বান্দরবানের লামায় কোয়ান্টামে গিয়েছিলাম গত বছরের শরতে। বিশাল পরিসরের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিপুল কর্মযজ্ঞ উল্লেখ করার মতো। শিক্ষা, সেবা, শৃঙ্খলা ও উদ্যোগের অপূর্ব এক সমন্বয়। আমার কাজ উদ্ভিদ সন্ধান, তার রহস্য উন্মোচন বা না চিনলে চেনার চেষ্টা করা। 

সেখানকার জ্যেষ্ঠ সংগঠক সাইফুদ্দিন সাইফের সঙ্গে ঘুরে দেখছিলাম শৈলসারির ভাঁজে ভাঁজে জন্মানো উদ্ভিদ আর তৃণ-গুল্মগুলো। ঘুরতে ঘুরতে ছোট আকৃতির একটি গাছে বর্মী শিমুলের ফলের মতো ফল ঝুলে থাকতে দেখলাম। এমন ফল আগে কখনও দেখিনি। সাইফ জানালেন, স্থানীয় নাম মনকলা। এর ভর্তাও নাকি দারুণ উপাদেয়। পরের দিন কসমো স্কুলে যাওয়ার পথে আরও কয়েকটি গাছ দেখতে পেলাম। তাতে অবশ্য ফল নেই, আছে ফুল। ফুল দেখেই গাছটি চিনতে সহজ হলো। 

প্রকৃত নাম পিরালু বা পেডালু। আমাদের বন-পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই গাছ বর্তমানে বিপন্ন (VU)। খুবই হতাশাব্যঞ্জক কথা। আমাদের প্রকৃতিতে জন্মানো এমন বিপন্ন উদ্ভিদের তালিকা বেশদীর্ঘ। প্রতিবছরই তাতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। তবে এখানকার গাছগুলো বেশ নিরাপদে এবং স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে আছে।

পিরালুর বৈজ্ঞানিক নাম Tamilnadia uliginosa। আসামে এই ফুলের নাম বাখর বেঙেনা বা বন বেঙেনা। ইংরেজি নাম ডিভাইন জেসমিন। এটি বান্দরবান, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ এবং রাজশাহী জেলায় দেখা যায়। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনেও দুটি গাছ আছে।

মাঝারি আকারের পত্রমোচী বৃক্ষ, বাকল লালচে-বাদামি রঙের। পাতা ডিম্বাকৃতি, অগ্রভাগ গোলাকার। আষাঢ় থেকে ফুল ফুটতে শুরু করে। ফুল সাদা রঙের। ফল গোলাকার, পাকলে হলদে বর্ণের হয়। ফাল্গুনে ফল পাকে। শিকড় প্রস্রাব এবং হার্টের চিকিৎসায় উপকারী। বীজ থেকে চারা। আদিআবাস ভারত, ভুটান এবং মিয়ানমার। এই গাছ আমাদের বিভিন্ন পার্ক ও উদ্যানে রোপণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক বোটানিক গার্ডেনেও গাছটি সংরক্ষণ করা উচিত।


মন্তব্য করুন