চাকরি হারানো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের সময় বড়সড় কয়েকটি অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনার তদন্ত করেছিলেন। বেশ কয়েকটি মামলাও করেছিলেন। বেশকিছু মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। এসব অভিযোগপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক প্রভাবশালী ও রাঘববোয়ালের নাম এসেছিল। এ কারণে স্বভাবতই ওইসব প্রভাবশালী ব্যক্তি তার ওপর ক্ষুব্ধ। ওই প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরাই শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা ও অনেক অভিযোগ দিয়েছিলেন। এখানে প্রতিহিংসার একটা ব্যাপার আছে বলে মনে হয়।

দুদকের যে আইন আছে, সেখানে কয়েক মাসের বেতন দিয়ে যে কাউকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার সুযোগ আছে। এ রকম আইন আরও অনেক প্রতিষ্ঠানেই আছে। এ ক্ষেত্রে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। ওই কর্মকর্তার অতীত বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) অতি উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি।

ওই ব্যক্তি হঠাৎ কেন চলনসই হয়ে গেলেন- সেটাও বোধগম্য নয়। কাজেই এখানে বিষয়টি আঁচ করা যায়; শরীফ উদ্দিনের তদন্তে বড় বড় প্রভাবশালীর নাম আসাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বলে আমি বলছি না- শরীফ উদ্দিন খুবই সৎ বা অসৎ ব্যক্তি। অসৎ হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নিয়ম আছে। সেই নিয়ম সঠিকভাবে দুদক অনুসরণ করেছে কিনা, জানি না। হঠাৎ এসিআরে কয়েক দফায় 'অতি উত্তম' মূল্যায়িত হওয়া কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হলে; আর ওই ব্যক্তির করা তদন্তে বড় বড় আমলা, পুলিশ, রাজনীতিবিদের মতো ব্যক্তির নাম আসার ঘটনা ঘটে; তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তার বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সেটা না করলে দুদকের কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দুদক দুর্নীতি রোধ করতে চাইছে; না প্রভাবশালীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে- সে প্রশ্ন মানুষের মধ্যে দেখা দেবে।

লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা