শেয়ারবাজারে কেলেঙ্কারি কোনো নতুন সংবাদ নয়। মতিঝিলে শেয়ারবাজারের সামনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের সংবাদ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতো। তবে ইদানীং সেভাবে আন্দোলন দেখা না গেলেও পত্রিকার পাতায় শেয়ারবাজার থেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া কারও কারও পরিচয় প্রকাশিত হয়। হিরোদের হিরোগিরির সংবাদ দেখে আমরা অবাক হলেও এসব ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়। ২৩ জুলাই সমকালে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদের 'শেয়ারবাজার জুয়াড়িমুক্ত করতে হবে' শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধে লেখক বলেছেন, দেশের শেয়ারবাজারের ওপর আস্থাহীনতা চলে এসেছে। নিবন্ধে লেখক বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। নিঃস্ব হওয়ার আর কী বাকি আছে! সরল বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে হিরোদের কারণে অনেকে এরই মধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেছেন। এতদিন শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িত মর্মে আমরা বিভিন্ন রাঘববোয়ালের নাম শুনেছি।

এখন দেখছি সমবায় অধিদপ্তরের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারও লুটপাট করে শতকোটি টাকার মালিক। আবু আহমেদ এসব কর্মকাণ্ডকে জুয়াড়ি আখ্যায়িত করে দমনের কথা বলেছেন। দমনটা করবে কে? শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নাম যেখানে হিরোর সঙ্গে এসে যায়, সেখানে আমরা কার ওপর আস্থা রাখব? দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষকও যদি নৈতিক অবস্থানে অনড় না থাকতে পারেন তাহলে সেটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের দেশে কিছু হলেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে সবকিছু দেখভাল করবেন- এটাই স্বাভাবিক। তিনি মন্ত্রীদের বিভিন্ন দপ্তর ভাগ করে দিয়েছেন। সচিব আছেন, আবার কোনো কোনো অধিদপ্তরে মহাপরিচালক আছেন। দায়িত্বের বিকেন্দ্রীকরণে এসব ব্যক্তির কাজ নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন আসে। ঠিক তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ হলেন শেয়ারবাজার তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। প্রাক্তন ছাত্রের দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকা বা সমর্থন জোগানো কিংবা তদারকি ব্যর্থতার দায় তাঁকেই নিতে হবে। কারণ শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যই তাঁকে ওই চেয়ারে বসানো হয়েছে। তাঁর স্বজনপ্রীতি কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়।
মিরপুর, ঢাকা

বিষয় : রাবেয়া বশরী

মন্তব্য করুন