মেঘবতী মেঘকুমারী

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮      
মেঘবতী মেঘকুমারী

মেহজাবিন চৌধুরী

এই সময়ে টেলিভিশন নাটকের অন্যতম আলোচিত নাম মেহজাবিন চৌধুরী। একের পর এক মানসম্পন্ন নাটকে অভিনয় করে তিনি জয় করে চলেছেন লাখো দর্শকের হৃদয়। পরিপাটি আর আত্মবিশ্বাসী এই মেয়েটি অভিনয় আর মডেলিং দুই অঙ্গনেই সমান ব্যস্ত। তাকে নিয়ে লিখেছেন সমু সাহা

কতটুকু পথ পাড়ি দিলে তবে শেষের দেখা মেলে? স্বপ্নবাজ মানুষ অবশ্য এসব কথা আমলেই নিতে চান না। স্বপ্নপূরণের নিমিত্তে চলে তাদের নিত্য ছুটে চলা। যাবতীয় প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশকে তাই পেছনে ফেলে শুরু করেন এক একটি নতুন সকাল। তেমনই একজন স্বপ্নবাজ মেহজাবিন। জোছনালোকিত শুভ্র চাঁদও যার রূপের জাদুতে ঈর্ষাকাতুর হয়। শুধুই কি মোহনীয় লাবণ্যের প্রতিচ্ছবি? বরং বলা যায় জেদ, সৌন্দর্য আর পরিশ্রমকে বেঁধেছেন বিনি সুতোর মালায়। এই তিন অনুষঙ্গের মেলবন্ধনে কী হতে পারে, সেটা তো ২০০৯ সালেই দেখেছেন সবাই। ওই বছর ১০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে হয়ে যান লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার! প্রায় ১০ বছর ক্যারিয়ারে মধুর সময় পার করা অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। যে কোনো উৎসব আয়োজনে ছোট পর্দায় নির্মাতাদের প্রিয়মুখ তিনি। আর কেনই বা হবেন না, একের পর এক হিট নাটক উপহার দিয়ে নির্মাতাদের দিচ্ছেন আস্থার প্রতিদান। মেহজাবিন বলেন, 'দর্শকের ভালোবাসা আমাকে ভালো নাটক কিংবা টেলিছবিতে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করে দিয়েছে। শুধু শুধু টিভি পর্দায় মুখ দেখিয়ে লাভ নেই। ঈদে কতটি নাটকে অভিনয় করেছি, এটা আমার কাছে মুখ্য নয়। কিন্তু কতটি ভালো নাটকে অভিনয় করেছি সেটাই মুখ্য। এ নিরিখেই এবার ঈদ উৎসবের কাজগুলো করেছি। এখন স্ট্ক্রিপ্ট যাচাই-বাছাইয়ে আমি বেশ সতর্ক। সবসময় ভালো কিছু নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হতে চাই। এখন অনেকেই মনে করছেন ঈদের নাটক মানেই মেহজাবিন চমক। দর্শকের সেই আস্থাটুকু ধরে রাখতে চেয়েছি।' ছোট পর্দার পাশাপাশি প্রায়ই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন মেহজাবিন! এরকম শিরোনাম মিডিয়ায় প্রকাশ হয়। কিন্তু সবাই কি আর বৃত্ত ভাঙার সাহস দেখাতে পারেন? পারেন না বলেই চেনা পথটাতেই হেঁটেছেন মেহজাবিন। ২০০৯ সালের দৃশ্যপটের দিকে ফিরে আসা যাক। মাত্রই লাক্স সুন্দরী হয়েছেন তিনি। একের পর এক প্রস্তাব, বড় পর্দার হাতছানি। তার বাড়িতে পরিচালকদের লম্বা লাইন। এসব উপেক্ষা করে শুরুতেই বোকাবাক্সে সঁপে দেন নিজেকে। নাটক-মডেলিং করেই আট বছর কেটে গেল! সময়ের পথ ধরে তাই তো দীর্ঘশ্বাস ও সঙ্গী হচ্ছে তার। মানুষ মনে রাখবে এমন কোনো কাজ কি করা হলো? কী পেলাম আমি? স্মৃতির বারান্দায় হেঁটে এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে ফেললেন মেহজাবিন চৌধুরী। অনেক হয়েছে একঘেয়ে নাটক, জিঙ্গেলের তালে পণ্যের বন্দনা। এবার রূপালি পর্দায় কিছু করা যাক। ঠিক তাই, ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক মিলে গেলেই সিনেমায় নাম লেখাবেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। মেহজাবিন রাজি, তবে কিছু কথা আছে। অবশ্য ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব সেই শুরু থেকেই পেতে পেতে ক্লান্ত তিনি। 'পরিচালকদের স্ট্ক্রিপ্ট অনেক সময় ভালো লাগেনি। আবার কখনও বা মনে হয়েছে, আমাকে দিয়ে এই চরিত্রটি হবে না!' খুঁতখুঁতে সেই স্বভাবটার কারণেই সময় নিয়েছেন। নিজেকে আরও বেশি পরিণত করেছেন। এবার তিনি প্রস্তুত। অকপটেই সেই ইচ্ছার কথাটা জানিয়ে রাখলেন তিনি, 'আমি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আগেই জানিয়ে রাখি, কোনো আর্ট ফিল্মে অভিনয় করব না। পরিবারের সবাই হলে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন- এমন ছবি করতে চাই।' মেহজাবিনের ক্যারিয়ারের শুরুটাই তো হয়েছিল চমক দিয়ে। পেয়েছিলেন লাক্স সুন্দরীর মঞ্চ। তখন তিনি 'ও' লেভেলে পড়ছেন। চট্টগ্রামের মেয়েটির বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বাবা মহিউদ্দিনের হাত ধরে পাড়ি জমিয়েছিলেন মরুর দেশে। তারপর সেখানেই কেটেছে শৈশব। গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানিটা ছিল তখন থেকেই। টাইমস অব ওমানে মডেল হিসেবে হাজির হতে দেখা গেছে তাকে। সঙ্গে শিখেছেন ব্যালে ড্যান্স। তবে সেসব ছিল শুধু শখের বশে। ২০০৭ সালে দেশে ফিরে শখ শব্দটা কখন নেশা হয়ে গেল টেরই পাননি মেহজাবিন। একটা জেদ চেপে বসেছিল মনের গহিন কোণে। একসময় জেদকেই জয় করলেন ২৬ পেরিয়ে আসা উচ্ছল মেয়েটি। ক্যারিয়ারে এতদূর আসার পেছনে কার ভূমিকা ছিল বেশি। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, 'অবশ্যই আমার আম্মুর অবদানের কথা স্বীকার করতে চাই। আম্মু যদি উদ্যোগী না হতেন, আমাকে উৎসাহ না দিতেন তাহলে হয়তো আমার জীবনের চলার পথটাই ভিন্ন হতো। এই রঙিন দুনিয়ায় আমার হাঁটাই হতো না। আমি আম্মুর কারণেই আজকের মেহজাবিন হয়েছি।

