৮ মার্চ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে সমকালের সম্পাদকীয় পাতায় আন্না মিন্‌জের 'গ্রামের বাইরে না যাওয়া নারীরা এখন সামাজিক নেত্রী' শিরোনামে একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে নারীদের নানা বিষয় উঠে এসেছে।
নারী শক্তির প্রতীক। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে তারা গৃহস্থালি কাজ ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। ঘরের কাজের মেয়ে থেকে শুরু করে নাসার বিজ্ঞানী পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি ও দূরদর্শিতা-দক্ষতা লক্ষণীয়। নারীদের কর্মক্ষেত্রে আসা মানেই ঘর ঠিক রেখে আসা। অর্থাৎ ঘরে ও বাইরে তাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হয়। অতীতে আমাদের মায়েদের 'নাইয়র'-এর ব্যবস্থা ছিল, যা ছুটির পর্যায়ে পড়ত। আজকাল তাও উঠে গেছে। কর্মজীবী নারীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ঘুম হয় না। তাকে কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়, আর সবার শেষে ঘুমাতে যেতে হয়।
ঘর-গৃহস্থালি শুধুই নারীর কাজ নয়- এই ভাবনাটা যদি আমাদের সমাজব্যবস্থায় প্রতিফলিত হতো তাহলে উন্নত বিশ্বের নারীদের মতোই শারীরিক ও মানসিক স্বস্তিতে দিন কাটাতেন আমাদের নারীরা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, একজন গৃহিণী দিনে ৬ ঘণ্টা গৃহস্থালি কাজ করেন। অর্থনীতির ভাষায় যাকে আনপেইড ফ্যামিলি ওয়ার্ক বলা হয়। একজন নারী তার নিরলস শ্রম দিয়ে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়নে সহযোগিতা করেন। অথচ পরিবারের অসহযোগিতার কারণে তাকে বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়তে হয়। সন্তানের ব্যর্থতা চোখে পড়লেই অনেকে মায়ের চাকরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সন্তানের প্রতি দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তোলেন। তখন মাকে মানসিক অশান্তির সম্মুখীন হতে হয়।
চাকরিজীবী নারীরা স্বস্তি পাবেন তখনই, যখন সমাজ ও সংসারের সর্বক্ষেত্রে তারা সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়িত হবেন।
সহকারী অধ্যাপক, বোয়ালখালী হাজী মো. নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম