৈনন্দিন কাজের মাঝে 'করতে ভালোবাসি' এমন সময়টা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। সপ্তাহে একবার অন্তত পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, সন্ধ্যার পরে পার্কে দৌড়ানো, সকালে সাইকেলটা নিয়ে একটা চক্কর। খুব কাজের চাপ আর স্ট্রেসফুল সময়েও 'শুক্রবারে সবার সঙ্গে আড্ডা হবে' ভাবনাগুলোর সঙ্গে আনন্দ বের করুন!

আসলে জীবন অনেকটা আমার এই পথচলাতেই আনন্দের মতো। প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি ঘটনায় আপনি যদি ইতিবাচক কিছু দেখেন তাহলে দেখবেন স্ট্রেস কপুরের মতো উবে যাচ্ছে। আপনি যে কাজই করছেন না কেন, তা আনন্দের সঙ্গে করুন। সমাপ্ত করে নিজেকে পুরস্কৃত করুন, দেখবেন জীবন আসলেই সুন্দর।

পরবর্তী খবর পড়ুন : বই দেওয়া নেওয়া

বিজ্ঞাপনে বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে: বিএনপি

বিজ্ঞাপনে বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে: বিএনপি

ভোটের মৌসুমে টেলিভিশনে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ...

বিমানে আরেকটি ড্রিমলাইনার যুক্ত হচ্ছে পহেলা ডিসেম্বর

বিমানে আরেকটি ড্রিমলাইনার যুক্ত হচ্ছে পহেলা ডিসেম্বর

দিন দিন বড় হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আকাশপথ। বিমানের বহরে ...

সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে: খালেদা

সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে: খালেদা

আদালতকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খলেদা জিয়া বলেছেন, একদল নির্বাচন ...

ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৩২ জন

ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৩২ জন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হয়ে অংশগ্রহণের ...

পাবনায় দুই বাসের প্রতিযোগিতায় নিহত ২

পাবনায় দুই বাসের প্রতিযোগিতায় নিহত ২

পাবনার সাঁথিয়ায় দুই বাসের প্রতিযোগিতাকালে একটি অটোভ্যানকে চাপা দেয় একটি ...

বিএনপির চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি: নাসিম

বিএনপির চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি: নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে ...

ঢাবিতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন

ঢাবিতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বোধন ...

হেলমেটধারী এজেন্টরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে: রিজভী

হেলমেটধারী এজেন্টরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে: রিজভী

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়িতে হেলমেটধারী এজেন্টরা আগুন লাগিয়েছে ...