ড. তাসনিম সিদ্দিকী প্রবাসীদের নিয়ে কাজ, লেখালেখি ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কথা বলেন। ১৪ জুন সমকালের চতুর্থ পৃষ্ঠায় 'মালয়েশিয়ার বাজারে সিন্ডিকেটের বাড়াবাড়ি' শিরোনামে তাঁর একটি নিবন্ধ পড়লাম। নিবন্ধে তাসনিম সিদ্দিকী শ্রমবাজারে চলা নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও হাতেগোনা কয়েকটি এজেন্সির বাড়াবাড়ির কারণে যে কার্যক্রমটি বিতর্কিত হচ্ছে, তা এ নিবন্ধে পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
সিন্ডিকেটের জন্য মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীকে দায়ী করা হচ্ছে। নিবন্ধকার তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, এ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরই রয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যদি ডেকে এসব এজেন্সিকে বলে দেন তাহলে আর বাড়াবাড়ি থাকবে না। কিন্তু কথা হলো, সেটা কেন করা হচ্ছে না? কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমাদের শ্রমিকরা বঞ্চিত হতে পারে না। তাই দেরি না করে এখনই এসব এজেন্সিকে ডাকা উচিত এবং তাদের বাড়াবাড়ির লাগাম টেনে ধরা উচিত।
ড. তাসনিম সিদ্দিকী তাঁর লেখায় মালয়েশিয়ার আবহাওয়া ও জলবায়ুকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সহজে মানানসই বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে মালয় ভাষা সহজ বলে দ্রুত আয়ত্ত করা যায় বলেও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তাঁর নিবন্ধের অন্য জায়গায় গিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেছেন। বিষয়টিকে স্ববিরোধিতা মনে হলেও আসলে ড. সিদ্দিকী আত্মসম্মানের কথাই বলতে চেয়েছেন। কারণ মালয়েশিয়া অতীতেও নিজেরা সিন্ডিকেট করে দিয়ে পরে আমাদের ওপর দোষ চাপিয়েছে। তাদের অনিয়মের কারণে আমাদের কর্মীদের অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ে সে দেশে যেতে হয়েছে। অথচ অনিয়মের দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে স্থগিত করে রাখা হয় শ্রমশক্তি প্রেরণ কার্যক্রম। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সিন্ডিকেট করে দেওয়ার জন্য যেমন দায়ী; তেমনি আমাদের দেশের যেসব এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িয়েছে, তারাও কম দায়ী নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীরই তাদের ডেকে বলতে হবে কেন? এসব এজেন্সি কেন মালয়েশিয়ায় গিয়ে সিন্ডিকেটে জড়াল; তার জন্য তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায় কিনা, সেটি ভেবে দেখা যেতে পারে। জানি, এসব এজেন্সির মালিকরা প্রভাবশালী। কিন্তু এটা বিশ্বাস করি- রাষ্ট্র সার্বভৌম। রাষ্ট্র যদি চায় তাহলে যে কোনো প্রভাবশালীকে দমন করা সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সব বৈধ এজেন্সির জন্য কর্মী প্রেরণের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার। এটি করতে পারলে রেমিট্যান্স আসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।
চিকিৎসক, ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকা