ভোটের হাওয়া: হবিগঞ্জ-১

আওয়ামী লীগে টানাপড়েন স্বস্তি বিএনপি-জাপায়

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০১৮     আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা

একসময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনটি ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনের পর থেকে হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ দলে এবার নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে পারস্পরিক অনাস্থা ও নানা টানাপড়েন। সে তুলনায় বেশ স্বস্তিতেই রয়েছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।


ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের স্বার্থে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়েছিল জাতীয় পার্টিকে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তখন নির্বাচিত হন জাপার কেন্দ্রীয় নেতা মুনিম চৌধুরী বাবু। এবারও আসনটি জাপাকে ছেড়ে দিতে হলে আওয়ামী লীগে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দেবে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।


তবে জাপা চাইছে, এবারের নির্বাচনেও জোট থেকে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে। 


আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর মেয়ে হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের বর্তমান নারী সাংসদ অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, প্রয়াত রাজনীতিক দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। 


এ বিষয়ে সাংসদ ও অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের কল্যাণে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বিশেষ করে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবহেলিত গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতায়ন ও চা শ্রমিকসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। এমপি কেয়া চৌধুরী বলেন, নেত্রী তার পরিশ্রম ও তার প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মূল্যায়ন করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটের সংখ্যাধিক্যে তিনি আসনটিকে পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।


মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী বলেন, ৩০ বছর ধরে তিনি দল ও এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রায় ছয় বছর ধরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তার নির্বাচনী এলাকাসহ সমগ্র হবিগঞ্জ জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি বলেন, যারা আজ নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী তাদের সঙ্গে দল ও সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। 


মনোনয়নপ্রত্যাশী শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী জানান, গত নির্বাচনে দল ও মহাজোট থেকে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেশ, জাতি ও মহাজোটের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তিনি জানান, নেত্রী তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নেত্রীর প্রতিশ্রুতির ওপর তার পুরো আস্থা রয়েছে। 


নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, ৩৮ বছর ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভোট নবীগঞ্জ উপজেলায়। আর এখানে তিনি সরাসরি নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। তিনি শতভাগ আশাবাদী যে, দল তাকে মূল্যায়ন করবে এবং আসনটি পুনরুদ্ধার হবে। 


আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপির মনোনয়ন পরিস্থিতি বলতে গেলে পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ সুজাতই হয়তো পাবেন ধানের শীষের টিকিট। তবে বছরের অধিকাংশ সময় বিদেশে অবস্থান করায় তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের মধ্যে চাপা ক্ষোভও রয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক প্রবাসী বিএনপি নেতা শাহ মোজাম্মেল হক নান্টু। 


নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও নবীগঞ্জ পৌর মেয়র আলহাজ ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, তারা জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষে আলহাজ শেখ সুজাত মিয়ার বিজয় নিশ্চিত।


মহাজোটের কল্যাণে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপি এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু এবারও জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। তবে প্রবাসী জাপা নেতা আবদুল হামিদও জোর লবিং চালাচ্ছেন মনোনয়নের জন্য। এ প্রসঙ্গে এমপি মুনিম চৌধুরী বাবু সমকালকে বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে ৪৩ বছরই বাহুবল-নবীগঞ্জ অবহেলিত ছিল। কিন্তু তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে- যে কাজ ৪৩ বছরে হয়নি, সে কাজ হয়েছে মাত্র পাঁচ বছরে। তিনি দুটি স্কুল-কলেজকে সরকারি করেছেন, ৫০টি রাস্তা ও ৩৮টি ব্রিজ নির্মাণ করেছেন। তার সময় ৯১টির বেশি গ্রামে বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এককভাবেই হোক আর জোটগতভাবেই হোক, এমপি পদে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত- এমন আভাসই পেয়েছেন তিনি। 


এ আসনে জামায়াতে ইসলামী বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তেমন নির্বাচনী তৎপরতা নেই। তবে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসও এ আসনে জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলটির জেলা সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল কাইয়ুম জাকী এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, বাহুবল-নবীগঞ্জে তাদের দলীয় অবস্থান দেশের অনেক এলাকার তুলনায় মজবুত। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে পৃথক নির্বাচন করে তারা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রকাশও ঘটিয়েছেন। এ আসন থেকে তিনি তার দলের ও জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে জোটের যে কোনো সিদ্ধান্তই মেনে নেবেন তারা। 


এ ছাড়াও এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ।

বিষয় : ভোটের হাওয়া

পরবর্তী খবর পড়ুন : এখানে রূপারা নিরাপদ

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...