কৃষক বাঁচাতে জরুরি ধান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান

ধান ব্যবস্থাপনায় চরম সংকট চলছে, এখনই চাল আমদানি বন্ধ করতে হবে

প্রকাশ: ২৬ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

হকিকত জাহান হকি

কৃষককে বাঁচাতে হলে 'উৎপাদন কৃষকের, ধান সরকারের'– এই নীতির ভিত্তিতে এগোতে হবে। ধানের বাজারে স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারিভাবে নতুন প্যাডি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই) বা ধান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, মজুদ, বিপণন ও প্রক্রিয়াকরণে চরম সংকটের কারণেই এর বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছে। ধান ব্যবস্থাপনায় চরম সংকটের কারণেই দেশের প্রধানতম এই পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। অপূরণীয় ক্ষতির কারণে দেশের কৃষকসমাজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি উন্নয়ন, কৃষি গবেষণা, ধান গবেষণা, কৃষি বিপণন, বীজ প্রত্যয়ন, মৃত্তিকা, পাট গবেষণা, হর্টিকালচার উন্নয়নে আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য ধান ব্যবস্থাপনায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেনি। এবার এই পণ্যের বাম্পার ফলন ও অস্বাভাবিক দরপতনে স্বতন্ত্রভাবে ধান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা সামনে এসেছে। এই প্রতিষ্ঠান শুধু ধান ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে।

সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে ধানের দামে ঊর্ধ্বগতি ফিরিয়ে আনতে হলে চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, বাজারে চালের সরবরাহ কমাতে হবে। কারণ, এর অপরিকল্পিত সরবরাহই বাজারকে বেসামাল করে তুলেছে।

গত তিন থেকে চার সপ্তাহ ধরে ধানের বাজারে অস্থিরতা চলছে। কিন্তু সরকার শুরুতেই চাল আমদানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় অস্থিরতা বেড়েছে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রাখা না হলে ধানের বাজারের পরিবেশ স্থিতিশীল হবে না। ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে গত ১৯ মে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল চাল আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। এর দু'দিন পর গত ২২ মে চাল আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। এতে আগের তুলনায় উচ্চ হারে  শুল্ক পরিশোধ করে হলেও চাল আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ মুহূর্তে সাধারণ মানের চাল আমদানি বন্ধের পক্ষে মত দেওয়ার পাশাপাশি সমকালকে বলেছেন, পাঁচতারা হোটেল ও উন্নত রেস্তোরাঁগুলোর জন্য বাসমতিসহ শৌখিন জাতের চাল আমদানি অব্যাহত রাখতে হবে। সারাদেশের কৃষকসহ সচেতন জনগোষ্ঠীও এমনটাই মনে করছেন।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে চাল আমদানিতে যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তাতে এলসির (ঋণপত্র) বিপরীতে পাইপলাইনে থাকা চাল আসতে কোনো বাধা নেই। অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করে যে কেউ চাল আমদানি করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ধানের দাম নিয়ে কৃষকের এই দুর্যোগকালে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রাখা ও এলসির বিপরীতে পাইপলাইনে থাকা চালের জন্য স্থিতাবস্থার আদেশ জারি করতে হবে। না হলে কৃষকের সংকট আরও জটিল হবে।

গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ধানের উৎপাদন, সংগ্রহ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও রফতানির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে। এবার বিপুল পরিমাণ ধান উদ্বৃত্ত হয়েছে কিন্তু ওই কৌশলপত্র না থাকার কারণে আগামীতে হয়তো দেখা যাবে উৎপাদন কম হবে। সারাদেশে ধানের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই পণ্য ব্যবস্থাপনায় একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে চাল আমদানি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা উচিত ছিল। এলসির বিপরীতে যেসব চাল আমদানির অপেক্ষায়, সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করতে পারে সরকার। ব্যবসায়ী, মজুদদাররা জাতীয় সংকটকে পুঁজি করেও মুনাফা করেন। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাল আমদানি বন্ধের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কি-না– এ প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে; খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো সুপারিশের প্রয়োজন হয় না।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, চাল আমদানি বন্ধ করা হবে কি-না, এ ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ লাগবে। তাদের সুপারিশ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ধান সংগ্রহের কাজ করছে। সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকেও কেনা হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য: কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, ধান কেনার আওতা বাড়ানো হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী কেনার জন্য চালকল মালিকদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। মিলাররা বলছেন, তাদের কাছে আমন ধান এখনও মজুদ আছে। এর পরও তাদের কেনার চাপ দেওয়া হচ্ছে। ধান না কিনলে তাদের দেওয়া বরাদ্দ অন্যকে দেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধান রফতানিরও চিন্তা রয়েছে। সঙ্গে এটিও ভাবতে হচ্ছে, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখনও প্রায় ৩০-৪০ ভাগ ধান কাটা বাকি। হঠাৎ বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ধানের প্রয়োজন হবে। তাই ক্ষেতের ধান ঘরে ওঠার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, রফতানি করা হবে কি-না।

বাণিজ্য সচিবের বক্তব্য: বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ধানের দাম নিয়ে কৃষকের মধ্যে যে অস্থিরতা চলছে, সে ব্যাপারে সরকার সব দিক থেকে সতর্ক রয়েছে। কৃষকের যাতে ক্ষতি না হয়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

সংকট নিরসনে চাল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে কি? এ প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব জানান, চাল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে তার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আসতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত এ রকম প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। প্রস্তাব পেলে দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হবে।

ধানের দামের তথ্য: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। অথচ প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ আরও বেশি। ধান কাটতে দৈনিক একজন শ্রমিককে মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ টাকা হারে। তাই পাকা ধান ক্ষেতে পড়ে থাকলেও কাটার আগ্রহ নেই কৃষকের।

