ভোটের হাওয়া: নীলফামারী-২

বড় দলে নেই মনোনয়নযুদ্ধ

একক প্রার্থিতা নিয়ে টানাটানি ২০ দলীয় জোটে

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮      

সাকির হোসেন বাদল, নীলফামারী

দেশের অন্যসব আসনের তুলনায় একেবারেই অন্য রকম নীলফামারী-২ (সদর) আসনের নির্বাচনী চিত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা- তিনটি দলের মাত্র তিনজন প্রার্থী এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু। তিন সম্ভাব্য প্রার্থীই নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটেও মনোনয়ন নিয়ে কোনো সংকট নেই- আসাদুজ্জামান নূর যে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন, সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। ভোটারদের মধ্যেও তার অবস্থান শক্ত। যদিও দলীয় কোন্দল বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকের ধারণা।

তবে ২০ দলীয় জোটের ক্ষেত্রে একক প্রার্থিতা নিয়ে চলছে টানাটানি। কারণ, এ আসনে বিএনপি সব সময়ই জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। যদিও আগামী নির্বাচনে এমন নির্ভরতা থাকবে না বলে আভাস দিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছেন, এককভাবে নির্বাচনে টেক্কা  দেওয়ার মতো দৃঢ় অবস্থান বিএনপির নেই। যদিও তারা জামায়াতকে ছাড় দিতে চাইছে না। তবে জামায়াতের বিশ্বাস, জোটগত নির্বাচন হলে এ আসনে তাদের বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বর্তমানে দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। নেতাকর্মীরাও তাই বিভক্ত দুই ভাগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জেলা সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক একসঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না। দুই নেতার এ দূরত্ব সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে এ দ্বন্দ্বের শুরু বলে জানান নেতাকর্মীরা।

দেওয়ান কামাল আহমেদ নীলফামারীতে পরপর পাঁচবারের পৌর মেয়র। রাজনীতির মাঠেও তিনি বেশ সক্রিয়। নেতাকর্মীদের কাছেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তবে জেলা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনে দলের একটা বড় অংশ তার সঙ্গে না থাকায় পরাজিত হন তিনি। এ ঘটনার পর দুই নেতার দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। দ্বন্দ্বের সূত্রে এখানে দলীয় অনুষ্ঠানও পালন করা হয় আলাদাভাবে।

তবে এ দুই নেতার কেউই আগামী নির্বাচনে নীলফামারী-২ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূর আবারও নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে লড়বেন বলে নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। তাদের ভাষায়, তিনবারের এমপি আসাদুজ্জামান নূরের দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তার কোনো বদনাম নেই। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, যে কেউই দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তার বিশ্বাস, তিনি এলাকার জন্য কাজ করেছেন। মানুষের পাশে থেকেছেন। তাই তিনি দলের মনোনয়নের অন্যতম দাবিদার হতেই পারেন। তিনি আরও বলেন, এ জেলায় দলের অবস্থান বেশ সুসংহত। কোনো বিরোধ নেই। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। আর তার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়ন হয়েছে। সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত রেললাইনের আধুনিকীকরণ হয়েছে। এখন সব আন্তঃনগর ট্রেন চিলাহাটি পর্যন্ত চলাচল করছে। সৈয়দপুর থেকে নীলফামারী সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন। মঙ্গাও বিদায় নিয়েছে।

তবে এ আসন পুনর্দখলের চেষ্টা করছে বিএনপি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান নানা কৌশলে আগেভাগেই ভোটের ময়দানে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার স্বচ্ছ ইমেজের পাশাপাশি রয়েছে জনপ্রিয়তাও। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো তার। আর স্থানীয় বিএনপিতে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব-বিবাদ না থাকায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় এই সহসাংগঠনিক সম্পাদক।

সামসুজ্জামান বলেন, জোটের কারণে তারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দিয়েছিলেন। কিন্তু আগামী নির্বাচনে কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ, জামায়াতে ইসলামীকে কয়েকবার ছাড় দেওয়া হলেও তাদের প্রার্থী একবারও জয় পাননি। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন হলে এ আসনে আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় হবে। বিএনপি জয়ী হবে।

অবশ্য এ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু। তার বক্তব্য, জামায়াতে ইসলামী ছাড়া এ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন আর কে পাবেন? তিনিই এ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাবেন। তা ছাড়া জোটগতভাবে এ আসন জামায়াতে ইসলামীর জন্যই বরাদ্দ। কারণ, এ আসনে জামায়াতের অবস্থান সব সময়ই সংগঠিত। কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রিয়তার বিচারে বিএনপির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

আরও পড়ুন

সবই কি 'চাষের মাছ'

সবই কি 'চাষের মাছ'

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশের অস্থায়ী সান্ধ্য কাঁচাবাজারে এক মাছের ...

সম্পর্কে ঈর্ষা

সম্পর্কে ঈর্ষা

সম্পর্কে ঈর্ষা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে সঙ্গীর জন্য যদি ...

বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই: তোফায়েল

বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই: তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, 'বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই। তারা ...

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে 'বালিঘর'

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে 'বালিঘর'

আরও একটি যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্রের ঘোষণা এলো। কলকাতার বর্তমান সময়ের ...

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ'লীগের ভরাডুবি হবে: ফখরুল

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ'লীগের ভরাডুবি হবে: ফখরুল

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হলে এবং সব মানুষ ভোট দিতে ...

কুমারখালীতে ১৪৪ ধারা

কুমারখালীতে ১৪৪ ধারা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা জাসদ ও ছাত্রলীগ একই স্থানে সভা ডাকায় ...

৮৮ বছর ধরে মাটি খাওয়া যার অভ্যাস

৮৮ বছর ধরে মাটি খাওয়া যার অভ্যাস

প্রতিদিন ভাত-রুটি না হলেও চলে কিন্তু মাটি না খেয়ে  একদিনও ...

পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসতে পারে মঙ্গলবার

পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসতে পারে মঙ্গলবার

চলতি সপ্তাহেই পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর অপেক্ষায় রয়েছে সেতু ...