প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

রাজশাহীর মঠপুকুরে মিলল বারো শতকের নন্দী মূর্তি

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

রাজশাহীর মঠপুকুরে পাথরের তৈরি এই ষাঁড়ের মূর্তি খুঁজে পায় দুই কিশোর ইমন ও লাম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরে সেটি সপুরা শিল্পনগরী পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়- সমকাল

মুদ্রা খুঁজতে গিয়ে রাজশাহী নগরীর সপুরা এলাকার মঠপুকুরে একটি নন্দী মূর্তি পেয়েছে দুই কিশোর। ষাঁড়ের মতো দেখতে এই মূর্তিটি শিবের বাহন হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার মঠপুকুরে পাওয়া নন্দী মূর্তিটি কালো পাথরের তৈরি এবং যদি তা-ই হয়, তাহলে এটি অন্তত বারো শতকের আগে তৈরি হওয়া একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। গবেষক ও পণ্ডিতদের মতে, বাংলায় তুর্কি অভিযানের পর আর কালো পাথরের মূর্তি তৈরি হয়নি। ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে বাংলায় ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির অভিযানের পর হিন্দুরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মূর্তি পুকুরের পানিতে অথবা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেছিল।


রাজশাহীর সপুরা এলাকার মঠপুকুরে প্রচুর প্রাচীন মুদ্রা, চাঁদির মোহর, আংটি ও মালা পাওয়া গেছে। এসব প্রাচীন নিদর্শন খুঁজে পাওয়ার লোভে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ পুকুরটিতে অনেক দিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা খুঁজে পাওয়া ওই সব নিদর্শন মুদ্রা সামান্য মূল্যে বিক্রিও করে দিচ্ছে।


প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, 'প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে নন্দী মূর্তির গুরুত্ব অপরিসীম। নন্দী শিবের বাহন হলেও নন্দীকে আলাদা করেও নির্মাণ করা হতো। এটি পাওয়া গেলে অবশ্যই আমাদের গবেষণার প্রয়োজন হবে।' বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের উপ-প্রধান সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস প্রাপ্ত মূর্তিটির ছবি দেখে নিশ্চিত করেন, 'এটি একটি নন্দী মূর্তি। দেখেই মনে হচ্ছে, এটি একটি অমূল্য সম্পদ। মূর্তিটি যদি কালো পাথরের হয় তাহলে এটি বারো শতকের দিককার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এর শিল্প ও প্রত্নমূল্য অনেক।'


হেরিটেজ রাজশাহীর প্রতিষ্ঠাতা মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, তার ধারণা, সপুরার মঠপুকুরটি ১৭৫০ সালের পর খনন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'মারাঠা বর্গি হামলার পর ১৭৪২ সালের দিকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এসে মুর্শিদাবাদে আশ্রয় নেয়। তাদেরই কেউ কেউ রাজশাহীতে এসে রেশম ব্যবসা করত এবং সপুরা অঞ্চলে যারা বাস করতে শুরু করে, তারা ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তারাই এই মঠটি তৈরি করে এবং দেবতাদের সম্মান জানাতে তারা মঠ ও পুকুরে পয়সা ছিটাত।' তাহলে এই পুকুরে বারো শতকের কালো পাথরের মূর্তি কীভাবে আসবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'এমন হতে পারে, এখানকার বাসিন্দারা অন্য কোথাও থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসেছিল।'


রোববার দুপুরে মঠপুকুরে গিয়ে দেখা গেছে, ১২ বছর বয়সী কিশোর লাম মোহাম্মদ ও ইমন বাদশা পুকুরে গুপ্তধন খোঁজাখুঁজি করছে। এই দুই কিশোরই গত বৃহস্পতিবার পুকুর থেকে নন্দী মূর্তি খুঁজে পায়। পুকুরপাড়েই ছিলেন রঙমিস্ত্রি চান মিয়া (৪০) ও বিসিকের ঝাড়ূদার অমর দাস (৬০)। বৃহস্পতিবার কিশোর লাম ও ইমন নন্দী মূর্তিটি পাওয়ার পর অন্য দু'জন তাদের কাদার নিচ থেকে এটি বের  করে আনতে সহায়তা করে। তারা চারজনই ইতিপূর্বে পুকুরে অনেক মুদ্রা খুঁজে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। লাম মোহাম্মদ জানায়, সে সাতটি প্রাচীন মুদ্রা খুঁজে পেয়েছে। তার বন্ধু ইমনও পেয়েছে বেশ কয়েকটি। চান মিয়া পেয়েছেন ২২টি মুদ্রা। চান মিয়া জানান, এর মধ্যে রাজমুকুটের মুদ্রা, ন্যাড়া মাথার মুদ্রা, পাকিস্তানি মুদ্রা রয়েছে। একটি চাঁদির মোহরও পেয়েছিলেন তিনি। প্রতিটি মুদ্রা পুকুরপাড়েই ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে চাঁদির মোহরটি তিনি বিক্রি করেছেন ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া কিছু তামার আংটি ও মালা পেয়েছেন তিনি। সেগুলো সামান্য দামে বিক্রি করেছেন। বিসিকের সুইপার অমর দাস জানান, তিনি পেয়েছেন তিনটি মুদ্রা।


লাম জানায়, বৃহস্পতিবার মুদ্রা খুঁজতে গিয়ে সে প্রথমে মাটির নিচে পাথরের মাথা দেখতে পায়। এর পর কিছুক্ষণ সেটি তোলার চেষ্টা করে না পেরে বন্ধু ইমনকে জানায়। তারা দু'জন চেষ্টারত থাকতেই পাশে থাকা চান মিয়া ও অমর দাস এসে হাত লাগান। এক পর্যায়ে অমর দাস মূর্তিটি একটি রিকশায় তুলতেই পুলিশ এসে তা বিসিক ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তাদের অনুমান, মূর্তিটির ওজন ১০০ কেজির বেশি হবে।


প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, 'এই পুকুরটি অনেক প্রাচীন। ঘাটটি ভাঙা; কিছুতেই ঠিক হয়নি। ঘাট না ভাঙলে বুঝতে পারতাম, এটা কত প্রাচীন।' মুদ্রা বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা শুনে তিনি বলেন, 'সর্বনাশ! এগুলো প্রাচীন সম্পদ; বিক্রি করা ঠিক হচ্ছে না। আমি পুকুরটিতে লোক না নামার জন্য এখনই প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।'


নগরীর বিসিক শিল্পনগরীর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা জানান, পুকুরটি ভারতীয় হাইকমিশনের টাকায় সংস্কার করছে সিটি করপোরেশন। মাটি-পানি, কাদায় ডুবে থাকা মূর্তিটি দুই শিশু এবং দু'জন লোক উদ্ধার করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। পরে তা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাখা হয় এবং সেখান থেকে বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, 'আদালতের নির্দেশে মূর্তিটি কোথায় রাখা হবে তা নির্ধারণ করা হবে। আপাতত থানাতেই রাখা হয়েছে।'

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...