বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের মতো কানাডাতেও বেকারত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। কোভিড-১৯ এবং লকডাউনের প্রভাবে বর্তমানে কানাডায় গত ৩৮ বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। 

কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় বর্তমানে বেকারত্বের হার ১৩.৭ শতাংশ। এর আগে ১৯৮২ সালের ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল সর্বোচ্চ ১৩.১ শতাংশ। কানাডার পরিসংখ্যান রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মে মাসে নতুন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ চাকরি যােগ হওয়ায় এবং লকডাউন কিছুটা শিথিল করায় বেকারত্বের হার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। রেফিনিটিভ ফার্মের তথ্য মতে, নতুন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ চাকরি যােগ না হলে মে মাসে চাকরি হারানাের সংখ্যা বেড়ে যেতা ৫ লাখ এবং বেকারত্বের হার হতাে ১৫ শতাংশ। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৩০ লাখ লােক চাকরি হারিয়েছিলেন এবং ২৫ লাখ লােকের কর্মঘণ্টা কমে গিয়েছিল এবং ২ লাখ ৯২ হাজার লােকের কর্মঘণ্টা অর্ধেকের নিচে চলে গিয়েছিল।

বিশিস্ট কলামিস্ট প্রকোশলী আব্দুল্লা রফিক বলেন, খনিজ তেল সমৃদ্ধ কানাডার আলবার্টা প্রদেশ করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।এখানে প্রচুর প্রফেশনাল যেমন ইঞ্জিনিয়ার, জিওলজিস্ট এবং দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে, যাদের অনেকেই আমেরিকামুখী হচ্ছে l সর্বোপরি কানাডার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাবে প্রথম কোয়ার্টারে কানাডার জিডিপি ৮ শতাংশের উপর সঙ্কুচিত হয়েছে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরো হতে পারে। কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কানাডিয়ান সরকার প্রণোদনা দিয়ে কিছুটা লাগাম ধরেছে, কিন্তু যদি অর্থনৈতিক সংকোচন আরো লম্বা সময়ের জন্য হয় তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে বলা মুশকিল।

কানাডার ক্যালগেরির টমবেকার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর আহমেদ শাহিন জানালেন, আকস্মিকভাবে কোভিড-১৯ সংকট কানাডার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে ডেন্টাল হাইজিনিসট, ফিজিওথেরাপি, মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল অ্যাসিস্টেন্ট, কাইরোপ্রোক্টর ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর হার বেশি। এই সংকটময় মুহূর্তে কানাডীয়দের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ সার্জারিসহ অন্যান্য অনেক চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।

প্রকৌশলী একেএম মওলাদাদ হোসেইন জানালেন, কোভিড-১৯ এর করাল গ্রাসে বিশ্বের সকল প্রান্তে এক  করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে আমরা স্বজন হারিয়ে শোকে কাতর, অন্যদিকে অর্থনৈতিক দৈন্যদশার শিকার। লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই থেমে গেছে। গুটি কয়েক শিল্প কারখানা সীমিত আকারে চলছে। অধিকাংশ মানুষেরই আজ চাকরি নেই, বেকার হয়ে বসে আছে। অনেকে আবার বাসা থেকে অফিস করছে। যারা সরাসরি কাজে যাচ্ছে তাদের সারাক্ষণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সহিত কাজ করতে হচ্ছে। এ এক অস্বাভাবিক অবস্থা। আমরা আগামী সুন্দর দিনের অপেক্ষায় আছি।

করোনা মহামারীর এই দুর্যোগ কাটিয়ে বিশ্ববাসী আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, অর্থনীতি সচল হয়ে উঠবে, মানুষ উৎকণ্ঠা আর শঙ্কা থেকে মুক্তি পাবে এমনটাই মনে করেন কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।।