বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ক্ষতি ১১৮ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী অর্থ আদায় না করে সরকারের ১১৮ কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সাবেক পরিচালক আলী আহসান বাবুসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে মঙ্গলবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন। এদিনই মামলার দুই আসামি সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহসান ও সাবেক ব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপপরিচালক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

এজাহারে বলা হয়, আসামিরা কার্গো শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন। এ সময় তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হয়ে নন-সিডিউল ফ্রেইটারদের লাভবান করার কুমতলবে ৪ হাজার ১১৫টি নন-সিডিউল ফ্রেইটারের পরিবহন করা ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কেজি কার্গো ও মেইলের বিপরীতে জিএইচসির (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কমিটি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্গো ও মেইল হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ আদায়যোগ্য ১১৮ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা আদায় করেননি। এতে বিমান তথা সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গত ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। তারা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪১৮/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা ১৬ আসামি হলেন- কার্গো শাখার সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহসান, কার্গো শাখার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. আরিফ উল্লাহ, সাবেক ব্যবস্থাপক (রপ্তানি) ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, কার্গো শাখার সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারি ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে রিয়াদের রিজিওনাল ম্যানেজার আমিনুল হক ভূঁইয়া, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. লুতফে জামাল, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোশাররফ হোসেন তালুকদার, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) রাজীব হাসান, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) নাসির উদ্দিন তালুকদার, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) অনুপ কুমার বড়ূয়া, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) কে. এন. আলম, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ও বর্তমানে কার্গো আমদানী শাখার মো. ফজলুল হক, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) সৈয়দ আহমেদ পাটওয়ারী, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মনির আহমেদ মজুমদার, সাবেক ব্যবস্থাপক (আমদানী) এ. কে. এম. মঞ্জুরুল হক ও সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক), মো. শাহজাহান।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিমানের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ নিরীক্ষার সময় দেখেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নন-সিডিউল কার্গো ফ্রেইটারের কাছ থেকে জিএইচসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্গো ও মেইল হ্যান্ডলিং চ করা হয়, কার্গো ও মেইল হ্যান্ডলিং চার্জ আদায় না করায় সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। বিরাট অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী।