কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

বইয়ের ফেরিওয়ালা

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নাজিমুল হক সানি

'বই লাগবে? বই? হরেক রকমের বই। টাকা দিতে হবে না! শুধু পড়া শেষে বইটা দিয়ে দেবেন আমাদের। নাহ, নাহ, ভয় পাবেন না! নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। আপনার যখন পড়া শেষ হবে, তখন দিলেই চলবে।' এভাবেই বই ফেরি করে চলেছেন একদল শিক্ষার্থী। তবে রাস্তায়-রাস্তায় না। তারা বই ফেরি করেন ফেসবুকে! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে প্রচারণা চালিয়ে এ সময়ের শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আহ্বান জানান তারা। এভাবে আগ্রহী পাঠকদের পিপাসা মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এক দল ফেরিওয়ালা। এমন কাজ করে যাচ্ছেন যারা, তারাও সবাই শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বই ফেরি করে বলে তারা নিজেদের এই সংগঠনের নাম দিয়েছেন 'বইয়ের ফেরিওয়ালা'।

পুরনো বই ধুলাবালুতে জমিয়ে না রেখে বইয়ের ফেরিওয়ালাদের দিলে তারা এই বই দিয়ে অন্যদের বই পড়ার সুযোগ করে দেন। এ সংগঠনের সদস্য হতে হলে দিতে হয় না কোনো ফিও। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীর হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে বইয়ের ফেরিওয়ালা সংগঠনটি। যাদের হাত ধরে চলছে এই সংগঠন তারা হলেন- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাইদুল ইসলাম, রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের মাহমুদুল হাসান, বাংলা বিভাগের মাহবুবা চৌধুরী, লোকপ্রশাসন বিভাগের আবদুল্লাহিল মারুফ এবং একই বিভাগের আনিকা তাসনিম সুপ্তি। মাত্র ৪০টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই বইয়ের ফেরিওয়ালা। গত চার মাস ধরে পাঠকের পছন্দের বইটি সুবিধাজনক উপায়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বইয়ের ফেরিওয়ালা সংগঠনটি। ধরাবাঁধা নিয়ম-নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ জামানতবিহীন বই ফেরি করে যাচ্ছে সংগঠনটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বই নেওয়ার সময় পাঠকই নিজের সুবিধা মতো বই ফেরতের তারিখ ঠিক করে দেবেন। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব ফি কিংবা জরিমানার কোনো বালাই নেই। ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যভাবেই পাঠকরা পছন্দের বই পড়ার সুযোগ পান। কবিতা থেকে শুরু করে ছোটগল্প, উপন্যাস, হাস্যরসাত্মক, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, ভ্রমণকাহিনী, গোয়েন্দা, জীবনী, রোমান্টিক কিংবা ট্র্যাজেডিসহ প্রায় সব ধরনের বই সরবরাহ করে থাকেন বইয়ের ফেরিওয়ালারা। বর্তমানে ১১২টি বই নিয়ে এগিয়ে চলা সংগঠনটির রয়েছে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা। বই সংকট ও বই বিতরণের সময়ের ভিন্নতাই যেন তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। অনেক সময় একই বইয়ের জন্য একাধিক পাঠককে অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া সংগঠনের বই বিতরণকারী এবং পাঠকদের ভিন্ন ভিন্ন ক্লাসসূচির কারণে বই পৌঁছানো হয়ে ওঠে কিছুটা কষ্টসাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান জানান, 'এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। আগে আমি নিজ বিভাগের বাইরের বই পড়তে খুব বেশি আগ্রহী ছিলাম না। সময়মতো বই ফেরত দেওয়ার চাপের কারণে তেমনভাবে বই পড়া হতো না। তবে বইয়ের ফেরিওয়ালার চমৎকার ব্যবস্থার কারণে এখন অবসর সময় অল্প অল্প করে বই পড়তে পারি।'

পরবর্তী খবর পড়ুন : শিক্ষকতা করতে চাই

কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টাকা!

কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টাকা!

মাছের বাজার, শাক-সবজির বাজার, বইয়ের বাজার ও পোশাকের বাজারের সাথে ...

মিরসরাইয়ে পটকা মাছ খেয়ে ২ জনের মৃত্যু

মিরসরাইয়ে পটকা মাছ খেয়ে ২ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু ...

কোথায় যাচ্ছে এত টাকা

কোথায় যাচ্ছে এত টাকা

শিল্প স্থাপনে ব্যবহূত মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানি বেড়েছে ব্যাপকভাবে। ...

তোশাখানা জাদুঘর উদ্বোধন

তোশাখানা জাদুঘর উদ্বোধন

রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের পাওয়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উপহারসামগ্রী সংরক্ষণে তোশাখানার জন্য নিজস্ব ...

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে ...

শেকড়ের গান গেয়ে মাতালেন আব্দুল হাই দেওয়ান

শেকড়ের গান গেয়ে মাতালেন আব্দুল হাই দেওয়ান

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্টিত ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট-২০১৮' র প্রথম দিনে ...

নয়াপল্টনের আকাশে ড্রোন

নয়াপল্টনের আকাশে ড্রোন

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর দিন ...

বর-বধূ সাজে রণবীর-দীপিকা

বর-বধূ সাজে রণবীর-দীপিকা

বলিউডের আলোচিত জুটি রণবীর-দীপিকার বিয়ের ছবি দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন ভক্তরা। অবশেষে ...