ইতিহাসের খোঁজে অন্যরকম আয়োজন

প্রচ্ছদ

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০১৮      

এস এম মিনহাজুর রহমান

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে এলাম ভারত থেকে। প্রথমে রওনা হলাম গুজরাটের উদ্দেশে। ঢাকা থেকে কলকাতা পৌঁছে সেখান থেকে ফ্লাইট ধরে গুজরাট। ভারত সরকারের 'মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্পোর্টস'-এর আমন্ত্রণে 'ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ক্যাম্প ২০১৮'-তে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার উদ্দেশ্যে এ যাত্রা। দীর্ঘ ভ্রমণের পর পৌঁছলাম আহমেদাবাদ এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে গাড়িতে আরও ১২০ কিলোমিটার রাস্তা পার করে হাজির হলাম গুজরাটের প্রাচীন ও হেরিটেজ সিটি খ্যাত পাটান নগরীতে।

দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণের পরও আনন্দ হচ্ছিল এই ভেবে যে, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ক্যাম্পে অংশ নেওয়া আরও ২৪টি দেশের ডেলিগেটদের সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে আমি প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি। পরের ১০টা দিনের জন্য আমরা থিতু হলাম পাটান নগরীতেই। ৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজা বনরাজ চাদভার হাতে এ নগরীর গোড়াপত্তন হয়েছিল এবং ১২৯৮ সালে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির হাতে ধ্বংস হয়ে যায় প্রাচীন ভারতের এই ঐতিহ্যবাহী শহরটি। যা হোক, সকালে আয়োজকরা আমাদের জন্য একটি সিটি ট্যুরের ব্যবস্থা করলেন, তারপর আমরা গেলাম নির্দিষ্ট একটি স্থানে, যেখানে আগে থেকেই আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন আয়োজকরা। একে একে ক্যাম্পের উদ্বোধন, আইস ব্রেকিং সেশন, ডেলিগেটদের নিজ নিজ দেশের হেরিটেজ সাইটের ওপর বক্তৃতা প্রদান শেষে শুরু হলো গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী গারবা নৃত্য। নতুন এক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় হলো সেদিন। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে শুরু হলো ক্যাম্পের মূল কার্যক্রম। হোটেলে নাশতা সেরে আবারও নির্ধারিত গাড়িতে রওনা হলাম। আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন একজন হেরিটেজ এক্সপার্ট, তিনিই আমাদের সব কিছু বুঝিয়ে বলবেন।

গাড়ি চলতে শুরু করল রানি-কি-ভাভ-এর উদ্দেশে, যেটি ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তার বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করে। এগারো শতকে বিধবা রানী উদয়মতী তার মৃত স্বামী রাজা ভীমের উদ্দেশে এটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি মূলত একটি বিশাল জলাধার, যেখানে ধাপে ধাপে সিঁড়ি নিচের দিকে নেমে গেছে। অপূর্ব সব নকশা এবং ডিজাইন করা জলাধারের দেয়াল ও সিঁড়ি দেখতে দেখতে নিচে নামতে থাকি আমরা। এ যেন এক বিশাল শিল্পকর্ম, পাথরের গা কেটে বানানো সুনিপুণ সব চিত্রকর্ম আর সিঁড়ির ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেব-দেবতার আটশ'টি মূর্তি।

সুবিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থিত রানী-কি-ভাভ-এর সৌন্দর্য দেখতে দেখতে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে এর স্রষ্টাদের প্রতি। বিকেলে আমরা গেলাম সহস্রলিঙ্গম লেকে। অনেক গভীর কিন্তু পানিশূন্য এই লেক নিয়ে নানান কিংবদন্তি শুনলাম হেরিটেজ এক্সপার্টের কাছ থেকে। তার কাছ থেকেই জানতে পারলাম যে, এই লেকেই মোগল সম্রাট হুমায়ুনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও সম্মানিত সেনাপতি এবং সম্রাট আকবরের সেনাপতি এবং একই সঙ্গে শিক্ষক বৈরাম খাঁকে সম্রাট আকবরের হুকুমেই হত্যা করা হয়েছিল। আকবর তাকে খান বাবা বলে সম্বোধন করতেন। পরদিন সকালে নাশতা শেষে 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র একটি পত্রিকা নিয়ে এলেন আয়োজকদের একজন। ভারতের সবচেয়ে বড় জাতীয় দৈনিকে নিজের ছবিটা দেখে কিছুটা চমকেই উঠেছিলাম। তারপর দলবেঁধে রওনা হলাম মধেরা সূর্য মন্দিরের উদ্দেশে। এই মন্দির সম্পর্কে আগে পড়েছিলাম বিধায় আমার উৎসাহ ছিল খুব বেশি। নানান কিংবদন্তি ঘেরা এই সূর্য মন্দির ১০২৬ সালে সোলাঙ্কি রাজত্বকালে সোলাঙ্কি রাজা ভীমদেব প্রতিষ্ঠা করেন। সম্পূর্ণ মন্দিরের বিভিন্ন নকশা, কারুকাজ ও স্থাপত্যের মাঝে বিভিন্ন গাণিতিক সংখ্যা, জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের তাৎপর্যপূর্ণ সৌন্দর্য রয়েছে। এই মন্দিরটি প্রথম ধ্বংস করার চেষ্টা করেন আলাউদ্দিন খিলজি।

ধ্বংস ও ক্ষতিসাধনের পরও যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তা মন্দিরের বিশেষত্ব ও তাৎপর্য বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। মন্দিরটি এমন ডিজাইনে তৈরি, যা সেই সময়ে ভারতবর্ষের জ্যোতিষশাস্ত্র, সংখ্যাতত্ত্ব ইত্যাদির জ্ঞান কোন পর্যায়ে ছিল- তা মন্দিরের স্থাপত্যকলা থেকেই বোঝা যায়। সূর্য যখন বিষুবীয় সময়ে পৌঁছত তখন সূর্যের প্রথম রশ্মি মন্দিরে স্থাপিত একটি সূর্যের ছবির ওপর পড়ত। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক কিছুই এই মন্দিরের গায়ে খোদাই করে রাখা হয়েছে। রামায়ণের অনেক বর্ণনা মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করে আঁকা হয়েছে। তবে এখানে যৌনতার ছাপ অনেক বেশি স্পষ্ট। এ থেকে বোঝা যায়, তারা যৌনতাকে সন্তান উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবেই দেখত। এর পরের কয়েকটা দিন বেশ ব্যস্ততাতেই কাটল। পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া। 

পরবর্তী খবর পড়ুন : নারীর সুস্থতায়

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ...

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অভাবী মানুষের কিডনি বেচাকেনা আবারও বেড়েছে। অভাবের ...

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার দু'পক্ষের ...

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন অব বাংলাদেশকে (জেএমবি) চাঙ্গা ...

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রাত ১১টার পর বন্ধ করে দেয়া ...

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশ প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছে। এমন একটা কথা ...

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ ও বিশ্ব ...

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

লিজা আক্তার। বয়স মাত্র ৬ বছর। চোখের সামনে বাবা ট্রেনে ...