বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রথম বড় নির্বাচন হয়ে গেল কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। যদিও ওই দিনে আরও বেশ কয়েকটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। তবে সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও তাদের দলের দু'জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছেন। যদিও বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনের মাঠে যাওয়ায় তাঁদের দল থেকে বহিস্কার করেছে। এর মধ্যে সদ্য সাবেক মেয়রও ছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী জয়ী হলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে নির্বাচনটি সবার নজর কেড়েছে। নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুন সমকালে ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স-ফেমার সভাপতি মুনিরা খানের একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর নিবন্ধের শিরোনাম 'টেস্ট কেসে উতরে গেল ইসি।' সকাল থেকে নির্বাচনে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ও হানাহানি না হওয়ায় হয়তো মুনিরা খান এটিকে উতরে যাওয়া বলছেন। একই সঙ্গে বড় দুই মেয়র প্রার্থীও সকাল থেকে সংবাদমাধ্যমে নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দিয়েছেন। সেই দিক থেকে নিবন্ধকার তাঁর মন্তব্য কলাম লিখেছেন। কিন্তু ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা বিঘ্ন ঘটালেও একেবারে বিতর্ক সৃষ্টি করেনি। বিতর্ক যেটি সৃষ্টি করেছে তাহলো নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এলাকা ত্যাগ করতে বলার পরও সে কথা শোনেননি আওয়ামী লীগের সেই এমপি। পরে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা শুধু এলাকা ত্যাগ করতে অনুরোধ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই। প্রশ্ন হলো, যে কাজ তারা পারবে না, সেই কাজে চিঠি দিতে গেল কেন?
ভবিষ্যতে যদি অন্য এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এভাবে সংসদ সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেন কিংবা এলাকায় অবস্থান করেন, তাহলে তাঁদের এলাকা ছাড়তে চিঠি দেওয়ার কি কোনো নৈতিক অবস্থান আর থাকবে নির্বাচন কমিশনের? সরকারের কোনো কোনো কর্তা নির্বাচন কমিশনের এ চিঠিকে অনাধিকার চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন। এবার ইভিএমে ভোট হয়েছে। কিন্তু ত্রুটির কারণে অনেক স্থানে ফলাফল স্থগিত করতে হয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশন জাতির প্রত্যাশা পূরণ করার পথে প্রথমেই হোঁচট খেল।
শিক্ষার্থী, সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল

বিষয় : টেস্ট কেস

মন্তব্য করুন