লবণ সংকটে কোরবানির চামড়া নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

ফাইল ছবি

ঈদুল আজহার সময় চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ উৎপাদন হবে কি-না, তা নিয়ে সংশয়-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এবার কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে দুই লাখ ৫০ হাজার টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সমুদ্র বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। এ কারণে ৫ লাখ টন লবণের উৎপাদন কমেছে। কিন্তু বিসিক এ হিসাব উপেক্ষা করছে। লবণের ব্যাপক চাহিদার সুযোগে একটি চক্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোডিয়াম সালফেট বা শিল্প লবণ আমদানি করছে। বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে খাদ্য লবণ হিসেবে। চোরাই পথেও আসছে চার-পাঁচ লাখ টন লবণ। ফলে ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃত লবণ ব্যবসায়ীদের। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। চলতি সপ্তাহে এ সংকট উত্তরণে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে।

চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করে সংরক্ষণে ট্যানারিগুলোতে সাধারণভাবে প্রতিটি গরুর চামড়ায় ১২ কেজি, মহিষের চামড়ায় ২০ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়ায় পাঁচ কেজি করে লবণের প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির তথ্য মতে, লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ না করায় শুধু কোরবানির সময়ই প্রায় পৌনে চারশ' কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়। এবার লবণের ঘাটতি হলে এই লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে লবণ শিল্পকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ লবণ শিল্প মালিক সমিতি।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবির বলেন, লবণের চাহিদা ও উৎপাদন নিয়ে বিসিক যে তথ্য দিয়েছে, তা বাস্তবতাবর্জিত ও কল্পনাপ্রসূত। তাদের তথ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে। আর এ কারণে অবৈধপথে বিষাক্ত লবণ সোডিয়াম সালফেট আমদানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ আমদানি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেশের ৩০০ লবণ মিল মালিক তাদের বাজার হারিয়েছেন। এ সংকট উত্তরণে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিসিক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, সরকার বিষয়টি অবগত আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে বাজারে লবণের সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে।