'লিজি' :বাস্তব এক থ্রিলার

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

তানিয়া সুলতানা

বাস্তব ঘটনা কিংবা জীবনধর্মী সিৃেনমা তৈরিতে হলিউডের জুড়ি মেলা ভার। সেটি যদি হয় থ্রিলারধর্মী টানটান উত্তেজনায় ভরা, তবে তো কথাই নেই। আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া 'লিজি' তেমনি বাস্তব জীবনের সত্য ঘটনা, খুন এবং রহস্যের উপাদানে ভরপুর এক সিনেমা। পরিচালনা করেছেন ফিচার ফিল্মের জন্য খ্যাত আমেরিকান পরিচালক ক্রেগ উইলিয়াম ম্যাকনেইল।

সিনেমার মূল চরিত্র 'লিজি বোরডেন' হিসেবে অভিনয় করেছেন আমেরিকান অভিনয় শিল্পী, পরিচালক, মডেল ও ফ্যাশন ডিজাইনার চলো সিভিগনি। তবে এ সিনেমার অন্যতম প্রধান ও আলোচিত চরিত্র ব্রিজিত সুলিভান চরিত্রে অভিনয় করেছেন 'টোয়ালাট সাগা'র ভুবন ভোলানো হাসির অধিকারী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট।

সিনেমাটি নিয়ে ইতিমধ্যে চলচ্চিত্র বোদ্ধা এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহের কমতি নেই। সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রিমিয়ার হয়ে যাওয়ার পর পরিচালক ক্রেগ উইলিয়াম ম্যাকনেইলের নির্মাণ এবং অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় বেশ প্রশংসা পেয়েছে। রোটেন টমেটো এবং মেটাক্রিটিকের রিভিউকাররাও বেশ ভালোই রেটিং দিয়েছেন সিনেমাটিকে।

সিনেমা নিয়ে তো কথা হলো অনেক। এবার আসা যাক যে খুনের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি সে ঘটনায়। ঘটনাটি আঠারো শতকের শেষের দিকের। ঘটনাস্থল আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত ফল রিভার শহর। ৯২ সেকেন্ড স্ট্রিটের বোর্ডেন হাউসে দুই কন্যা লিজি ও এমাকে নিয়ে বসবাস করতেন অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যাবি বোর্ডেন। আর কাজের মেয়ে ব্রিজিত সুলিভান। অ্যান্ড্রু বোর্ডেন শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী এবং সমাজে তার যথেষ্ট প্রভাবও ছিল। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার খুব একটা সদ্ভাব ছিল না। ১৮৯২ সালের ৪ আগস্ট, অন্যান্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল বোর্ডেন দম্পতির দিনটি। অ্যান্ড্রুর ছোট মেয়ে এমা সেদিন বাড়িতে ছিল না। প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির কাজের মেয়ে ব্রিজিত এসে নাশতা পরিবেশন করে গেল এবং বোর্ডেন দম্পতি সকালের নাশতা সারল। বাড়িতে তখন ছিল বোর্ডেন দম্পতি, বড় মেয়ে লিজি ও কাজের মেয়ে ব্রিজিত। বাড়িতে এক অদ্ভুত রকমের নিয়ম ছিল- সবাই সবার ঘরের দরজা সব সময় আটকে রাখত। তখনও দুপুর হয়নি, কিন্তু প্রচণ্ড গরম পড়ে সেদিন। বোর্ডেন দম্পতি হয়তো কখনও কল্পনাও করতে পারেননি যে তাদের জীবন প্রদীপের শিখা আর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিরদিনের জন্য নিভে যাবে। এবং হলোও তাই। সেদিন সোফায় শায়িত অবস্থায় অ্যান্ড্রুর লাশ এবং ওপরের তলায় অ্যাবির রক্তাক্ত লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। দু'জনের শরীরেই ছিল কুঠারের প্রায় ডজনখানেক আঘাতের চিহ্ন, তাদের মাথা হাতুড়ি দিয়ে একদম থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। এমন নিষ্ঠুরভাবে খুনের ঘটনা পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। খুনের কারণ হিসেবে দুটি যুক্তিকে দাঁড় করানো হয়। প্রথমত, লিজির তার সৎ মায়ের প্রতি বিদ্বেষী আচরণ এবং দ্বিতীয়ত, অ্যান্ড্রুর ব্যবসাগত শত্রুতা। কিন্তু পুলিশের সন্দেহের তালিকায় সর্বপ্রথম যে নামটি আসে তা হলো 'লিজি', কারণ বাড়ির কাজের মেয়ে ব্রিজিত বাদে একমাত্র সে-ই তখন উপস্থিত ছিল বাড়িতে। লিজিকে জোড়া খুনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার-পরবর্তী ব্রিজিতের বয়ান অনুযায়ী খুনের দু'দিন আগে রাতে বোর্ডেন দম্পতি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দু'জনই সে রাতে প্রচুর বমি করেছিলেন। তখন এটিকে ফুড পয়জনিং বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, যদিও বাড়ির অন্য কেউ সেদিন ওই একই খাবার খেয়ে অসুস্থ হননি। খুনের পরে আজ অবধি জানা যায়নি আসলেই সেদিন তাদের ফুড পয়জনিং হয়েছিল, নাকি খুনের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল সে ঘটনা।

