মেয়েটি অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সাধারণত ব্লেড ও চাকু থাকে। বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হতে পারত। এমনকি মারাও যেতে পারত। এরকম ঝুঁকি নেওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। জানবাজি রেখে অপরাধীকে ধরা অনেক বড় বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দু-দুটো ছিনতাইকারীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী পারিসা আক্তারকে ধন্যবাদ। তিনি সাহসের সঙ্গে একটি যুদ্ধ শেষ করে ইতিহাস হয়ে থাকলেন। এ থেকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিক্ষা নেওয়া উচিত।
২৪ জুলাই সমকালে 'মানুষ এখন ভিডিও করে, সাহায্যে এগিয়ে আসে না' শিরোনামে সংবাদটি পড়েছি। একজন শিক্ষার্থীর এ বক্তব্যের মধ্যে অনেক বড় বার্তা রয়েছে। পথচারীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিপদ দেখলে সহায়তা না করে শুধু ভিডিও করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরে বুকের ওপর চেপে বসে মারপিটের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এটা একমাত্র জ্ঞানহীন, অজ্ঞ মানুষের দ্বারাই সম্ভব। অথচ জবি শিক্ষার্থী পারিসা আক্তারের মোবাইল হারিয়ে শিশুর মতো অঝোরে কান্নার কষ্ট ওরা অনুভব করতে পারেনি। থিসিস বা গবেষণাকর্মের তথ্য-উপাত্ত, ডকুমেন্ট বা ফটো খোয়া যাওয়া যে কত বড় কষ্টের, তা শুধু জ্ঞানীরাই বুঝবেন। আইনের প্রতি অনাস্থা ও কতটা অসহায় হলে মানুষ এভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে পারে। একজন ছিনতাইকারীর জন্য অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। এমনকি অনেক নিরীহ মানুষ মারা যায়। দূরপাল্লার বাস, ট্রেন বা লঞ্চ থেকে রাজধানীতে নেমেই তিক্ত ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় অনেক মানুষকে।
পারিসা আক্তার দুঃসাহসের সঙ্গে এক ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করেছেন, আরেক ছিনতাইকারীকে কৌশলে ডেকে এনে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। মোবাইল ফোন ছিনতাই হওয়ায় পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পারিসা আক্তার। একটি ভিডিও ফুটেজে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'দুজন ছিনতাইকারীকে ধরাইয়া দিলাম। এরপরও পুলিশ যদি আমার মোবাইল উদ্ধার করে দিতে না পারে, এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কিছু নাই।' পারিসা বলেন, 'মোবাইলে আমার থিসিসের অনেক ডকুমেন্ট ছিল। মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন করে আবার থিসিসের কাজ করা খুব কষ্টকর। এক ধরনের মানসিক বিষণ্ণতার মধ্যে রয়েছি।' পারিসার সাহসিকতার উত্তর চাই। আশ্চর্য এক 'ভিডিও প্রজন্ম' গড়ে উঠছে আমাদের চারপাশে! এখন দেখা যায় মরতে মরতেও ভিডিও করছে। সবাই দেখবে আর ভিডিও করবে, এটাই যেন সারাদেশের চিত্র! দেশের মানুষ দর্শক বা ভিডিওগ্রাফার হিসেবে খুব ভালো! পারিসা আক্তারের সঙ্গে থাকা সহপাঠী বন্ধু শাহরিয়ার আলম বলেন, 'অনেক মানুষ এই ভিডিও করছিলেন। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। ভিডিও করা শেষে সবাই যে যার মতো চলেও যান। তখন আমাদের ভয় লাগতে শুরু করে। আমরা পুলিশে ফোন দিই। এক গণমাধ্যমকর্মী আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।'
ঢাকা

বিষয় : মোহাম্মদ আবু নোমান

মন্তব্য করুন