অস্ত্রের বাজারের বিশ্ব অর্থনীতি এবং শান্তির সন্ধান

 প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৯      

 রাশেদ মেহেদী

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে অস্ত্রের বাজার ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বে আর কোনো শিল্পপণ্যের এককভাবে এত বড় বাজার নেই। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারি সামরিক খাতের ব্যয়ই বেশি। এছাড়া বেসরকারি সামরিক খাতে যে ব্যয় তার পরিমাণও প্রায় ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সিপরির তথ্য অনুযায়ী, দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের। গত পাঁচ বছরে দেশটির সামরিক ব্যয় ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

এর বিপরীতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সব ক্ষুধার্ত মানুষকে ৩৬৫ দিন ক্ষুধামুক্ত রাখতে বছরে প্রয়োজন মাত্র ২৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার জন্য যে তহবিল তা গত এক দশকে বাড়েনি। বর্তমানে এই তহবিলে বছর ওয়ারী ১৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ আছে এবং এটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। অংকের হিসেবে আর মাত্র ১১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বছরে যোগ করা গেলেই বিশ্বে প্রতিদিন কোথাও কোনো মানুষ অভুক্ত থাকবে না।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের দশ ভাগের এক মানুষ (বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৭৬০ কোটি) প্রতিদিন অভুক্ত থাকছে বা চাহিদা অনুযায়ী ন্যূনতম খাদ্যটুকুও পায় না। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অভুক্ত মানুষের বসবাস আফ্রিকার দেশগুলোতে। এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের কিছু দেশেও অভুক্ত মানুষ আছে। পশ্চিম ইউরোপ, ওশেনিয়া এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে নিম্ন আয়ের কিংবা দরিদ্র মানুষ থাকলেও কেউ অভুক্ত নেই।

ওপরের পরিসংখ্যানের দিকে একটু গভীরভাবে নজর দিলে বোঝা যায়, বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার পূর্ণ সক্ষমতা বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকদের আছে, কিন্তু সদিচ্ছা নেই। কারণ তারা ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের চেয়ে অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক শক্তির বিশ্বকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর একটু সংক্ষুদ্ধ ভাষায় বলা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকরা চান না, এ বিশ্ব ক্ষুধামুক্ত হোক। কারণ ক্ষুধামুক্ত হলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে আর কোনো উদ্বেগ নাও থাকতে পারে। শান্তিময় বিশ্ব হলে অস্ত্রের বাজারের আকার ছোট হয়ে যাবে।

আধুনিক বিশ্বে কেন সন্ত্রাসবাদ? যে বিশ্বে প্রযুক্তি সভ্যতার এত দম্ভ, শিক্ষা ও জ্ঞানের এত অহঙ্কার, সেখানে বিশ্ব অর্থনীতির সিংহভাগ অর্থ মানুষ হত্যার জন্য অস্ত্র তৈরিতে ব্যয় হবে কেন? যে বিশ্ব ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় অস্ত্র তৈরি আর যুদ্ধ পরিচালনার জন্য, সেই বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ অনিবার্য সত্য হয়েই সামনে চলে আসবে, এটাই যুক্তিযুক্ত নয় কি? কিন্তু এর বিপরীতে এটাই সত্য— পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে শান্তিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চায়।

এখানেই একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করা কতিপয় অস্ত্র ব্যবসার বিনিয়োগকারীই দিকে দিকে নিত্য নতুন সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিয়েছেন, দিচ্ছেন, অস্ত্রের বড় বাজার তৈরি করছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বিপুল শান্তিপ্রিয় মানুষকে সন্ত্রাসের নির্মম বলিতে পরিণত করছেন? কখনও ধর্মীয় উগ্রবাদ, কখনও উগ্র জাতীয়তাবাদ, কখনও বর্ণবাদী চরমপন্থী গোষ্ঠীর জন্ম এবং লালন-পালন তারাই করছেন।

