প্রচ্ছদ

পঞ্চমীর চাঁদ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮      
কথার জাদুকর। আড্ডার আসর জমিয়ে রাখতে পূর্ণিমা অদ্বিতীয়া। 'এবং পূর্ণিমা' অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করার পর এমন কথাই শোনা যাচ্ছে তাকে নিয়ে। উপস্থাপনা ছাড়াও বিজ্ঞাপনের মডেল এবং নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করে অনেকের মনোযোগ কেড়েছেন। কিন্তু কোনো কিছুই তার চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর পরিচয়কে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। অথচ নন্দিত এই অভিনেত্রীকে অনেক দিন দেখা যায়নি বড়পর্দায়। চলচ্চিত্রে নতুন করে ফেরা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

আড্ডাবাজি এতদিন বিএফডিসির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্যারোডি গান, নামি শিল্পীদের অনুকরণ করে ডায়ালগ বলা- এ সবের মধ্য দিয়ে আসর জমজমাট রাখতেন পূর্ণিমা। 'কপিক্যাট' নয়, 'প্যারোডি মাস্টার' বলা হতো তাকে। কিন্তু এই কাজটাই যে কোনো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে করতে হবে- তা ভাবেননি পূর্ণিমা নিজেও। কিন্তু শেষমেশ আয়োজকদের অনুরোধে সেটাও করতে হয়েছে। উপস্থাপনার ফাঁকে জনপ্রিয় শিল্পীদের অনুকরণে পূর্ণিমার অভিনয়েও মুগ্ধ হয়েছেন অগণিত দর্শক। তাদের প্রিয় উপস্থাপকের তালিকায়ও উঠে গেছে পূর্ণিমার নাম। সবশেষে তার নামানুসারে নির্মাণ করা হয়েছে সেলিব্রিটি আড্ডার অনুষ্ঠান 'এবং পূর্ণিমা'। নন্দিত এই অভিনেত্রীর কাছে তাই জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিএফডিসি থেকে আড্ডার আসর টিভিপর্দা পর্যন্ত পৌঁছাবে এটা কখনও কল্পনা করেছিলেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, 'আসলেই ভাবিনি স্বনামে কোনো টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার সুযোগ পাব। তাই উপস্থাপনার প্রস্তাব পাওয়ার পর অনেক ভাবতে হয়েছে কীভাবে কাজটা করব। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমাদের তো বিভিন্ন সময়ে নানা চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। সাংবাদিক, ডাক্তার কখনও আবার উকিলের। উপস্থাপনার বিষয়টিকেও সেভাবেই নিয়েছি। আমি ধরে নিয়েছি এটা অভিনয়ের একটা অংশ। আর প্রস্তুতি বলতে পারেন বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখেই নিয়েছি। আমাদের দেশের যারা স্ব্বনামধন্য উপস্থাপক আছেন তাদের কাজ দেখেছি। এ ছাড়াও দেশের বাইরে কফি উইথ করণসহ বেশকিছু টিভি শো দেখেছি। ভালো একটা প্রস্তুতি নিয়েই উপস্থাপনা শুরু করেছি এবং কাজটা করতেও ভালো লাগছে।' ভালো লাগার কথা জানা হলো পূর্ণিমার কাছে। কিন্তু তার এ আয়োজন নিয়ে দর্শক কে কী বলছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোনো আয়োজনে ভালোমন্দ দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া থাকে। 'এবং পূর্ণিমা' অনুষ্ঠানটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে দর্শকের অনেক সাড়া পেয়েছি- এটাই বড় প্রাপ্তি। কারণ এর বেশি কোনো প্রত্যাশাও ছিল না।'

