রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের অবৈধ শিক্ষার্থীদের বের করে ১৮ জন আবাসিক ছাত্রকে তুলে দিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। শুক্রবার রাত ৯টার পর তাদেরকে হলে তোলা শুরু করেন। এর আগে এদিন বিকেল ৪টায় অভিযান শুরু করার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী ৪টার আগে থেকে শিক্ষার্থীরা হলে ওঠার জন্য এসে অবস্থান নেন। তবে রাত ৯টার আগে অভিযান শুরু করতে পারেননি।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টায় হলের অবৈধ শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দিতে অভিযান চালানোর কথা প্রাধ্যক্ষের। তবে সন্ধ্যা ৬টার পর হলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল আসেন। তিনি এসেই উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীসহ সকলকে হল থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। পরে হল প্রশাসনের সঙ্গে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে মিটিংয়ে বসেন। সন্ধ্যা ৭টার পর জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. তারেক নূর হলে আসেন। এসে তারা হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে মিটিং করেন। মিটিং শেষে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো শুরু হয়।

এদিকে এই অভিযানের ঘোষণার পর থেকে হল প্রাধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ হুমকি দিচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বৈধতা দেওয়ার পরও ছাত্রদের হলে তুলতে পারছি না। অবৈধরা সিট দখল করে রেখেছে। অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে হুমকি পাচ্ছি।’

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা বৈধভাবে হলে থাকুক। সেজন্য আজকের এই অভিযান। ১৮ জন এসেছিল তাদের সকলকে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। প্লিজ আপনারা নিউজ করবেন না। আমাদের কাজ আমাদেরকে করতে দেন। হলের এসব সামান্য ঘটনায় সংবাদ করার কিছু নেই।’

একজনকে বের করতে দেবে না হল ছাত্রলীগ সভাপতি:

হল প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন গত ২৩ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবৈধ শিক্ষার্থীদের ২৯ জুনের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন। বের না হলে শুক্রবার বিকেল ৪টায় হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর ছাত্রলীগ বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি।

সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘প্রভোস্ট হলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ নিধনের মিশনে নেমেছে। তবে আমি ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় কোনো কর্মীকে নামতে দেবো না। ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। ভিসি স্যার বলেছেন প্রাধ্যক্ষ যেন কাউকে বের না করে দেন।’