আর সহকর্মীদের অবদানের কথা একটু বলতে হয়। পড়াশোনা করেছি দেশের বাইরে, তাই ক্যারিয়ারের শুরুতে বাংলা ভাষা আমার খুব বেশি রপ্ত ছিল না। একসময় আমি স্ট্ক্রিপ্ট ভালো করে পড়তে পারতাম না। অনেক সহকর্মী স্ট্ক্রিপ্ট নিয়ে আমাকে পড়ে শোনাতেন। এ ছাড়া অনেকভাবেই সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। দীর্ঘ চলার পথে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তারা।' ইফতেখার আহমেদ ফাহমির নাটক 'তুমি থাক সিন্ধুপারে' দিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ারের খাতা খোলেন মেহজাবিন। তার পরের গল্প শুধু এগিয়ে চলার। মডেলিং-অভিনয় দুটোই চলেছে সমান তালে। বিজ্ঞাপনও করছেন চুটিয়ে। কিছুদিন আগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্দেশনায় বেঙ্গল টির বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন।

দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়জন এখন নাটকেই বেঁধেছেন সংসার। কিন্তু মেহজাবিন সংসার বাঁধবেন কবে? 'আপাতত বিয়ের কথা ভাবছি না। বিয়ের জন্য আরও তিন বছর সময় নিতে চাই।' তাহলে বছর তিনেক পর কার গলায় মালা পরাবেন মেহজাবিন? পছন্দের কেউ কি আছেন? 'না এখনও তেমন কেউ নেই। একজন ক্রিয়েটিভ মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চাই। যার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পারব। আমি মিডিয়ার মানুষ, এটা ওকে অবশ্যই বুঝতে হবে। আমার আবেগের মূল্য তাকে দিতে হবে। এরকম মনের মতো পাত্রের অপেক্ষায় আছি।' এবারের ঈদে প্রচারের সংখ্যায় অন্য অভিনেত্রীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন এই পর্দাকন্যা। ঈদে তার অভিনীত সর্বাধিক ২৩টি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়। এসবের মধ্যে বেশকিছু নাটক দর্শকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলে। উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো- জাকারিয়া সৌখিনের 'যদি তুমি জানতে', চয়নিকা চৌধুরীর 'গল্পটি হতে পারত ভালোবাসার', মহিদুল মহিমের 'রং বদল', মাহমুদুর রহমান হিমির 'তোমার অপেক্ষায়', বি ইউ শুভর 'হঠাৎ একদিন', রুপক বিন রউফের 'রাজা রানী রাজি' ও আশফাক নিপুণের 'লায়লা তুমি কি আমাকে মিস করো'। সর্বাধিক নাটক প্রচার প্রসঙ্গে মেহজাবিন বলেন, 'নাটকের সংখ্যা গুনে অভিনয় করি না। তবুও দেখতে দেখতে অনেকগুলো নাটক প্রচার হলো। নির্মাতারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নাটকের সংখ্যা বেশি হলেও মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করিনি। প্রতিটি নাটকের গল্পে ও চরিত্রে বৈচিত্র্য রয়েছে। এভাবেই পর্দায় আগামীতেও হাজির হতে চাই।' ব্যক্তিজীবনে নিভৃতচারী মেহজাবিন। মাঝে মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই নানা কথা শুনতে হয় তাকে। এই নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়া আর কী করতে পারেন মেহজাবিন। তিনি বলেন, 'আসলে আমি কাজের মধ্যে ডুবে থাকি। চেষ্টা করি পুরো মনোযোগ কাজে রাখতে। আর সেটা করতে গিয়ে হয়তো অনেক সময় যোগাযোগটা ঠিকঠাক রাখা হয় না। দেখুন, কাজের মধ্যে আমি যদি ফোন রিসিভ করি, পুরো শুটিং ইউনিটের মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। এসব ভেবেই আসলে সচরাচর ফোন রিসিভ করা হয় না। আশা করছি, কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন না।' কিন্তু ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কী ভাবছেন মেহজাবিন? 'দেখুন, এমন কাজ চাইছি, যা আগে করিনি। যদিও সেটা সহজেই পাওয়া যায় না। একজন শিল্পীর ভালো কাজের ক্ষুধা তাদের সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়। সবসময়ই ভালো কাজের অপেক্ষা করি। দেখা যাক সে রকম কিছু ভাগ্যে আছে কি-না। আমি স্বপ্নবিলাসী মানুষ। স্বপ্নই আমাকে আগামীতে ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই তো সুযোগ পেলেই ডুবে থাকি ভালো কাজের নেশায়।' দেশের বাইরে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন মেহজাবিন। তাই তো সময় পেলেই ছুটে যান থাইল্যান্ড, আমেরিকা কিংবা লন্ডনে। মেঘের সঙ্গে বসতি গড়ে ভেসে বেড়ান দিগন্তের পর দিগন্তরেখায়। এর শেষ কি আছে? দূর, অত ভেবে কী হবে- কারণ তিনি যে মেঘবতী মেঘকুমারী।
যেসব অভ্যাসে ওজন কমে

যেসব অভ্যাসে ওজন কমে

ওজন কমানো বেশ কঠিন। খাদ্য তালিকা পরিবর্তন কিংবা ব্যায়ামের পরেও ...

দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করবে তেজপাতা

দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করবে তেজপাতা

হলদে দাঁত সাদা দেখানোর জন্য সবাই কত কিছুই না করেন।দাঁত ...

বাংলাদেশ সফরে নেই হোল্ডার

বাংলাদেশ সফরে নেই হোল্ডার

খবরটা বাংলাদেশ দলের জন্য যতটা স্বস্তির। ততটাই চিন্তার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ...

সব প্রার্থী সমান: সিইসি

সব প্রার্থী সমান: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ...

আজ বিয়ে, ২৮ নভেম্বর রিসেপশন

আজ বিয়ে, ২৮ নভেম্বর রিসেপশন

অবসান হচ্ছে সব জল্পনাকল্পনা। ‘স্রেফ বন্ধু’ এই বাক্য থেকে রণবীর ...

বাংলাদেশের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাংলাদেশের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

জিম্বাবুয়ে সিরিজ চলাকালীন সময়েই বাংলাদেশ চলে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ...

ডায়াবেটিস রোধে জীবনধারা বদলান

ডায়াবেটিস রোধে জীবনধারা বদলান

দুশ্চিন্তার বড় কারণ ডায়াবেটিস। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে ৪২ কোটি ৫০ ...

আবার নতুন এক ইনজুরিতে তামিম

আবার নতুন এক ইনজুরিতে তামিম

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজে বাংলাদেশ যখন গতকাল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্টের ...