সোমবারের সমকালে প্রকাশ, হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত :কাঁচা ধান ঘরে তুলছে কৃষক। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জে হাওরের নিম্নাঞ্চলের বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কৃষক পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত। আমরা জানি, হাওরাঞ্চলে প্রায় ২ কোটি মানুষের বাস। তাদের ঘাম ঝরানো ফসলে শুধু কৃষকের উপকার হয়, এমন নয়। সঙ্গে রাষ্ট্রের আমদানিনির্ভরতা কমায় এবং রপ্তানির উপযোগী করে তোলে। কৃষকদের একমাত্র ভরসা যখন হাওরের ফসল, তখন যথাসময়ে এর প্রতি সরকারের নজরদারি করা উচিত। এমনিতেই ২০১৭ সালের বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হাওরাঞ্চলের মানুষের ওপর পড়েছে, তা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এ অবস্থায় নতুন সংকটে সেখানকার কৃষক দিশেহারা।
জাতীয় পর্যায়ে হাওরে ফসল তোলার যথোপযুক্ত সময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হাওর নিয়ে গবেষণা করা ও উপযুক্ত সময়ে হাওর রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে। ২০১৫ সালে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে ফসল দ্রুত ঘরে তোলা সম্ভব হবে। সরকার বিনামূল্যে রাইস প্লান্টার ও রিপার যন্ত্র দিয়েছিল, যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যায়। এর মূল্য ছিল ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সে সময় এর ভালো ফলও পাওয়া যায়। পানি বাঁধের যে ব্যয় ধরা হয়, তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। অবহেলা এবং দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং অন্যকে সচেতন করতে হবে। তাহলেই হাওরাঞ্চলের মানুষের কান্না বন্ধ করা যাবে এবং পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশ রপ্তানিমুখী হবে।
বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয় : বাঁধ এত ঠুনকো

মন্তব্য করুন