বোর্ডেন পরিবারের সামাজিক অবস্থান এবং খ্যাতির কারণে এই খুনের ঘটনা নিয়ে মানুষের চরম আগ্রহ ছিল। তাই সুষ্ঠুভাবে বিচারসম্পন্ন করার তাগিদে বিচারকাজ ফল রিভারে অনুষ্ঠিত না হয়ে পাশের অন্য একটি শহর নিউ বেডফোর্ডে শুরু হয়। লিজির পক্ষের উকিল যথাযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করেন আদালতে। বিচারকাজ চলাকালে মাত্র ৯০ মিনিটের মাথায় আদালত সব প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে লিজিকে নির্দোষ ঘোষণা করেন এবং মুক্তি দেন।

লিজি নির্দোষ প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও এলাকাবাসী তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। অতঃপর লিজি ও তার বোন বোর্ডেন হাউস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং কিছু দূরে 'দ্য হিল' নামে নতুন একটি বাড়িতে ওঠে। ফল রিভার শহরবাসী আর কখনই লিজিকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেনি, প্রত্যাখ্যাত হিসেবেই সে তার বাকি জীবনটা কাটিয়েছে খুনির পরিচয়ে।

অনেকে বলে থাকেন, লিজিই তার সৎ মাকে খুন করেছিল এবং তা দেখে ফেলায় সে তার বাবাকেও খুন করে। আবার অনেকে বলেন, সেদিন নাকি বোর্ডেন হাউসের পেছন দিক দিয়ে কাউকে পালিয়ে যেতে দেখেছিল। সন্দেহের মাত্রাটা যদিও ক্ষীণ, তবুও বাড়ির কাজের মেয়েকেও অনেকে খুনি মনে করে থাকেন। কারণ লিজি ও ব্রিজিতের মধ্যে গড়ে উঠেছিল প্রেমের সমকামী সম্পর্ক, যা লিজির সৎমা মেনে নিতে পারেননি। এ কারণেই খুন করা হয়েছিল তাকে।

১৯২৭ সালের ১ জুন লিজি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মারা যায়। লিজি এবং ব্রিজিতের প্রেম, বাবা-মাকে হত্যা এবং নির্দোষরূপে লিজির মুক্তি পাওয়া সবই আসলে রহস্যে ঘেরাই রয়ে গেছে। বাস্তব জীবনের আলোচিত এ রহস্যপূর্ণ খুনের ঘটনা নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি দর্শক কতটা গ্রহণ করে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : সুরের সাতরঙে

দাফনের ৪০ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন

দাফনের ৪০ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় দাফনের ৪০ দিন পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের ...

স্বাধীনতার সুফল জনগণের ঘরে পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতার সুফল জনগণের ঘরে পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলায় তার ...

শাহজালালে বিমান থেকে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

শাহজালালে বিমান থেকে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা একটি বিমান থেকে ...

ঢালাও নয়, বিএনপি সুস্পষ্ট অভিযোগ করেছে: ফখরুল

ঢালাও নয়, বিএনপি সুস্পষ্ট অভিযোগ করেছে: ফখরুল

'বিএনপি ঢালাও অভিযোগ করছে'— নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি ...

নেইমার-এমবাপ্পের চোট বড় নয়

নেইমার-এমবাপ্পের চোট বড় নয়

প্রীতি ম্যাচ খেলতে কাছাকাছি সময়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল এবং ফ্রান্স। ...

অজিদের কাছে হারে শুরু ভারতের

অজিদের কাছে হারে শুরু ভারতের

অস্ট্রেলিয়া সফর হার দিয়ে শুরু হলো ভারতের। টি২০ সিরিজ দিয়ে ...

'অতীত নিয়ে পড়ে নেই উইন্ডিজ'

'অতীত নিয়ে পড়ে নেই উইন্ডিজ'

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজটা ভালো যায়নি। ভারতের মাটিতে বড় ...

সন্দ্বীপে অপহৃত শিশুর খোঁজ মেলেনি ৩৬ ঘণ্টায়ও

সন্দ্বীপে অপহৃত শিশুর খোঁজ মেলেনি ৩৬ ঘণ্টায়ও

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে স্কুল ভ্যান থেকে নামিয়ে অপহরণ করা আট বছরের ...