নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই

স্মৃতি অমলিন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

তারেক মাহমুদ সজীব

সুহৃদ সমাবেশের যাত্রা শুরু থেকে তার শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত যিনি সবসময় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন সুহৃদদের সব প্রয়োজন ও আয়োজনে, নিয়মিত দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিটি পদক্ষেপে, ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন জটিল-কঠিন সময়ে, তিনি আমাদের প্রিয় সম্পাদক বরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার। গত ১৩ আগস্ট তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। দেশব্যাপী সুহৃদের নানা আয়োজনে চিরতরুণ এই মানুষটি সুহৃদদের আহ্বানে ছুটে গিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, গড়েছেন ভালোবাসার সম্পর্ক। সুহৃদ সমাবেশের

সশ্রদ্ধ নিবেদন...

১৩ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রিয় মানুষ গোলাম সারওয়ার। তার সঙ্গে স্মৃতি অনেক। ছাত্রজীবন থেকেই তার সঙ্গে তৈরি হয় একরকম আত্মার সম্পর্ক। ২০০৯ সালে ঢাকা কলেজে মাদকবিরোধী তারুণ্য সমাবেশ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অতিথি হয়ে। সুহৃদ হিসেবে সেবার তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেওয়ার সৌভাগ্যও হয়েছিল। পড়াশোনার পাঠ চুকানোর পর বেশিরভাগ সময়ই কাটত সমকাল অফিসে। সুহৃদের মাসিক সমন্বয় সভায় সারওয়ার ভাই সবসময়ই উৎসাহ দিয়েছিলেন লেখালেখি করার জন্য, দিয়েছেন বিভিন্ন দিকনির্দেশনা। মূলত তারই অনুপ্রেরণায় ফিচার বিভাগের বিভিন্ন পাতায় পুরোদমে লেখালেখির কাজে লেগে পড়ি। পাশাপাশি চলতে থাকল সুহৃদের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের আয়োজন। স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে তারই হাত থেকে গ্রহণ করি সেরা সুহৃদ শাখার পুরস্কার। পেশাগত কারণে দু'বার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেও কখনোই সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। বরং নতুন করে যোগ হয়েছিল পেশাগত কাজের বিভিন্ন পরামর্শের জন্য বারবার তার কাছে যাওয়া। তার জাদুকরী ক্ষমতায় মুহূর্তেই সব সমস্যা উধাও হয়ে সম্ভাবনায় উঁকি দিত। কাকতালীয়ভাবে পেশাগত কাজে জড়িত হই একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়। এই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে প্রাণের সংগঠন, প্রিয় সংগঠন সুহৃদ সমাবেশের আদর্শিক চিন্তার সামঞ্জস্য থাকার কারণে এবার শুরু হয় নতুন আঙ্গিকে যৌথভাবে পথ পাড়ি দেওয়ার। এবারও যথারীতি কাণ্ডারির ভূমিকায় প্রিয় সারওয়ার ভাই। কোনো কাজ করার আগে শুধু বলতেন, 'ভালোভাবে কাজটা করে এসো আর কোনো কিছু লাগলে আমাকে জানাবে।' কতই না সহজ-সরল এই কথাগুলো। কিন্তু এ সহজ-সরল কথাগুলোই কর্মক্ষেত্রে যে কতটা মানসিক শক্তি, কতটা সাহস জোগায় তা বাস্তবে প্রকাশ সম্ভব নয়। সারওয়ার ভাই ছিলেন বলেই এত অল্প সময়ই অনেকটা পথ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে পেরেছি আমরা। সর্বশেষ কয়েক সপ্তাহ আগেই তার সঙ্গে কথা হয় অসহায়, দুঃস্থ মানুষের জন্য বড় আকারে একটা স্বাস্থ্যসেবা অনুষ্ঠান আয়োজন করার বিষয়ে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পর বলেছিলেন, 'আমি থাকব তোমাদের এই অনুষ্ঠানে'।

সারওয়ার ভাই, আপনার আদেশ মতো আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। আজ শুধু আপনি নেই। এছাড়া আরও একটা সুসংবাদ দেওয়ার ছিল আপনাকে। ভেবেছিলাম আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে এলে সেই সুসংবাদটি আপনাকে দেব। তা আর আপনাকে দেওয়া হলো না। আমিও সেই সুসংবাদটি আজ বুকের ভেতর চাপা দিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে শুধু বলছি, ওপারে ভালো থাকবেন- প্রিয় সারওয়ার ভাই।
 
সভাপতি

সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি

পরবর্তী খবর পড়ুন : 'আবার দেখা হবে'

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ...

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অভাবী মানুষের কিডনি বেচাকেনা আবারও বেড়েছে। অভাবের ...

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার দু'পক্ষের ...

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন অব বাংলাদেশকে (জেএমবি) চাঙ্গা ...

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রাত ১১টার পর বন্ধ করে দেয়া ...

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশ প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছে। এমন একটা কথা ...

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ ও বিশ্ব ...

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

লিজা আক্তার। বয়স মাত্র ৬ বছর। চোখের সামনে বাবা ট্রেনে ...