ভোটের হাওয়া: ভোলা-২

আওয়ামী লীগের ভরসা মুকুল বিএনপির পছন্দে হাফিজ

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

নাসির লিটন, ভোলা ও জোহেব হাসান, বোরহানউদ্দিন

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলের বর্তমান এমপি আলী আজম মুকুলকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন আগামী নির্বাচনেও। একসময় সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিল এ আসনে। ওয়ান-ইলেভেনের পর এ অবস্থান দুর্বল হলেও এখনও তৃণমূলের ভরসা তাকে ঘিরেই।

এমপি আলী আজম মুকুল নদীভাঙন রোধে ৫৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, তেঁতুলিয়ার ভাঙন রোধে দুই কিলোমিটার এলাকায় ব্লক বাঁধ স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছেন। দলের তরুণ নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার সখ্য রয়েছে। দলের স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান  কোনো বিরোধ নেই। আসনটি আবারও দলের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলী আজম মুকুল এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এমপি মুকুল সমকালকে বলেন, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানে আওয়ামী লীগ এখন সুসংগঠিত। প্রতিনিয়ত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে তিনি আসনটিকে দলের দুর্গে পরিণত করেছেন। বিজয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী এই এমপির বিশ্বাস, দলের মনোনয়ন পেয়ে তিনি বিপুল ভোটে জিতবেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন- জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছেলে ড. আশিকুর রহমান শান্ত ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। তবে এমপি মুকুল বলেন, এলাকার জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ড. আশিকুর রহমান শান্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়নে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এবার তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন। আবুল কালাম আজাদও দলীয় মনোনয়নের আশায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সীমিত।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম উভয়েই বলেন, আলী আজম মুকুল ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। এ আসনে তার বিকল্প কেউ নেই। কারণ আরও যারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, তাদের একজন আওয়ামী লীগের কেউ নন। অন্যজন এলাকায়ই থাকেন না। এলাকায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই।

এ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভরসা সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম দীর্ঘদিন এলাকায় না আসতে পারলেও তাকে ঘিরেই দলের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলার কারণে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এখনও তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুমেন বলেন, জেল-নির্যাতন উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বেই সংগঠিত রয়েছে। দলের মনোনয়ন আরও অনেকেই চাইতে পারেন; কিন্তু জয়ের জন্য তাকেই প্রয়োজন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার আলম খান বলেন, আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হলে হাফিজ ইব্রাহিমের বিকল্প নেই।

বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন শ্রমিক দলের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম মমিন, ড্যাবের সহসভাপতি ডা. সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম। তবে সরোয়ার আলম খান ও কাজী ইকবাল তাদের সম্পর্কে বলেন, এলাকায় তাদের ভিত্তি নেই এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কোনো সখ্য নেই। প্রায় একই মন্তব্য করেন হাফিজ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য তিন নেতার রাজনৈতিক কোনো ভিত্তি নেই।

হাফিজ ইব্রাহিম জানান, ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি তিনি পুনর্গঠন করেছেন। হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন, যাদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। ভোটারদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখছেন। আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এই নেতা আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী পার্টির জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কেফায়েত উল্যাহ নজীব জানান, পার্টির জেলা সভাপতি হিসেবে তিনি সবার আস্থাশীল এবং এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

জাতীয় যুব সংহতির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করছেন। নির্বাচনী মাঠেও সক্রিয় রয়েছেন। ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে চাইছেন কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট হাসনাইন আহমেদ সুজন ও ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জহিরুল ইসলাম এমরান। জেলা ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান মমতাজী জানান, যোগ্যতার ভিত্তিতে দুই নেতার একজনকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এ আসনে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির হাফিজ ইব্রাহিম, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদ আসনটি ছেড়ে দিলে তার ভাতিজা আলী আজম মুকুল নির্বাচিত হন।

বিষয় : ভোটের হাওয়া

পরবর্তী খবর পড়ুন : বসন্ত এসে গেছে...

জনতার হাতে ইয়াবাসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

জনতার হাতে ইয়াবাসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ইয়াবাসহ মো: ইকরাম হোসেন নামে পুলিশ ব্যুরো ...

রাজধানীতে ষাঁড়ের গুঁতোয় প্রাণ গেল পথচারীর

রাজধানীতে ষাঁড়ের গুঁতোয় প্রাণ গেল পথচারীর

রাজধানীর পোস্তগোলায় ষাঁড়ের গুঁতোয় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে ...

অভিনেত্রী নওশাবার জামিন নামঞ্জুর

অভিনেত্রী নওশাবার জামিন নামঞ্জুর

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন ...

কোটা নিয়ে মতামত দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

কোটা নিয়ে মতামত দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে ...

কলেজছাত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

কলেজছাত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

পাবনার সাঁথিয়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের শরীরে পেট্রোল ঢেলে ...

এবার যৌন কেলেঙ্কারিতে 'মি-টু' নেত্রী

এবার যৌন কেলেঙ্কারিতে 'মি-টু' নেত্রী

ইটালিয়ান অভিনেত্রী আসিয়া আর্জেন্টোর বিরুদ্ধেই এবার যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ...

বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা নেই কোনো কারখানায়: বিজিএমইএ

বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা নেই কোনো কারখানায়: বিজিএমইএ

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস নিয়ে ...

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে

ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের আগে গ্রেফতার করতে ...