দীর্ঘদিন নিষ্ফ্ক্রিয় থাকার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সরব হয়ে উঠেছে বিএনপিপন্থিরা। তবে জিয়া পরিষদ ও সাদা দলে বিভক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনীতি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে দুই পক্ষ। ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সরব হওয়ার চেষ্টা করায় তাদের ঠেকাতে মরিয়া ছাত্রলীগও।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে জিয়া পরিষদের ব্যানারে ইবিতে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা। তবে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিষদ থেকে বের হয়ে সাদা দল নামে নতুন সংগঠন করেন কিছু শিক্ষক। এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। সদস্য সচিব অধ্যাপক এএসএম শরফরাজ নেওয়াজ।

গত ১০ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম ও জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফোরাম নামে দুটি পৃথক শাখাও তৈরি হয়েছে। গত রোববার জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দুই পক্ষ আলাদাভাবে র‌্যালি ও ইবি থানার সামনে স্থাপিত প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। এরপর মমতাজ ভবনের সামনে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করে সাদা দল।

জিয়া পরিষদ রবীন্দ্র নজরুল কলাভবনের গগণ হরকরা গ্যালারিতে আলোচনা সভা করেছে। অর্ধযুগ পর তারা প্রশাসনের অনুমতিতে এই সভা করে। সাদা দলের অনেক শিক্ষকের অভিযোগ, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের সঙ্গে সমঝোতা করে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছে তারা। ফলে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আধিপত্য হারিয়েছে দলটি।

সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, তাঁরা একটি পেশাজীবী সংগঠন। ৮-১০ বছর ধরে জিয়া পরিষদের কার্যক্রম না থাকায় বাধ্য হয়ে সাদা দল গঠন করেছেন। তবে জিয়া পরিষদের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কাজ করায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক আদর্শে বিভক্ত হয় না, বিভক্ত হয় নেতৃত্ব। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের প্রমাণসহ অভিযোগ এসেছিল। তাঁকে বহিস্কার করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন পর সক্রিয় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছে ছাত্রদলও। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে জিয়া পরিষদের সঙ্গে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের কথা থাকলেও ছাত্রলীগের তৎপরতায় তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। ছাত্রদলের প্রবেশ ঠেকাতে ছাত্রলীগ চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে কমিটি না থাকায় কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনকে ঠেকাতে বেগ পেতে হয়। তবুও তাঁরা শক্ত অবস্থান নিয়ে আছেন।

ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ বলেন, সবকিছুই ছাত্রলীগের দখলে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিমাতাসুলভ আচরণ করছে।