চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গোপনে পরিচালনা কমিটি গঠন ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটির মেয়াদ রোববার শেষ হয়েছে। এর আগেই অধ্যক্ষ বর্তমান কমিটির কাউকে কিছু না জানিয়ে কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তা অনুমোদন করিয়ে এনেছেন। অথচ নির্বাচন পরিচালনার জন্য কোনো কমিটি বা প্রিসাইডিং অথবা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়নি। ঘোষণা করা হয়নি তফসিলও। বর্তমান কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

সদ্য শেষ হওয়া কমিটির অভিভাবক সদস্য ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী বলেন, অধ্যক্ষ তার ইচ্ছামতোই সবকিছু করেন। হাজার হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই। এখন শুনছি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে আমরা কেউই কিছু জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া তার কাছে নির্বাচনী তফসিল, কমিটির রেজুলেশনসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চাটমোহরে থাকি। সমস্ত কাগজপত্র বাসায় রয়েছে। কলেজে রাখিনি। এক পর্যায়ে বলেন, বর্তমান সভাপতিকে নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। এ ছাড়া দু'জন শিক্ষককে সদস্য করা হয়। এর মধ্যে একজন সহকারী অধ্যাপক উত্তম গোস্বামী। আরেকজনের নাম তিনি বলতে পারেননি। উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে সভাপতি আব্বাস উদ্দিন বলেন, আমি কেন প্রিসাইডিং অফিসার হবো? আমি তো কিছুই জানি না। একই কথা বলেন সহকারী অধ্যাপক উত্তম গোস্বামী।

কলেজ গভর্নিং বডি গঠন, অভিভাবক সদস্য নির্বাচন বিষয়ে চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সঞ্জু বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেই অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করতে হবে। একাধিক প্রার্থী না থাকলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। 

কলেজের সভাপতি রিটার্নিং কিংবা প্রিসাইডিং অফিসার কীভাবে হতে পারেন তা আমার জানা নেই।