৯ মে সমকালে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদের 'ভোজ্যতেলের আমদানির পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে' শিরোনামে একটি নিবন্ধ পড়লাম। তার প্রস্তাব যৌক্তিক। তবে শুধু উন্মুক্ত আমদানির মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে না। কারণ ঈদের পর হঠাৎ বাজারে ভোজ্যতেল নাই হয়ে গেল। এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক লাফে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬০ থেকে ১৯৮ টাকা ধার্য করে দিল। দাম বাড়ার ঘোষণার পর থেকে ১৬০ টাকা লেখা তেলের বোতল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। দেশের নানা প্রান্তে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের অভিযানে ব্যবসায়ীদের গুদাম ও বাসা থেকে হাজার হাজার বোতল মজুত করা সয়াবিন তেল উদ্ধার হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, এই ব্যবসায়ীরা কেউ ডিলার না। তার মানে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য এই অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে এখন বেশি দামে বিক্রি করছে।
মূলকথা হলো, ব্যবসায়ীদের মধ্যে যতক্ষণ পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠাবোধ পুষ্ট না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাজারের সংকট কাটবে না। তাই ভোজ্যতেল আমদানি উন্মুক্ত করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। এই নজরদারি সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি আজ আর কোনো বিশেষ সংবাদ নয়। নিত্যপণ্যের দাম প্রায় প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মানুষ হচ্ছে ভোগান্তির শিকার। যেমন ধানের ভরা মৌসুমেও দাম বাড়ছে চালের। শুধু চাল নয়; ডাল, আটা, পেঁয়াজ, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে বর্তমানে সয়াবিন তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা জনগণ। এতে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্তসহ স্বল্প আয়ের মানুষ। তথ্যমতে, এপ্রিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে এবং প্রতি টন তেলের দাম রেকর্ড ১৪৯৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। নতুন দাম অনুযায়ী সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯৮৫ টাকা। আগে এর দাম ছিল প্রায় ৭৬০ টাকা। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম হবে এখন ১৯৮ টাকা। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পরিশোধিত পাম সুপার অয়েল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৭২ টাকা। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ভোজ্যতেল হিসেবে সয়াবিনের পাশাপাশি ব্যবহূত হয় সূর্যমুখী তেল। বিশ্ববাজারে এই তেলের এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয় রাশিয়া ও ইউক্রেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে সয়াবিন ও পাম অয়েলের ওপর। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানরত মানুষের জন্য তা অভিশাপ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দ্রব্যমূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেভাবে মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়নি। দাম বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কালো হাত রয়েছে- এ কথা সরকারের কোনো কোনো দায়িত্বশীল স্বীকার করেছেন। অথচ এই অবৈধ টাকায় বিদেশে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছে প্রভাবশালীরা। কী কারণে হঠাৎ হঠাৎ দাম বাড়ে দ্রব্যমূল্যের, তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই। অনেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিচ্ছে। একদিকে দারিদ্র্যের অভিশাপ, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আশা করা যায়, সরকার ও সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিরা এসব দিক বিবেচনা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