উপস্থাপনা নিয়ে পূর্ণিমার যেটুকু প্রত্যাশা ছিল, তার অনেকটা পূরণ হয়েছে। এই অভিনেত্রীর কথায় সেটাই স্পষ্ট। কিন্তু অভিনয়ের চেয়ে উপস্থাপনায় তার ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেকে জানতে চাইছেন, অভিনয়ের চেয়ে উপস্থাপনাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কি-না? যদি তা না হয়, তাহলে বড়পর্দায় আবার কবে তাকে দেখা যাবে? পূর্ণিমা বলেন, 'এই প্রশ্নের মুখোমুখি কতবার যে হতে হয়েছে, তার সঠিক হিসাব নিজেও জানি না। আপনাকে কবে বড়পর্দায় দেখা যাবে? এই প্রশ্ন কেউ না কেউ করবে- অভিনয়ে বিরতি নেওয়ার সময় থেকেই তা জানতাম। যদিও মাঝে টিভি নাটকে অভিনয় করেছি, ক'দিন আগে 'টু বি কন্টিনিউড' ছবিটাও মুক্তি পেয়েছে, তারপরও এই প্রশ্নের হাত থেকে রেহাই পাইনি। যেজন্য ভক্তদের আশ্বাস দিতে হয়েছে- একটু দেরিতে হলেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। নিজেই সেটা চাই। যেজন্য আপনাদেরও বলছি, 'একটু দেরিতে হলেও সিনেমায় অভিনয় করব। জানি ছয় বছর দীর্ঘ সময়, কিন্তু এতদিন কেন কোনো ছবিতে অভিনয় করিনি, সেটাও তো দেখতে হবে। ভক্তদের তাই বলি, আপনারা যে অভিনেত্রী পূর্ণিমাকে ভালোবাসেন, তাকে কি গৎবাঁধা গল্প, ছবি বা চরিত্রে দেখতে চান, নাকি তার কাছে ভিন্ন ধরনের কিছু আশা করেন? আমার অনুমান যদি ভুল না হলে, তাহলে প্রশ্নের উত্তরে ভক্তরা অবশ্যই এ কথাই বলবেন যে, হ্যাঁ, তারা আমাকে সেইসব ছবিতেই দেখতে চান, যা ভিন্ন আঙ্গিকের। আমিও এটা চাই। কিন্তু স্পেশাল কিছু করার নীতি-নির্ধারক তো আমি একা নই। কারণ সিনেমা একটা টিমওয়ার্ক। অনেকের সমন্বয়ে ভালো কিছু সম্ভব। ভালো কাজের প্রতিটি দিক নিশ্চিত হলেই তো কাজ করা যায়। তা যতদিন না হচ্ছে, ততদিন পর্দায় নিজেকে তুলে ধরতে না পারলেও দুঃখ নেই। হোক না আরেকটু দেরি, তবু যে কাজটি করব তা দেখে যেন দর্শক বলে, হ্যাঁ, এমন কিছুর প্রতীক্ষাতেই আমরা ছিলাম।' পূর্ণিমার মুখে এ কথা শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দুই দশকের অভিনয় ক্যারিয়ার যার তিনি এমন কিছু ভাবতেই পারেন। তাছাড়া কাজের বিষয়ে পূর্ণিমা কতটা সচেতন সে প্রমাণ মিলবে তার অভিনীত 'সুভা', 'মনের মাঝে তুমি', 'লাল দরিয়া', 'মেঘের পরে মেঘ', 'হৃদয়ের কথা', 'আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা', 'মাটির ঠিকানা', 'ওরা আমাকে মানুষ হতে দিল না','শাস্তি', 'টাকা', 'জীবনের চেয়ে দামী','মেঘলা আকাশ', 'মায়ের জন্য পাগল', 'পরাণ যায় জ্বলিয়া রে'সহ অন্যান্য ছবিগুলো দেখলে। শুধু চলচ্চিত্র নয়- নাটক, টেলিছবির ক্ষেত্রেও তিনি বাছ-বিচার করে কাজ করেন। যে কারণে 'ল্যাবরেটরি' থেকে শুরু করে 'ঐখানে যেও নাকো তুমি', 'নীলিমার প্রান্তে দাঁড়িয়ে', 'প্রেম অথবা দুঃস্বপ্নের রাতদিন', 'লাভ অ্যান্ড কোং', 'উল্টোধনুক', 'ফিরে যাওয়া হলো না'সহ সর্বশেষ 'কুইন' ও 'হ্যালো ৯১১ লাভ ইমার্জেন্সি' নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকের প্রশংসা। দুই দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এ কারণেই পূর্ণিমাকে যারা অনেক দিন বড়পর্দায় দেখেননি, তাদের নতুন ছবিতে পূর্ণিমাকে দেখার আকুলতা ক্রমেই বেড়ে চলছে। এ কারণে পূর্ণিমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল চলচ্চিত্রে অভিনয় যার ধ্যান-জ্ঞান ছিল, সে এখন বড়পর্দায় নেই- এই ভাবনা কখনও মনে কষ্ট দেয় কি? এর উত্তরে পূর্ণিমা বলেন, 'কিছুটা তো খারাপ লাগেই। তারপরও বাস্তবতা মেনে নিয়েছি। আমি যখন নায়িকা হিসেবে শীর্ষে ছিলাম, তখনও জানতাম, এই অবস্থান চিরস্থায়ী নয়। নতুনরা আসবে, আমাকে আমার জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। আমার আগে যারা শীর্ষে ছিলেন, তাদেরও এই কাজ করতে হয়েছে। এজন্য নিজের জায়গা ছাড়তে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। তারপরও ভালো লাগা এটাই যে, আমাদের সময়ে অনেক ভালো ছবি নির্মিত হয়েছে। দর্শক আজও মনে রেখেছেন, এমন বেশকিছু ছবিতে অভিনয়ের সুযোগও হয়েছে। অভিনয় ক্যারিয়ারে এমন সুযোগ অনেকেই পাননি। নিজেকে তাই সৌভাগ্যবান বলেই মনে করি। এজন্য বিরতি নিলেও অভিনয় থেকে চিরতরে সরে যাইনি।' পূর্ণিমার কথা ভক্তরা আশ্বস্ত হতেই পারেন, তিনি আবারও ভিন্ন কোনো চরিত্রে পর্দায় নিজেকে তুলে ধরবেন। আগের মতো প্রতি বছর তার একাধিক ছবি মুক্তি না পেলেও তাকে সেইসব ছবিতে দেখা যাবে, যা দর্শকের মনে আঁচড় কাটবে। নাটক, টেলিছবিতে অভিনয়ের বিষয়েও তার পরিকল্পনা একই রকম। গল্প, চরিত্র, নির্মাতা- এ বিষয়গুলো পছন্দসই হলেই তিনি কাজ করবেন। তার কথায়, 'বড়পর্দা বা ছোটপর্দা যেটাই হোক দর্শক ভালো কাজটিই মনে রাখেন। অভিনয় কেমন হলো, চরিত্রের গভীরতা ছিল কি-না, গল্পে ভিন্নতার ছাপ আছে কি-না- এই প্রশ্নগুলোই দর্শকের কাছে বড় হয়ে দাঁড়ায়। অভিনয়ে তাই গৎবাঁধা কাজ করতে চাই না।' পূর্ণিমার এ কথায় জানা গেল, অভিনয়ের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির কথা। শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, উপস্থাপক ও মডেল হিসেবেও সেই কাজটাই তিনি করতে চান, যা দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখবে। তার কথায়, সময় আঙুলের ফাঁক গলে কখন বেরিয়ে যায় বোঝা যায় না। আজ পেছন ফিরে দেখি, অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কীভাবে যেন দুই দশক পেরিয়ে গেছে। এ কারণে সময়ের অপচয় হবে না- এমন কিছু করার ইচ্ছা। এক কথায়, ভালো কাজের মধ্য দিয়েই শিল্পী সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।'

