সারপ্রাইজ

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

এবিএম মাহমুদুল হাসান রানা

শরৎ কাল। পড়ন্ত বিকেল। নদীর তীর। নদীতে স্বচ্ছ নীলাভ টলমল জল। দু'কূলজুড়ে কাশবন। তীর ঘেঁষে ইট বিছানো আধাপাকা সড়ক। সড়কের দু'পাশ ঘেঁষে কার্পেট সদৃশ দূর্বা ঘাসের সাম্রাজ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় গাছ। গাছেদের দেয়াল ভেদ করে সূর্যালো প্রবেশ করলেও সূর্য তাপের প্রবেশাধিকার সীমিত। অবরে শবরে মন্থরগতিতে হেলে-দুলে দুয়েকটা গাড়ি আসে যায়। মৃদু বাতাস বহমান। দুধ সাদা কাশফুল আর তুলোর মতো মেঘেদের উড়ে বেড়ানোর ব্যস্ততা। ব্যস্ততা নেই যেন তীরে বসে থাকা মানুষগুলোর। ইটের দেয়ালের বাইরে একটু প্রশান্তির জন্যই এখানে যেন আসে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে বেশ কেটে যায় মৌন সময়। যারা একবার এসে একটু প্রশান্তি লাভ করেছে তারা বারবার আসে। সে দলেরই অন্যতম সদস্য পায়েল ও তমাল। প্রায় আসে এখানে। নদীর দিকে মুখ করে বড় রেইনট্রি গাছটার নিচে হেলান দিয়ে পাশাপাশি বসে থাকে যেমন আজও বসে আছে। কথা খুব কমই হয়। উভয়ের দক্ষিণহস্ত মিলিত হয়ে স্পর্শেই যেন সব ব্যক্ত করে দেয়। বহতা নদীও যেন অলস। স্রোত আছে, কিন্তু ধীরগতি। শব্দও নেই সে চলায়। যেন পণ করেছে বিরক্ত করবে না ওদের। 'চলো উঠি' নীরবতা ভেঙে বলে পায়েল। অমত না করে ওর হাত ধরে নীরবে উঠে পড়ে তমাল।

২.

ওরা দু'জন বুয়েটে পড়ে। বয়সের ব্যবধান দু'বছরের হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পায়েল এক বছরের ছোট। অর্থাৎ তমাল স্নাতকোত্তীর্ণ আর পায়েল স্নাতক শ্রেণির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। ওদের প্রণয়ের বয়স কিছুদিন আগে চারে পা দিয়েছে। মধ্যবিত্ত পারিবারিক সম্মানবোধ ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন তমালের মাঝে মানবিক গুণাবলির প্রাচুর্য দেখেই পায়েল আকৃষ্ট হয়। তমালও কখনও ওর অসম্মান করেনি। পায়েল ধনীর দুলালী না হলেও অবস্থাসম্পন্ন মননশীল বাবার আদরের ধন। বাবার আদর ওকে নশ্বর হতে দেয় না এবং স্বীয় দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখে। ওদের দু'জনই প্রণয়ের চেয়ে একাডেমিক ক্যারিয়ারটাকে প্রাধান্য দেয়। তাই তো প্রেমের টানে আজও কোনো ব্যবহারিক ক্লাস এমনকি তাত্ত্বিক ক্লাসেও ফাঁকি দেইনি। তাই বলে ভালোবাসা কম? মোটেই না। ক্লাস আর পড়ার অবসরে ও দুটি মানিক জোড়। ট্রিপল ই বিভাগে ওদের প্রণয় ওপেনসিক্রেট। সবাই উৎসাহ জোগালেও দুয়েকজন হয়তো অগোচরে ঈর্ষাও যে করে না, এমনও নয়। কিন্তু ওদের সেদিকে দৃষ্টিপাতের ফুরসত কই? স্নাতকোত্তরের ক্লাস এখনও শুরু হয়নি বলে তমালের হাতে অলস সময় রয়েছে ঢের। মিডটার্ম শেষ হওয়ায় পায়েলও কিছুটা মুক্ত। সুতরাং প্রেমের নায়ে পাল তোলা যেতেই পারে।

৩.

পায়েলকে অচেনা এক ছেলের সঙ্গে রিকশায় দেখে খানিকটা অবাকই হয় ওর বড় ভাই জুয়েল। বাইরের কাজ শেষে নীলক্ষেত থেকে হেঁটে অফিসে ফিরছিল। কিছুটা আড়ালে দাঁড়িয়ে ওদের চলে যেতে দেখে। বাসায় ফিরে কাউকে কিছু বলে না। অফিসে ই-মেইল পাঠিয়ে দু'দিনের জন্য জরুরি ছুটি নেয়। ছায়ার মতো লেগে থাকে তমালের পেছনে। এমনকি নদীর পাড়ও বাদ যায় না। সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়ে আরও দুই দিন ছুটি নেয়। ব্যর্থ হয়ে খুশি হয়। চেপে যায় সব। এমনকি নিজের স্ত্রীর কাছেও কাশি তো দূরে থাক, হাঁচিও দেয় না। এক ছুটির দিনে সকালে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সেই নদীর পাড়ে যায়। দু'জন তর্ক-বিতর্ক হয় ঘণ্টা দুয়েকব্যাপী। অতঃপর একটা যবনিকা পতন ঘটে।

৪.

এরই মাঝে কেটে যায় তিন বছর। সন্ধ্যার পর পায়েলের বাবা আবদুর রহমান সাহেব মেয়েকে নিয়ে বসেন। কোনো ভূমিকা না রেখে সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান।

'শোন মা, তোর মা বেঁচে থাকলে হয়তো তিনিই কথাগুলো বলতেন। তার অবর্তমানে আমাকেই বলতে হচ্ছে।'

'কী এমন কথা বাবা?'

'আমরা তোর বিয়ে ঠিক করেছি।'

'সে কী বাবা? আমি এখনও বিয়ের জন্য প্রস্তুত নই।'

'তোর পড়াশোনা শেষ, আর কবে বিয়ে করবি?'

'কবে করব জানি না। তবে এখনই নয় বাবা।'

'কেন? তোর পছন্দের কেউ কি আছে?'

'বাবা বিষয়টা পছন্দ অপছন্দের নয়।'

'তাহলে কিসের? বড় করেছি, পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করেছি। এবার বিয়ে দিয়ে চিন্তা মুক্ত হবো। তাই না?'

'না বাবা। আমার সময় লাগবে। প্লিজ আমাকে কিছু দিন সময় দাও।' মনে মনে ভাবে, তমাল তো মাত্রই চাকরিটা পেয়েছে। ওকেও তো কিছু সময় দিতে হবে। যেভাবেই হোক, বিয়েটা বন্ধ করতেই হবে।

'অত কিছু বুঝি না মা, তোর বিয়ের বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। বেশ ভালো পাত্র পেয়েছি। আর না করিস না।'

'বাবা তোমার কাছে হাত জোড় করছি ক'টা দিন দাও আমায়। প্লিজ! প্লিজ!!' দু'চোখের পাতা ভারী হয়ে ওঠে পায়েলের, সদ্য প্রসূত ঝরনার মতো জল গড়ায়।

"বেশ, তাহলে পাত্র পক্ষকে তোর মতামত জানিয়ে 'না' বলে দেই? আর হ্যাঁ এই পাত্রের ছবি, ইচ্ছে হলে একবার দেখো।" বলে একটা খাম ওর হাতে ধরিয়ে আবদুর রহমান সাহেব উঠে নিজের কক্ষে ঢোকেন। নিতান্ত অনিচ্ছা, কিঞ্চিৎ কৌতূহল নিয়ে তাচ্ছিল্যভরে খামটা খোলে,মুহূর্তই ভোরের পূর্ণ সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মুখ। অস্ম্ফুট স্বরে মুখ ফুটে বের হয়ে আসে,'তমাল?'

হ সহসভাপতি

সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি

পরবর্তী খবর পড়ুন : স্মৃতি অমলিন

জয়পুরহাটে লেভেল ক্রসিংয়ে অল্পের জন্য বাঁচলো ৪৮ বাস যাত্রী

জয়পুরহাটে লেভেল ক্রসিংয়ে অল্পের জন্য বাঁচলো ৪৮ বাস যাত্রী

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম আমুট্ট (মহিলা কলেজ সংলগ্ন) এলাকায় ...

সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর প্রত্যাবর্তন

সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর প্রত্যাবর্তন

প্রলংয়করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর বাড়ি ফিরেছেন শরণখোলা ...

সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির জেল

সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির জেল

সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ...

আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদের চিঠি

আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদের চিঠি

আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে সময় চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ...

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দেশবাসী ক্ষমা করবে না: বি. চৌধুরী

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দেশবাসী ক্ষমা করবে না: বি. চৌধুরী

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন ...

মিটু আন্দোলন: যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলাদেশের নারীরাও

মিটু আন্দোলন: যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলাদেশের নারীরাও

যৌন নিপীড়নের শিকার যে কেউ হতে পারে। শুধু নারী ও ...

নির্বাচনকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই: আসাদুজ্জামান নূর

নির্বাচনকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই: আসাদুজ্জামান নূর

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, 'নির্বাচনকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ ...

পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি: গণপূর্ত মন্ত্রী

পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি: গণপূর্ত মন্ত্রী

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে বলে আশা প্রকাশ ...