প্রায় ২২ থেকে ২৩টি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছন অভিনেত্রী শিমু। তবুও তাকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পূর্ণাঙ্গ সদস্য থেকে সহযোগি সদস্য করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় তার ভোটের অধিকার। 

সেই অভিনত্রী শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ গত ১৭ জানুয়ারি  উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছ থেকে  তার মরদেহে উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুত্ব পাচ্ছেন শিমু। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটি করছেন স্বরণ সভা, দোয়ার আয়োজন, টাঙ্গিয়েছেন ব্যানার ও ফেস্টুন। 

অথচ জীবিত থাকা অবস্থায় ভোটের অধিকার ফিরে যেতে সোচ্চার ছিলেন শিমু। করেছেন মানবন্ধন, কথা বলেছেন মিডিয়ায়। সে সময় তার ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাননি শিল্পী সমিতির নেতারা। 

এই শিমুর মৃত্যর ঘটনা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে আসছে ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে। 

২০১৭ সালে মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল ক্ষমতায় আসার পর শিমুর ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। সদস্যপদ বাতিল করে শিমুকে সহযোগী সদস্য করা হয়৷ ফলে সদস্য হিসেবে সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন প্রয়াত শিমু।

এরপর নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন নামেন শিমু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন তিনি। ফলে সমিতি থেকে ভোটাধিকার হারানো আলোচিত ১৮৪ জন শিল্পীর একজন হিসেবেই সবাই তাকে চেনে।

সদস্যপদ কেড়ে নেওয়ায় গত চার বছর ধরে যে শিমু হয়ে যান সংগঠনটির সহযোগী সদস্য। অথচ মৃত্যুর পরদিনই সেই শিমুকে শিল্পী সমিতির সদস্য বলে ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে রেখেছেন শিল্পী সমিতি। 

শিমুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গতকাল বুধবার  এফডিসিতে ব্যানার টানায় মিশা-জায়েদ প্যানেল। যার একটি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নামে, অন্যটি মিশা-জায়েদ প্যানেলের নামে। ব্যানারগুলোতে শিমুর পরিচয় দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সদস্য চিত্রনায়িকা শিমু’। এই পরিচয় দৃষ্টি কেড়েছে সবার। জন্ম দিয়েছে আলোচনা-সমালোচনারও।