ছবি দেখে এই টসটসে ফলটি নিশ্চয় খেতে ইচ্ছে করবে কারও কারও। খেতে পারলে মন্দ হতো না। কিন্তু স্থানীয় মানুষ সাধারণত এই ফল খান না। এমনকি ফলের ভালো-মন্দ নিয়েও আগ্রহ নেই। তবে এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এ ফল খায়, তা ছাড়া ফলটি পাখ-পাখালিরও প্রিয়। মজার বিষয় হলো, কম্বোডিয়ায় এ গাছের বাকল দিয়ে মাছ অচেতন করা হয়।

ফলটি আমাদের দেশে ততটা সহজলভ্য নয়। প্রায় দশ বছর আগে সুনামগঞ্জ শহর থেকে জামালগঞ্জ যাওয়ার পথে দুধ-সাদা রঙের এই ফলগুলো নজর কাড়ে। দূর থেকে মনে হয়েছিল যেন খই ফুটে আছে। প্রতিটি ডাল ফলভারে আনত। ফলের এমন সৌন্দর্য উপেক্ষা করা যায় কি? সম্প্রতি দেখা পেলাম গাজীপুরের শালবন এলাকায়। বনের একেবারেই বিযুক্ত এক প্রান্তে। কিছু ঝোপঝাড়ের ভেতর অল্প কয়েকটি গাছ। স্থানীয় অন্যান্য নামের মধ্যে খাক্‌রা এবং কাউকরা অন্যতম। ইংরেজি নাম Chinese Waterberry, Snowberry, Common Bushweed ইত্যাদি।

শিকোরি (Flueggea virosa) গুল্মজাতের পত্রমোচি গাছ। স্ত্রী ও পুরুষ গাছ আলাদা। গুল্ম হলেও কখনও কখনও ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। শাখা কোণাকৃতি, নতুন অবস্থায় লালাভ বাদামি, মসৃণ এবং ক্রমশ গাঢ়, বায়ুরল্প্রব্দযুক্ত। পত্র সোপপত্রিক, উপপত্র ভল্লাকার, ১ থেকে আড়াই মিলিমিটার লম্বা, আগা চোখা, অর্ধঅখণ্ড, ঝিল্লিময়, আশুপাতি। বৃন্ত ২ থেকে ৮ মিলিমিটার লম্বা, সরু পক্ষল, পত্রফলক উপবৃত্তাকার, দীর্ঘায়ত, বিডিম্বাকার বা গোলাকার, মূলীয় অংশ কীলকাকার, শুস্ক অবস্থায় অখণ্ড এবং সামান্য বেলনাকারে পাকানো, সাদাটে সবুজ, পার্শ্বীয় শিরা ৪ থেকে ৮ জোড়া। পুষ্প কাক্ষিক, শীর্ষ মঞ্জরির গুচ্ছে সন্নিবিষ্ট, হলুদাভ, সুগন্ধি। 

পুরুষ ফুলের বৃন্ত সরু, ৩ থেকে ৬ মিলিমিটার লম্বা, বৃত্যংশ খণ্ড ৫টি, ডিম্বাকার, বহির্মুখী ও ফ্যাকাশে হলুদ। স্ত্রী ফুলের বৃন্ত দেড় থেকে ১২ মিলিমিটার লম্বা, বৃত্যংশ খণ্ড পুংপুষ্পের বৃত্যংশের অনুরূপ। পরাগায়ণের কাজটি করে বিভিন্ন পোকা এবং মৌমাছি। ফল স্বাদে মিষ্টি, অর্ধগোলাকার, ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার, মসৃণ, সবুজ বা সাদা। বীজ ২ মিলিমিটার, বাদামি এবং প্রায়শ উজ্জ্বল। ফুল ও ফলের মৌসুম এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর।

এরা মিশ্র চিরসবুজ বনের গুল্ম। প্রিয় আবাস পাহাড়, জলাধার এবং নদীপাড়। সাধারণত বেড়া বানানোর কাজে লাগে। পাতা প্রজাপতির প্রিয়। আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম এবং বাগেরহাটে জন্মে। গাছের শিকড়, বাকল ও পাতা সিফিলিস, গনোরিয়া, চর্মরোগ ও কৃমি সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। পাতা এবং বাকলের নির্যাস শক্তিবর্ধনে উপকারী। কাঠ খুঁটি, লাঠি এবং কয়লা তৈরিতে ব্যবহার্য। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায় গাছের মূল ও পাতা নানা রোগে কাজে লাগায়। 

মন্তব্য করুন