তীব্র শীতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দুর্ভোগে পড়েছে পঞ্চগড়বাসী; ছবিটি মঙ্গলবার সকালে শহরের তেঁতুলিয়া রোড থেকে তোলা—সমকাল

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। তবে কয়েকটি স্থান তাপমাত্রা ফের কমেছে। তীব্র শীতে কুড়িগ্রাম ও যশোরে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ পর রংপুরে সূর্যের দেখা মিলেছে।

মঙ্গলবার সমকালের রংপুর অফিস ও প্রতিনিধিরা জানান, তীব্র শীতে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের বাড়ছে দুর্ভোগ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাজ করতে পারছে না শ্রমজীবীরা। বিশেষ করে নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। হাড়কাঁপানো শীতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। রাজারহাট কৃষি ও সিনপটিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সকালে তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষক মো. জাকির হোসেন। এ ছাড়া সকালে দেখা মিলেছে রোদের। এ রোদ ছিল দিনভর। ফলে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সোমবার রাতে নবজাতক ও বৃদ্ধসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীনুর রহমান সরদার জানিয়েছেন, সোমবার রাতে নিউনেটাল টিটেনাস রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু বিথি (১৩ দিন), ব্রঙ্ককিয়াল অ্যাজমাসহ হার্ট ফেইলর হওয়ায় মালেকা (৬৫) এবং হৃদরোগে আব্দুর রহিম (৬৮) মারা গেছেন।

এ ছাড়া শীতজনিতসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার শিশু ওয়ার্ডে ৩৪ জন ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন কুড়িগ্রামের সান্ডারপাড়া বস্তির বাসিন্দারা-সমকাল

কেশবপুর (যশোর): শৈত্যপ্রবাহ ও তীব্র শীতে কেশবপুর উপজেলার জলাবদ্ধ এলাকার দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ, শিশু ও প্রবীণরা। জলাবদ্ধ এলাকায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা খড়ের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

সোমবার রাতে ঢাকাগামী 'কিংফিসার পরিবহনের' যাত্রী বাহারুল ইসলাম সরদার 'কোল্ড স্ট্রোকে' কেশবপুর হাসপাতালে মারা যান। তিনি পাইকগাছা উপজেলার ধামরাইল গ্রামের আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে।

'কিংফিসার পরিবহনের' সুপারভাইজার শাহজাহান কবির সমকালকে জানান, পাইকগাছা থেকে ওঠা ওই যাত্রী চুকনগর পার হওয়ার পর কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে যায়। দ্রুত কেশবপুর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া সোমবার রাতে 'কোল্ড স্ট্রোকে' গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সন্যাসগাছা গ্রামের তমিজ উদ্দিন ও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের স্ত্রী আনোয়ার বেগম মারা গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ আবু শাহীন বলেন, 'হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ ও শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর ও সর্দিকাশির রোগী বেশি।'

রংপুর: এক সপ্তাহ পর সূর্যের মুখ দেখতে পেল রংপুরবাসী। যুবক, বৃদ্ধ, শিশু সবাই রোদের উষ্ণতা পেতে খোলা মাঠে ও ছাদে আড্ডায় মেতেছিল। কাপড়গুলোও রোদে শুকিয়ে গরম করে নিয়েছে তারা।

আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার ছিল ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রংপুরের মানুষ প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়েছিল। এবার তাপমাত্রা ছিল ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে দুর্ভোগে পড়েছিল খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। তারা ঠাণ্ডায় কাজেও যেতে পারছিলেন না।

কৃষক শামসুল আলম জানান, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে জমিতে কাজ করার লোকও পাননি তিনি।

দিনাজপুর: ধীরে ধীরে দিনাজপুরের তাপমাত্রা উষ্ণ হতে শুরু করেছে। দিনাজপুরে সোমবারের তাপমাত্রা ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মঙ্গলবার ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা মিলেছে সূর্যের। তবে হিমেল বাতাসের প্রভাবে শীতের তীব্রতা তেমন কমেনি।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২ থেকে ৪ দিনের মধ্যে জেলার তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে, জেলা প্রশাসন ৭৩ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে। সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরও ৮০ হাজার শীতবস্ত্র চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ): চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে মানুষ। তাপমাত্রার আরও অবনতি হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এতে জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। তবে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম বেকায়দায়।

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়): পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, ৫০ বছরের ইতিহাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড এখন তেঁতুলিয়ায়। সোমবার সেখানে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে রাতে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। আর সকাল ৬টায় রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও এখনও তেঁতুলিয়া ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। গোটা আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে রয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে কৃষি শ্রমিক, রিকশাভ্যান চালক আর খেটে খাওয়া মানুষ। ঠাণ্ডার কারণে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা): মধ্য পৌষ পর্যন্ত শীতের দেখা না মিললেও পৌষের শেষভাগে জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে ঠাণ্ডায় অনেকটা বিপর্যস্ত উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার ফুলছড়ি। হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। খেটে খাওয়া দিনমজুরদের দুর্ভোগ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

শীতার্তদের মধ্যে গরম কাপড় দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। আর শিশুদের ব্যাপারে বাবা-মাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সকাল থেকেই কুয়াশায় ঢাকা গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সাত ইউনিয়নের গ্রাম, রাস্তাঘাট। গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেকেই আগুনের পাশে সময় কাটান। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে কাজকর্ম সারতে হয়েছে গৃহিনীদের।

আসছে ভোট, প্রস্তুত ইসি

আসছে ভোট, প্রস্তুত ইসি

একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা এবং ...

আজ শুভ বিজয়া দশমী

আজ শুভ বিজয়া দশমী

সব পূজামণ্ডপের বাতাসেই এখন বিষাদের ছায়া। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ...

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

যশোরের শঙ্করপুরে দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিল্লু পারভেজ নামে ...

নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়লেন মা!

নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়লেন মা!

নবজাতককে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ...

দেখা হবে গানেই

দেখা হবে গানেই

আইয়ুব বাচ্চুকে আর চোখে দেখব না; তার গান শুনব খোলা ...

খাসোগির সন্ধানে 'জঙ্গলে তল্লাশি' পুলিশের

খাসোগির সন্ধানে 'জঙ্গলে তল্লাশি' পুলিশের

সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগির অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে ...

প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ে ডিসেম্বরেই

প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ে ডিসেম্বরেই

১০ বছরের ছোট মার্কিন সংগীত শিল্পী নিক জোনাসের সঙ্গে বাগদান ...

১০০ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি

১০০ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জোট সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন ...