স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যাবে স্কুলেই

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      
স্কুলের মেয়েদের কাছে এক ঝলক স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে 'নোরা আপা'। নোরা আপার মাধ্যমে স্কুলের মেয়েরা দরকারের সময় হাতের কাছেই পাচ্ছে সেনোরা স্যানিটারি ন্যাপকিন।

পিরিয়ড নিয়ে সংকোচের বেড়াজাল একটু একটু করে ভাঙছে। মেয়েরা এখন আগের চেয়ে সচেতন। তাই মা-দাদিরা যেমন পিরিয়ডের সময় কাপড় বা তুলা ব্যবহার করতেন, তাদেরই নতুন প্রজন্ম এখন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছে। সেনোরার স্কুল প্রোগ্রাম স্কুলে স্কুলে মেয়েদের সচেতন করার কাজটি করে যাচ্ছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। এখন পর্যন্ত ৩৭ লক্ষাধিক স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে এ বিষয়ে সচেতন করা গেছে। তবে এখনও এর আওতার বাইরে আছে হাজার হাজার স্কুল। শহরের তুলনায় গ্রামের স্কুলগুলোতে সচেতনতার অভাব অনেক বেশি। বেশিরভাগ স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিনের দুষ্প্রাপ্যতা ও বড় বাধা। পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন না পাওয়ার কারণে অনেক মেয়ে স্কুলেই আসে না। পিরিয়ড সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে না পারায় প্রায় ৪০ শতাংশ মেয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৪ থেকে ৬ দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। কেউ কেউ স্কুলই ছেড়ে দেয়। স্কুলের মেয়েদের কাছে এক ঝলক স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে 'নোরা আপা'। নোরা আপার মাধ্যমে স্কুলের মেয়েরা দরকারের সময় হাতের কাছেই পাচ্ছে সেনোরা স্যানিটারি ন্যাপকিন। ২০১৭ সালে প্রথম এই উদ্যোগটি শুরু হয়। শুরুতে ঢাকা, দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহীসহ ৮টি জেলায় ১৩৮টি স্কুলে নোরা আপা চালু হয়। প্রতিটি স্কুলে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীকর্মী বা আয়ার কাছে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যাবে সেনোরা স্যানিটারি ন্যাপকিন। তিনি একটি কাঠের আলমারিতে তা মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ করেন ও ছাত্রীদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেন। মূলত এই উদ্যোগটির নামই নোরা আপা। সেনোরা স্কুল প্রোগ্রামের সময় ছাত্রীদের সঙ্গে এই কর্মীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বড় একটি সমস্যার সহজ একটি সমাধান! নোরা আপা চালুর পরপরই ব্যাপক সাড়া পড়ে। 'আগে ক্লাস করার সময় হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে বাসায় চলে যেতাম। কিন্তু এখন স্কুলেই স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়, তাই বাসায় চলে যাওয়ার দরকার হয় না'- এভাবেই তার স্বস্তির কথা জানায় দিনাজপুর সরকারি স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্রী নবনী। রংপুর পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান, নোরা আপার কারণে ক্লাসে মেয়েদের উপস্থিতির হার একটু বেড়েছে আর একইসঙ্গে বেড়েছে এই ট্যাবু বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা। প্রতিটি স্কুল এবং কলেজে এই উদ্যোগটি থাকা খুব জরুরি বলেও জানান তিনি।

এভাবেই নোরা আপার মাধ্যমে স্বস্তি ফিরেছে স্কুলগুলোতে। একটু সচেতনতা আর প্রয়োজনের সময় পিরিয়ডের সঠিক পণ্যগুলো হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে পারলেই স্কুলপড়ুয়া এই মেয়েগুলোকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।



লেখা : শৈলী ডেস্ক

পরবর্তী খবর পড়ুন : যত্নে সুন্দর

হংকংয়ের বিপক্ষে কষ্টের জয় ভারতের

হংকংয়ের বিপক্ষে কষ্টের জয় ভারতের

হংকংয়ের ইনিংসের তখন ২৯ ওভার চলছে। কোন উইকেট না হারিয়ে ...

মুশফিক বিশ্রামে খেলবেন মুমিনুল

মুশফিক বিশ্রামে খেলবেন মুমিনুল

রুটি সেঁকতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত না আবার হাতটাই পুড়ে যায়- ...

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, সন্দেহ যাচ্ছে না ছাত্রনেতাদের

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, সন্দেহ যাচ্ছে না ছাত্রনেতাদের

সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশাবাদী। তবে কিছুটা সন্দেহ আর সংশয়ে আছে ক্যাম্পাসে ...

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাড়ছে গড় আয়ু

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাড়ছে গড় আয়ু

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ক্রমশই বাড়ছে। ১০ বছর আগে ২০০৮ ...

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

চলমান রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। আওয়ামী ...

'থাহনের জাগা নাই, পড়ালেহা করব ক্যামনে'

'থাহনের জাগা নাই, পড়ালেহা করব ক্যামনে'

ভিটেমাটির সঙ্গে শিশু নাসরিন আক্তারের স্কুলটিও গেছে পদ্মার গর্ভে। তীরে ...

রোগশোক ভুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ওরা

রোগশোক ভুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ওরা

হাটহাজারীর কাটিরহাট থেকে ছয় কিলোমিটার ইটবিছানো রাস্তার পর প্রায় এক ...

হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু মেসির

হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু মেসির

চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মৌসুমেও দারুণ খেলেছেন মেসি। কিন্তু রোমার কাছে ...