চট্টগ্রামে ২৩ পাহাড়ে তিন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোপ

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সারোয়ার সুমন ও আবু সাঈম, চট্টগ্রাম

নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করতে দুটি পাহাড় কেটে জলাধার নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। হাউজিং প্রকল্পের প্রয়োজনে তিনটি পাহাড় কেটেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। একই কারণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (চউক) কেটেছে তিনটি পাহাড়। এ সংস্থার উদ্যোগে আরও ১৫টি পাহাড় কাটা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য। এভাবেই সরকারি তিন প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া কোদালের কোপে চট্টগ্রামে একের পর এক পাহাড় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রয়োজনে পাহাড় কাটতে হলে 'পরিবেশ নিরূপণ প্রভাব' বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে। কিন্তু চট্টগ্রামের তিন সরকারি প্রতিষ্ঠান পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। অনুমোদন ছাড়া আরেফিন নগরে পাহাড় কাটার অপরাধে চউককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সলিমপুরে পাহাড় কাটার দায়ে চউকের প্রধান প্রকৌশলী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে ওয়াসাকেও। একই অপরাধে মামলা হয়েছে চসিকের বিরুদ্ধে। এর পরও পাহাড় কাটার উৎসাহ কমেনি কারও।

চসিকের আবাসন ও রাস্তা :পাহাড় কেটে নগরে তিনটি হাউজিং প্রকল্প গড়েছে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে নব্বই দশকে উত্তর খুলশীতে 'কোবে সিটি হাউজিং' প্রকল্প হাতে নেয় সংস্থাটি। দুই ভাগে বিভক্ত এ প্রকল্পে ৮০টি প্লট নির্মাণ করা হয়েছে পাহাড় কেটে। একইভাবে ২০০৪ সালে নগরীর কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনির পাশে পাহাড় কেটে 'লেকসিটি হাউজিং' প্রকল্পের ৭৩২টি পল্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ জন্য কাটা হয়েছে ২০৭ থেকে ২১০ এবং ২১৫, ২১৬, ৭৬১ থেকে ৭৬৭ দাগের পাহাড়। এ ছাড়া নগরীর দক্ষিণ খুলশীতে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ৭৫ প্লটের 'ভিআইপি হাউজিং সোসাইটি'। এ তিনটি প্রকল্পের আওতায় পাহাড় কাটার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো অনুমোদন নেয়নি চসিক। নিয়ম অনুসরণ না করায় দীর্ঘদিন এসব প্রকল্পের অনুমোদন আটকে রাখে চউক। এদিকে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে পাহাড় কেটে মেয়র বাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছাড়পত্র না নেওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর চসিককে জরিমানা করে। পরে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করে এ প্রকল্পের অনুমোদন নেয় চসিক।

এ ছাড়া অনুমোদন ছাড়া দক্ষিণ খুলশীর কবরস্থান এলাকার পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়েছে চসিক। সংশ্নিষ্টরা জানান, এই রাস্তা হলে স্থানীয় বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি ও ডেবারপাড় এলাকার বাসিন্দারা প্রায় এক কিলোমিটার পথ না ঘুরে ১০-১৫ মিনিটে মূল সড়কে আসতে পারবে। জনস্বার্থে তাই এই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুমতি না নিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তায় বানানোয় চসিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

পাহাড় কেটে রাস্তা বানাচ্ছে চউক :পাহাড় কাটায় পিছিয়ে নেই ইমারত ও আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড ও বায়েজিদ বোস্তামী রোডের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় কেটেছে তারা। নগরীর আরেফিন নগর ও সীতাকুণ্ড পয়েন্টে ১৫টি পাহাড় কেটে ছয় কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে সংস্থাটি। এজন্য তাদের নোটিশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানিতে অংশ নিয়ে দোষ স্বীকার করেও পাহাড় কাটা বন্ধ করেনি চউক। এজন্য সংস্থাটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।

