বাসযোগ্য হোক পৃথিবী

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

হিমেল আহমেদ

মা-বাবা হওয়াটা যেমন সৌভাগ্যের, ঠিক তেমনি খুব কষ্টেরও বটে। একজন মা কিংবা বাবা উভয়ে সন্তান লালন-পালনে কত যে কষ্ট আর ত্যাগের শিকার হন সে বিষয়ে আমরা সন্তানরা বড় হয়ে ভুলে যাই। উপলব্ধি হয় তখন, যখন আমরা নিজেরাই সন্তানের মা-বাবা হই। সন্তান লালন-পালনটাও বিরাট এক দায়িত্ব। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু অসচেতন মা-বাবার কারণে তাদের সন্তান ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াটা জরুরি। আমি যখন টিউশনি করাতাম তখনকার একটি ঘটনা বলি। ক্লাস থ্রির একটি ছেলেকে বাসায় গিয়ে পড়াতাম আমি। প্রায় দিন এমন ঘটনা ঘটত যে, শিশুটির বাবা সিগারেট জ্বালানো অবস্থায় ঘরে ঢুকে পড়তেন। সিগারেট টানতেন আর বাচ্চার পড়াশোনার ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা বলতেন। আমি নিজেই খুব বিব্রতবোধ করতাম। কিন্তু কিছু বলতে পারতাম না। একদিন আমার শিশু ছাত্রটি প্রশ্ন করেই বসল আমাকে, তার বাবা ওইটা কী খায়? ধোঁয়া আর গন্ধ কেন হয়? আমিও খাব! আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কী উত্তর দেব ছোট্ট এই শিশুকে? তার প্যারেন্টসের অসচেতনতার কারণে ছোট্ট শিশুটির মস্তিস্ক কৌতূহলী হয়ে পড়ছে। তার বাবা সিগারেট খায় বলে সেও সিগারেট খেতে আগ্রহী হচ্ছে। একদিন দেখলাম শিশুটি সিগারেটের একটি প্যাকেট নিয়ে খেলছে। এই দৃশ্যপট মোটেও কাম্য ছিল না আমার কাছে। বাবার অনুকরণ করতে গিয়ে ক্লাস থ্রিতে পড়া শিশুটিও সিগারেটের নেশায় আসক্ত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে দিন দিন কিশোর মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছেই। দেশে জরিপ অনুযায়ী মাদকাসক্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় চার-পাঁচ লাখ। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্র মতে, ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, মাদকাসক্ত শিশু ও কিশোররা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। মাদকের বিষাক্ত নিকোটিনের কারণে তাদের কোষগুলো দুর্বল হতে থাকে। এতে তার শরীর থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মধ্য বয়সে বিকলাঙ্গও হয়ে যেতে পারে। ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে ৮০ ভাগ। এ ছাড়াও দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়া, টাকা চুরির প্রবণতা বাড়া, পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়া, কর্মের শক্তি কমে যাওয়া, ঝগড়াপ্রবণ হওয়া, পরিবারের কথা না শোনা, ওজন কমে যাওয়া, খাওয়ায় অরুচিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আপনার সন্তান যেন মাদকাসক্ত হয়ে না পড়ে এই দায়িত্ব কিন্তু অভিভাবকের। শিশুসন্তান তার আশপাশের পরিবেশে যা ঘটে তাই শেখে। বড়রা যা করবে ছোটরা তাই শিখবে। তাই এই বিষয়ে সজাগ ও সচেতন হতে হবে সব অভিভাবককে।

পরবর্তী খবর পড়ুন : কৈশোরে বন্ধু পরিবার

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে ...

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

ড্রেসিংরুম থেকেই জরুরি তলব ঢাকায়-ওপেনিংয়ে কিছুই হচ্ছে না। সৌম্য সরকারকে ...

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ...

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পি ও নবাগতা অধরা খান জুটির ...

সোনাহাট স্থলবন্দরে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

সোনাহাট স্থলবন্দরে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ...

পাকিস্তানকে ভালো লক্ষ্য দিল আফগানরা

পাকিস্তানকে ভালো লক্ষ্য দিল আফগানরা

এশিয়া কাপে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আফগানিস্তান। ভালো রান সংগ্রহ ...

চার জাতির টুর্নামেন্টে দর্শক মেসি

চার জাতির টুর্নামেন্টে দর্শক মেসি

আগামী মাসে সৌদি আরবে চার জাতির একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ...

নির্বাচনের আগে সিনহা অপপ্রচারে উসকানি না দিলেও পারতেন: কাদের

নির্বাচনের আগে সিনহা অপপ্রচারে উসকানি না দিলেও পারতেন: কাদের

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নির্বাচনের আগে বই প্রকাশ ...