প্রথমত, বিশ্ব রাজনীতির ধুরন্ধর নেতৃত্বই একটা বড় অংশের মানুষকে বহু যুগ ধরে শুধুমাত্র পারলৌকিক বিশ্বাসের মতবাদের ওপর নির্ভর করে রাখছেন নানা ছলে। প্রকান্তরে পারলৌকিক বিশ্বাসের মায়াজালে আবদ্ধ রেখে বিশ্বাসী মানুষগুলোকে বিশ্বের প্রকৃত ইতিহাস, জ্ঞান, প্রজ্ঞা কোনো কিছুতে প্রবেশের অধিকারই দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এই মানুষগুলোর হৃদয় ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। একটা সময়ে তারা বিশ্বাসের মতবাদকে আশ্রয় করেই সহিংস হয়ে উঠছেন। চোখের সামনে চাকচিক্যময় জলসা ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তারা ধরেই নিচ্ছেন মানুষের তৈরি শাসন ব্যবস্থা নয়, বরং মহাজাগতিক কোনো শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলেই বিশ্বে সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে! কিন্তু একটু চিন্তা করলেই এখানেও বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকদের অন্য এক খেলা দেখা যায়।

এই খেলার স্বরূপ উন্মোচনটা বরং স্যামুয়েল পি হান্টিংটনের 'ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন' বা সভ্যতার সংঘাত বই থেকেই খোঁজা যাক। ১৯৯৬ সালে প্রকাশের সময় থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষে বইটি। এই হান্টিংটনের তত্ত্বের আলোকেই সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে সামরিক অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিয়েছিল— এমন সমালোচনা প্রকটভাবেই আছে। পশ্চিমা রণ কৌশল এবং নীতি নির্ধারণে সবচেয়ে প্রভাবশালী তাত্ত্বিক হিসেবেও হান্টিংটনকেই বলা হয়। সমালোচনা নয়, বরং নির্মোহভাবে তার তত্ত্বকেই সামনে নিয়ে আসতে চাই। হান্টিংটন তার বইতে সভ্যতার নানা বাঁকের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা পুঁজিবাদী সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামী মতবাদের সংঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছেন। ইসলামী মতাদর্শ ইউরোপকে কীভাবে অতীতে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল এবং ভবিষ্যতেও ফেলেছে তার স্বরূপটাও তুলে এনেছেন। তবে হান্টিংটন একটা বড় সত্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে— সভ্য দুনিয়ার পরবর্তী সংঘাতটা হবে পশ্চিমা সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামের। হান্টিংটন অনেকটা স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন— বিশ্বের সভ্য দুনিয়ায় ইসলাম একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে এবং এর বিপরীতে পশ্চিমাদের ভেতরেও বর্ণবাদী কিংবা পশ্চিমা উগ্র জাতীয়তাবাদের ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

হান্টিংটনের এই তত্ত্বের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বড় তৎপরতা দেখা যেতে থাকে। অনেক সমালোচকই মনে করেন, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রকরা ইসলামী সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্ম দেওয়ার ছক তৈরি করে হান্টিংটনকে দিয়ে সেই ছকের সমর্থনে 'সভ্যতার সংঘাত' মতবাদটি প্রচার করেছেন। অনেকে তার এই গ্রন্থকে একই সঙ্গে ইসলামী জঙ্গিবাদ এবং আজকের বর্ণবাদী উগ্রতা 'রাইট উয়িং হোয়াইট মুভমেন্টে'র আতুর ঘর বলে সমালোচনা করেন। কিন্তু এসব সমালোচনার বাইরে আরও একটি সত্য সামনে আনা যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত এবং পরাশক্তিগুলোর ঠাণ্ডা লড়াইয়ের অবসান ঘটতে থাকে নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ১৯৯২ সালের পর থেকে বিশ্বে অস্ত্রের বাজারও দ্রুত পড়তে থাকে। শুধুমাত্র বলকান অঞ্চল ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও আর বড় আকারে সংঘাত ছিল না। এ অবস্থায় ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অস্ত্র বাজারে রাজস্বের চাকায় লেনদেন কমে যায় প্রায় ৪০ শতাংশ। এই সময়ে তথ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ বাড়ে আগের দশকের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ। একই সময়ে ভিসামুক্ত বিশ্ব আন্দেলন থেকে শুরু করে শান্তির পক্ষে অনেক আর্ন্তজাতিক আন্দোলনেরও উদ্ভব হয়।

