প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বর্ণ চোরাকারবারি কথিত ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৫। মামলায় মনিরের বিরুদ্ধে প্রায় ২২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া গেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বরাদ্দ দেওয়া ৪১টি প্লট। এই অভিযোগ অনুসন্ধান করে আলাদা মামলা করা হবে। প্লটগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হলে গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রী রওশন আক্তারের সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। শিগগির এই অনুসন্ধান শুরু হবে।

এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ২ মার্চ গোল্ডেন মনিরের দেওয়া সম্পদ বিবরণী ও ২০০৯ সালের ১৮ জুনের পর তার নামে জমি, প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি কিনে দুই কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, প্লট কেনায় বিনিয়োগ, রাজউক কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতিতে বিনিয়োগ, সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুলে বিনিয়োগ ও অনুদান, ঘড়ি, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ক্রয়, ঋণ প্রদান ও বিভিন্ন ব্যাংকে স্থিতিসহ অস্থাবর সম্পদ ৪৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৩ টাকার। স্থাবর-অস্থাবর মিলে তার মোট সম্পদ ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৩ টাকার।

গোল্ডেন মনিরের সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি ২০১০-১১ থেকে ২০২০-২১ করবর্ষ পর্যন্ত বেতন-ভাতাদি আয়, গৃহ সম্পত্তির আয়, ব্যবসা বা পেশা, অন্যান্য উৎস, নিরাপত্তা জামানত সুদ থেকে আয় ও মূলধনী থেকে আয়সহ মোট ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৮ টাকা আয়ের উৎস পাওয়া যায়। এসব হিসাব অনুযায়ী গোল্ডেন মনিরের নামে মোট ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ২৪ হাজার ৭৪২ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এই পরিমাণ সম্পদের মধ্যে তার নামে ২১ কোটি ৮২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এই পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি, যা তার জ্ঞাত আয়ের অসংগতিপূর্ণ।

তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ওইসব প্লটের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। ওই পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তিনি দুদক আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, গোল্ডেন মনিরের নামে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া ৩৪টি ও তার স্ত্রীর নামে ৭টি প্লট পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে প্লটগুলোর মূল্য অনেক কম। এই কারণে সোমবারের মামলায় প্লটগুলোর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। মামলা তদন্তকালে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্লটগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে।

দুদক সূত্র জানায়, তদন্তকালে প্লটগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে মামলার চার্জশিটে সেই তথ্য উল্লেখ করা হবে। রাজউক থেকে তারা কীভাবে ৪১টি প্লট বরাদ্দ পেলেন- এই বিষয়টি আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা হবে। রাজউক আইন অনুযায়ী রাজউকের অভিভুক্ত এলাকায় যার জমি নেই তিনিই একটি প্লট পাবেন।

এর আগে রাজউক প্রধান কার্যালয় থেকে প্লটের ৭০টি ফাইল সরিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে গোল্ডেন মনিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গত ৪ জানুয়ারি পৃথক একটি মামলা করেছে দুদক। এবার তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলো অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।