মেয়েকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই বাবা-মায়ের। বাইরে চলাফেরা করতে জড়তা কাজ করে মেয়েদের। এই বুঝি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ ধেয়ে এলো! মেয়েরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছে অথচ তাদের আত্মরক্ষার কৌশল নিয়ে কেউ ভাবছে না। সমকালে ১৯ জুলাই 'নিজেরা করি'র সমন্বয়ক খুশী কবিরের 'সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িকতার সংস্কৃতি' শীর্ষক একটি নিবন্ধ পড়লাম। লেখক নড়াইলের লোহাগড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে অতীতে নারী নির্যাতন ও রাজধানীর ফার্মগেটে নারী কলেজশিক্ষক কপালে টিপ পরায় পুলিশ সদস্য দ্বারা হেনস্তার কথাও তুলে ধরেছেন। এসব অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন-আদালত আছে। সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলেও সহায়তা পাওয়ার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার আগেই সর্বনাশ হয়ে যায়।
তাই দিন শেষে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আত্মরক্ষার কৌশল আয়ত্ত করার কোনো বিকল্প নেই। আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কারাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু আত্মরক্ষার কৌশলই নয়, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খেলাও বটে। শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে খালি হাতে আত্মরক্ষার কৌশলই হলো কারাতে। এটি এমন একটি আঘাত করার কৌশল, যা অতি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মুক্তহস্তে আঘাত করা শেখায়। এটাকে খালি হাতে আত্মরক্ষার কৌশলও বলা হয়, যেখানে ৫০ শতাংশ হাতের ও ৫০ শতাংশ পায়ের কাজ শেখানো হয়। কৌশলগত পাল্টা আক্রমণই পারে অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ প্রতিহত করতে। আত্মরক্ষার পাশাপাশি এর আরও উপকারিতা রয়েছে। কারাতে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ে; অতিরিক্ত মেদ কাটে; বডি ফিটনেসের উন্নতি ঘটে; হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে; শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন বাড়ে; আত্মবিশ্বাস বাড়ায়; ডিসিপ্লিন, ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী করে তোলে; ফোকাস ও মনোযোগ শক্তি বৃদ্ধি করে; কমায় মানসিক চাপ। শরীর-মন সুস্থ, সবল ও প্রাণবন্ত থাকে। কারাতে চর্চার মাধ্যমে কোনো রকম জড়তা ছাড়া সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেয়েরা বাইরে চলাফেরা করতে পারবে। এতে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমবে। পৃথিবীর যে কোনো দেশের মানুষের কাছে আত্মরক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেউই অনিরাপদ থাকতে পছন্দ করে না। কারাতে-চর্চার ফলে সুফল ছাড়া কুফলের কোনো সুযোগ নেই। কারাতে প্রশিক্ষণের এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এর ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তাহীনতার এমন দশায় দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। ওপর মহলকে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ রইল। পাশাপাশি খুশী কবিরের মতো মানবাধিকার কর্মীরা বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরলে নীতিনির্ধারকরা সহজে আমলে নেবেন বলে বিশ্বাস করি।
শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

বিষয় : শারমিন উদ্দিন

মন্তব্য করুন