দিনাজপুরের হিলির নন্দীপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ১৮-১৯ মণ ধান পেয়েছেন তিনি। ধানের এই বাজারদরের কারণে প্রতি বিঘায় তার লোকসান হয়েছে এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। তিনি বলেন, চাল আমদানি বন্ধ করা না হলে আগামীতে কৃষক আবাদ করবেন না।

চণ্ডীপুরের কৃষক আবদুল মমিন জানান, এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছয় বিঘা জমি আবাদ করে তাকে লোকসান গুনতে হয়েছে ১২ হাজার টাকা। তার ওপর নিজের পরিশ্রম তো আছেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জমি বিক্রি করে এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। এভাবে বাঁচা যায় না। তিনিও চাল আমদানি বন্ধের দাবি জানান।

ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে হবে: অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষক ও ধানের বাজারের অস্থিরতা দূর করতে সরকার নানা পরিকল্পনার কথা ভাবছে। অর্থ, খাদ্য ও কৃষি- এ তিন মন্ত্রীর তৎপরতাও বেড়েছে। বাজারে চালের সরবরাহ কমিয়ে ধানের দামে ঊর্ধ্বগতি আনতে এ মুহূর্তে চাল আমদানি বন্ধসহ নানা তৎপরতার কথা জানাচ্ছেন তারা। তবে সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে কী করতে হবে, সে ধরনের কোনো সমন্বিত প্রস্তাব এখনও দেখা যাচ্ছে না। অনেকে প্রস্তাব করেছেন, ধানের দাম নিয়ে সংকট নিরসনে ধান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হোক। এই প্রতিষ্ঠানের আলাদা কর্তৃপক্ষ থাকবে। তারা ধান ব্যবস্থাপনায় কাজ করবেন।

এক মাস ধরে ধানের দাম পড়ে যাওয়ার অস্থিরতা চলছে। যদিও মৌখিক ঘোষণা ছাড়া তেমন আর কিছুই করা হয়নি। কৃষকের লোকসানের বোঝা ভারী হওয়ার পর গত ২২ মে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত ২২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও কোনো ব্যবসায়ী চাইলে অতিরিক্ত শুল্ককর পরিশোধ করে চাল আমদানি করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে কৃষক ও চালকল মালিকদের ক্রয় পরিস্থিতি জোরদার করতে হবে। চালকল মালিকরা খাদ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া ধান কিনছেন ধীরগতিতে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও এর আর্দ্রতা বজায় না থাকাসহ নানা অজুহাতে তা কেনাই হচ্ছে না। সরকারের উদাসীনতায় কৃষকের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আয়ের আর কোনো পথ না থাকায় কৃষকের এই ক্ষতি অপূরণীয়। তাদের আর্থসামাজিক শক্তি দুর্বল হলে নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।

স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি: সমকালের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি থেমে নেই। গত ২০ মে এই বন্দর দিয়ে ১০০ টন চাল আমদানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের গত ১৮ জুন থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আমদানি হয়েছে ২৪ হাজার ১৭৪ টন। এর মধ্যে গত মার্চে দুই হাজার ৯৩৫ টন, এপ্রিল মাসে এক হাজার ৮৯১ টন আসে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৫ টন।

সমকালের বেনাপোল প্রতিনিধি মো. সাজেদুর রহমান জানান, গত এপ্রিলে এই বন্দর দিয়ে এক হাজার ৩২১ টন চাল আমদানি হয়েছে। গত ২০ মে পর্যন্ত ৮০৬ টন আমদানি হয়েছে। প্রচুর পরিমাণ চাল ভারত থেকে বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে।

দিনাজপুর সংবাদদাতা জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হিলি বন্দর দিয়ে গত জানুয়ারিতে ১১ হাজার ৮৬৮ টন, ফেব্রুয়ারিতে সাত হাজার ৯৬৫, মার্চে ৯ হাজার ৬৯৭, এপ্রিলে আট হাজার ২১২ ও চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪০০ টন চাল দেশে এসেছে। এ হিসাব অনুযায়ী, কেবল এই বন্দর দিয়েই প্রতিদিন গড়ে ৪০০ টন চাল আমদানি হচ্ছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি সফিকুল আলম জানান, বাংলাবান্ধা বন্দর দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারত থেকে ৯ হাজার ৬৪৫ দশমিক ৭০ টন চাল আমদানি হয়েছে।

সরকারের উদ্যোগ- ২০০টি স্মল প্যাডি সাইলো নির্মাণ হবে: খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে প্রতি মৌসুমে ১০ লাখ টন করে ধান, চাল ও গম মজুদ করতে সারাদেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০০টি স্মল প্যাডি সাইলো নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সাইলোতে পাঁচ হাজার টন খাদ্যশস্য রাখা যাবে। প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট ছোট কৃষকের কাছ থেকেও কেনা হবে ধান ও গম। এসব খাদ্যশস্যের ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সাইলোর সঙ্গে স্থাপন করা হবে ড্রাই মেশিন। ফলে ধান ভেজা থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

ধান কাটা ও মাড়াই মেশিন: ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে কৃষকের সমস্যা দূর করা হবে। কাটা ও মাড়াইয়ে ছোট আকারের মেশিন ক্রয়ে কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হবে। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে।

কৃষিতে প্রণোদনা: চলতি অর্থবছরের বাজেটে কৃষিতে প্রণোদনা বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা। বাকি তিন হাজার কোটি টাকা কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রণোদনা দেওয়া হবে।