খুনোখুনি বাড়ছেই সিলেট ছাত্রদলে

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

কমিটি নিয়ে বিরোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, দলীয় গ্রুপিং, টাকা-পয়সার ভাগ-বাটোয়ারা আর দলীয় কোন্দলের জেরে সিলেট ছাত্রদলে বাড়ছে খুনোখুনির ঘটনা। গত ২৬ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট ছাত্রদলে নিজ দলের লোকদের হাতে খুন হওয়া নেতাকর্মীর সংখ্যা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হাতে খুন হওয়া নেতাকর্মীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। যেন নিজ দলের মধ্যেই এখন আর নিরাপদ নন সিলেট ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একের পর এক হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে না আসামিরা। হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুর্বল অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে শাস্তি থেকে পার পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। খুনের বিচার না হওয়ায় দিন দিন হত্যাকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। হত্যার পর আসামিদের দলে প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 


ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সিলেট নগরের সভাপতি ও সাঈদ আহমদকে জেলার সভাপতি করে ছাত্রদলের আট সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি বর্ধিত করে ৭৬২ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়। পরদিন পদবিধারী নেতারা জিন্দাবাজারে নবগঠিত কমিটির সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মিছিল করে সমাবেশস্থলের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষকে ধাওয়া দেয় পুলিশ। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্টেম্ফারণ ঘটায়। এ সময় অন্তত সাতজন আহত হন। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ওই কমিটি গঠনের পর সিলেটজুড়ে তাণ্ডব চালায় ছাত্রদল। প্রায়ই পদবিধারী ও পদবঞ্চিতরা সংঘর্ষে জড়ায়। মূলত কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে ছাত্রদলের রাজপথে অবস্থান তখন থেকেই।


এ বছর সিটি নির্বাচনের আগে ১৩ জুন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন  কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হাসান। ২৮ সদস্যবিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে আলতাফ হোসেন সুমনকে সভাপতি, দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল মোতাক্কাবীর সাকীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। অপরদিকে মহানগর ছাত্রদলের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সুদীপ জ্যোতি এষকে সভাপতি, ফজলে রাব্বী আহসানকে সাধারণ সম্পাদক ও রুবেল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। 


সম্প্রতি ঘোষিত ওই কমিটি নিয়েও নগরজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে নানা কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদলের বিদ্রোহী একটি গ্রুপ। রাজু ছিল বিদ্রোহীদের দলে। গত ৯ জুলাই আরিফুল হক চৌধুরীর প্রচারণায় সিলেট এসে ছাত্রদলের বিদ্রোহীদের বাধার মুখে পড়েন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই দিন বিদ্রোহীরা ঘোষিত বর্তমান কমিটির দুই কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এরপর সিটি নির্বাচনের দিন ৩০ জুলাই ফল ঘোষণার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর গাড়িতে ওঠা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুর রকিবের। এ নিয়ে রাজুর সঙ্গে রকিবের বিরোধ দেখা দেয়। শনিবার রাতে বিজয় মিছিল শেষে নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাড়ির সামনে রকিব অনুসারীদের হাতে খুন হন সাবেক ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজু। 


এদিকে সম্প্রতি ঘোষিত কমিটিকে 'ভারসাম্যহীন' আখ্যায়িত করে কমিটি থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন বেশ কয়েকজন। এমনকি কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ মিছিলও করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলন করে তারা বিতর্কিত বিএনপি নেতার ইন্ধনে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলে আসছে অভিযোগ করে বলেন, প্রলোভনের মাধ্যমে অযোগ্য, অশিক্ষিত, অনভিজ্ঞ এবং অদূরদর্শী কর্মীদের সংগঠনের মূল দায়িত্বে মনোনীত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। 


সংবাদ সম্মেলনে তারা উল্লেখ করেন, সদ্য ঘোষিত কমিটির সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাছ ব্যবসায়ী এবং দাখিল পাস। কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার মুরগি ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতা নবম শ্রেণি। নগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ সিলেট আদালতের পেশাদার মুহুরি। সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী। কলেজে আসা-যাওয়া করেছেন কিছুদিন।


ছাত্রদল নেতাকর্মী ও বিভিন্নজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ১৯৯২ সালে সিলেটের বিশ্বনাথ কলেজে ছাত্রদলের কর্মী বিধান নিহত হন। সেই থেকে শুরু সিলেটে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে খুনোখুনি। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে অনেক খুনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে নিজেদের মধ্যে খুনের ঘটনাই বেশি। সর্বশেষ খুনের ঘটনা ঘটে রাজু হত্যার মধ্য দিয়ে। 


এমন পরিস্থিতিতে সিলেটে ছাত্রদল এক ধরনের সংকটকাল অতিবাহিত করছে বলে মনে করেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী। ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সঠিক নেতৃত্ব না আসায় পরীক্ষিতরা বাদ পড়ছেন। রাজনীতিতে প্রবেশ করেই অনেকে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছেন। 


সার্বিক অবস্থায় হতাশা এখন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, আগে সৌহার্দ্য ছিল। রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। প্রতিহিংসা ছিল না। এখন সবকিছুতেই প্রতিহিংসা। এ ছাড়া হত্যার পর মামলায় ঢিলেমিকে দায়ী করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, অনেক মামলায় আসামি ধরা পড়ছে না। আসামিদের দলে ঠাঁইও দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

'পটাকা'র লভ্যাংশ দেয়া হলো স্কুলে

'পটাকা'র লভ্যাংশ দেয়া হলো স্কুলে

উপস্থাপিকা থেকে নায়িকা হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। চলতি বছর ২৬ এপ্রিল ...

কবরীর  বাসায় ১৭ লাখ টাকা চুরি!

কবরীর বাসায় ১৭ লাখ টাকা চুরি!

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সারাহ বেগম কবরীর গুলশানের বাসায় ...

কোমর-পিঠ ব্যথায় কার্যকর ব্যায়াম

কোমর-পিঠ ব্যথায় কার্যকর ব্যায়াম

কোমর ও পিঠে ব্যথার সমস্যা খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ...

'আসল' খেলায় জ্বলে উঠুক টাইগাররা

'আসল' খেলায় জ্বলে উঠুক টাইগাররা

আকাশছোঁয়া অট্টালিকার সারি, ঝকঝকে শপিংমল, এমিরেটসের বৈভব ভরা বিমান মহল- ...

প্রেমের জন্য...

প্রেমের জন্য...

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে মায়া আক্তার (১৬) নামে ...

আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল শুরু

আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল শুরু

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিল শুরু হয়েছে। শুক্রবার ...

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফরে ...

রাঙামাটিতে ইউপিডিএফের ২ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটিতে ইউপিডিএফের ২ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) দুই ...