নতুন উদ্ভাবনের কল্যাণে যখন বিশ্ব ছোট হয়ে জাতি-মানুষে নতুন এক বন্ধনের সম্ভাবনা উঁকি দিতে শুরু করে, ঠিক সেই সময়ে হান্টিংটন সংঘাতের নতুন আশঙ্কাকে প্রবল করে তুললেন 'সভ্যতার সংঘাত' তত্ত্ব হাজির করে। এর পরের ইতিহাস তো চোখের সামনেই। আল কায়েদার জন্ম হল, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলা হল। তারপর শুরু হল আল কায়েদার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান। আল কায়েদা ইতিহাস শেষ হতে না হতেই জন্ম হল ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর। এই আল কায়েদা ও আইএসকে ঘিরে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ছোট ছোট আরও অনেক উগ্রপন্থী সংগঠনের জন্ম নিল। পশ্চিমা বিশ্ব সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পশ্চিমে প্রাচ্যের মানুষের অভিবাসন সুবিধা শুধু নয়, ভ্রমণ ভিসার সুবিধাও সংকুচিত করে ফেলল। ইউরোপ নিজেরা ইউনিয়ন তৈরি করে নিজেদের মহাদেশে সীমানা ভেদ অনেকটা মুছে দিলেও প্রাচ্যের মানুষের জন্য পশ্চিমা দেশগুলো হয়ে উঠল নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অদ্ভুত এক মায়ার জগত। আর ইসলামী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নানাভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে থাকলো এবং এর বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মধ্যেই পশ্চিমে বর্ণবাদী উগ্রপন্থীদের অভিষেকও হয়ে গেল নতুন করে। যুক্তরাষ্ট্রে, হল্যান্ডে, ইংল্যান্ডে বিভিন্ন সময়ে বর্ণবাদী হামলা চলতে দেখা গেল মুসলমানদের বিরুদ্ধে। হান্টিংটনের তত্ত্বের দ্বিতীয় অংশও চোখের সামনে প্রতিভাত হতে থাকল। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা সেই বর্ণবাদী উগ্রপন্থার এখন পর্যন্ত চরমতম প্রকাশ।

২০০১ সালের পহেলা নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে আল কায়েদার বিমান হামলার পরবর্তী সময়ে মাত্র তিন বছরে অস্ত্রের বাজারে প্রবৃদ্ধি আবারও এক লাফে ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। এই প্রবৃদ্ধি এখন পর্যন্ত আর নিচের দিকে নামেনি। নামার সুযোগ কোথায়? সভ্যতার সংঘাতে যখন সিরিয়া, ইরাক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে, তখন সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, ওমান থেকে শুরু করে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় গড়ে বছরে ২০ শতাংশের বেশি বাড়তে থাকে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনের মত ইউরোপের দেশগুলো যারা সামরিক ব্যয় সংকুচিত করেছিল তারা আবার সেই ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে এশিয়ার উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত এমনকি অনুন্নত দেশেও সামরিক খাতে ব্যয় বাড়তে থাকল। হান্টিংটনের তত্ত্ব আবারও বিশ্বে অস্ত্র শিল্প খাতকে সমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করে।

অস্ত্রের বাজার এবার শুধু নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের বাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিস্তৃত হয়ে 'নিরাপত্তার' বাজারের নতুন ধারণায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলা থেকে বাঁচতে এবার নিরাপত্তা তল্লাশির নানা সামগ্রীর বিক্রি হু হু করে বাড়তে থাকে। আর্ন্তজাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ পোর্টাল স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে যেখানে নিরাপত্তা প্রযুক্তি পণ্য সামগ্রীর বাজার ছিল মাত্র দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে ২০১১ সালে তার আকার দাঁড়ায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সেই বাজারের আকার পৌঁছে গেছে ১২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য বিশ্ব এখন যে ব্যয় করছে, তা বিশ্বের অভুক্ত মানুষের ক্ষুধা দূর করার জন্য বাড়তি যে অর্থ প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি! অস্ত্রের বাজারনির্ভর অর্থনীতির এই বিশ্বেই আমাদের নিরন্তর শান্তির সন্ধান!

বিশ্বের এই প্রেক্ষাপটে অস্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তিকামী মানুষের উচ্চকণ্ঠ হওয়ার সময় এসেছে। কেন দিকে দিকে নিরাপরাধ মানুষ জীবন দেবে? রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে, পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে গিয়ে, শপিং মলে কেনাকাটা করতে গিয়ে, উপাসনালয়ে প্রার্থনা করতে গিয়ে আর কত মরবে নিরাপরাধ মানুষ? বিশ্বজুড়ে একটি অহিংস সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠা জরুরি। বিশ্ব রাজনীতি আর অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকদের সামনে পূর্ব থেকে পশ্চিমে, উত্তর থেকে দক্ষিণে, কোটি কোটি শান্তিকামী মানুষের কণ্ঠ উচ্চকিত হোক এই স্লোগানে— 'অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব চাই, শান্তিতে বাঁচতে চাই।'