কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার পর নগরীতে সহিংসতায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) দুই কাউন্সিলরসহ জামায়াতের ৮ কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলায় অভিযুক্তরা কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আতাব উল্লার আদালতে জামিন আবেদন করলে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর মধ্যে আছেন কুসিকের জামায়াত সমর্থিত নবনির্বাচিত কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া, একরাম হোসেন বাবু ও সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন। অন্যরা হলেন নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন ফরায়েজী, নগরীর শুভপুর এলাকার রাসেল হোসেন, মফিজুল ইসলাম, মান্নান মিয়া ও নজির আহমেদ। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর নানুয়া দিঘির পাড়ে দুর্গাপূজা চলাকালে একটি অস্থায়ী মণ্ডপে কোরআন রেখে অবমাননার ঘটনায় দুপুরের পর নগরীর কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। চলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন বলেন, গত বছর যে সময়ে এ মামলাটি দায়ের করা হয় তখন ওই তিনজনই ছিলেন কুসিকের নির্বাচিত কাউন্সিলর। নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে তাঁদের আসামি করা হয়। তাই উচ্চ আদালত থেকে তাদের আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।

গত ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে তিন কাউন্সিলরের মধ্যে কাজী গোলাম কিবরিয়া ও অ্যাডভোকেট একরাম হোসেন বাবু বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। আদালতে এখনও মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি, তাই তাঁদের জামিন পাওয়ার অধিকার ছিল। তিন জনপ্রতিনিধিসহ অন্যদের জামিনের বিষয়ে আমরা উচ্চ আদালতে যাব, আশা করি ন্যায়বিচার পাব।