নোটিশ দিয়ে, জরিমানা করেও তাদের থামানো যায়নি। এ প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে শেরশাহ বাংলাবাজার থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকায় বেশ কয়েকটি পাহাড় কাটা হয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে কাটা হবে আরও প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে কাটা পড়বে উত্তর পাহাড়তলী, জঙ্গল সলিমপুর, জঙ্গল লতিফপুর মৌজার আরও ১৮টি দাগের পাহাড়। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ৭৭৩-৭৭৪, ৩০১, ২০০, ১৯৮, ১৩৯, ১৯৫, ১৮৭, জঙ্গল সলিমপুরের ৩৬১, ৩৫৯, ৩৫৭-৩৫৮ এবং জঙ্গল লতিফপুর মৌজার ৬২, ৬০-৬২ ও ৩৪ নম্বর দাগের পাহাড়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন ও অনুসন্ধানের পর বিভিন্ন মৌজার ৩৫৭, ৩৫৮ ও ৩৫৯ দাগের পাহাড় কাটার প্রমাণও পায় তারা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ উপেক্ষা করে সীতাকুণ্ডের সলিমপুরেও পাহাড় কেটে হাউজিং প্রকল্প তৈরি করছে চউক। এজন্য প্রকল্প এলাকার পূর্ব পাশের ২০০-৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় কাটা হয়েছে। পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে সলিমপুর প্রকল্পের পশ্চিম পাশের জলাভূমি ভরাট করে ৭০টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। এর আগে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয় এক হাজার ২০০টি প্লট।

এখানেই শেষ নয়- অনুমতি না নিয়ে পাহাড় কাটার অপরাধে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার পরও আরেফিন নগরে পাহাড় কেটে রাস্তা বানাচ্ছে চউক। এখন পর্যন্ত পাঁচটি পাহাড় সাবাড় করেছে তারা। কাটা পড়বে আরও ১০টি।

পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে মুনশিয়ানা দেখিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। জলাধার নির্মাণের সময় তারা পাহাড় কাটার কোনো প্রমাণও রাখেনি আশপাশে।

কে কী বলেন :চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, পাহাড় কেটে তিনি কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেননি। পাহাড় কেটে যেসব প্রকল্প হয়েছে সেগুলো আগের মেয়রের সময়ে গৃহীত। সাবেক মেয়র পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে পাহাড়ের ওপর বাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মেয়র হয়ে এ প্রকল্পের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন নিয়েছেন বলে জানান মেয়র নাছির।

যথাযথ নিয়ম মেনেই আরেফিন নগরে কিছু পাহাড় কাটা হয়েছে বলে দাবি চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের। তিনি সমকালকে বলেন, প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। পাহাড় রক্ষার দায়িত্বও সরকারের। চউক কেবল নির্দেশনা পালন করে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, রিজার্ভার তৈরির জন্য তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী পরিচালক খন্দকার তাহাজ্জুত আলী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে চউকের পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে। তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তারা ছাড়পত্রের জন্য ঢাকায় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। এখনও তারা ছাড়পত্র পায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বি. চৌধুরী ও জিএম কাদেরের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বি. চৌধুরী ও জিএম কাদেরের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আকস্মিক বৈঠক ...

অর্ধশত আসনে আসছে বিএনপির নতুন মুখ

অর্ধশত আসনে আসছে বিএনপির নতুন মুখ

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশত আসনে বিএনপির নতুন মুখ আসছেন। ...

মহাজোটের মনোনয়নে জাপার ৯ এমপি বাদ

মহাজোটের মনোনয়নে জাপার ৯ এমপি বাদ

খসে পড়তে পারেন জাতীয় পার্টির (জাপা) নয়জন এমপি। কারণ এলাকায় ...

আ'লীগের মনোনয়ন চান তিন শতাধিক নারী

আ'লীগের মনোনয়ন চান তিন শতাধিক নারী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছে তিন ...

বিএনপির শতাধিক নারী নেত্রী মনোনয়নপ্রার্থী

বিএনপির শতাধিক নারী নেত্রী মনোনয়নপ্রার্থী

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শতাধিক নারী নেত্রী দলীয় ...

'নিখোঁজ' ইলিয়াসের আসনে মনোনয়ন চান স্ত্রী লুনা

'নিখোঁজ' ইলিয়াসের আসনে মনোনয়ন চান স্ত্রী লুনা

সিলেট-২ আসনে বিএনপির ভরসা সাড়ে ছয় বছর আগে 'নিখোঁজ' ইলিয়াস ...

চট্টগ্রামে পক্ষীশালা

চট্টগ্রামে পক্ষীশালা

লাফিং ডাভ, ফিজেন্ট, রিং নেড প্যারোট, লাভ বার্ড, কোকাটেইল, ম্যাকাও- ...

বিএনপির ৬ প্রভাবশালী নেতা কঠিন চ্যালেঞ্জে

বিএনপির ৬ প্রভাবশালী নেতা কঠিন চ্যালেঞ্জে

বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী ৬ ...