পরবর্তী খবর পড়ুন : হিসাববিজ্ঞান

ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ...

বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার সিদ্ধান্তে এখনও ...

সর্বত্রই নৌকা, ধানের শীষের দেখা নেই

সর্বত্রই নৌকা, ধানের শীষের দেখা নেই

ভোরে ট্রেন থেকে নেমে রাজশাহীর পরিপাটি স্টেশন চত্বরে পা রেখেই ...

কাউন্সিলর পদেও 'দলীয় প্রতীক'

কাউন্সিলর পদেও 'দলীয় প্রতীক'

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের মাঠে ক্রমে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সময় ...

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

গোলের খেলা ফুটবল। গোল না হলে কেমন যেন পানসে মনে ...

ক্রোয়েশিয়ার কান্না বৃষ্টি হয়ে নামল

ক্রোয়েশিয়ার কান্না বৃষ্টি হয়ে নামল

‘আমরা কাঁদছি কোথায়। এ তো কেবল বৃষ্টির ঝটকা।’ ম্যাচ শেষে ...

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপ্পে

এমবাপ্পেকে উদীয়মান তারকা বলা হয়তো ঠিক হবে না। বিশ্বকাপের আগেই ...

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার মডরিচ

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার মডরিচ

ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার বড় অবদার লুকা মডরিচের। ফাইনালেও ক্রোয়েশিয়া ...