বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিভিন্ন সময়ে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবার নিদারুণ কষ্টে দিনযাপন করছেন। তারা নানাবিধ সমস্যাকে মোকাবিলা করছেন। অনেক বিপদে আছে এসব পরিবার।’

শনিবার দুপুরে বনানীর বাসায় নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে দেখা করার পরে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টায় বিএনপি মহাসচিব দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে নিয়ে বনানীতে ইলিয়াস আলীর বাসায় যান। তিনি সেখানে তার সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনার সাথে কথা বলেন। এই সময়ে সিলেট জেলা সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য ঈদ উপহার পৌছে দেন।

এসময়ে ইলিয়াস আলীর পরিবারের উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর পরিবার অনেক বিপদে আছেন। তার স্ত্রী বললেন, ইলিয়াস আলীর ব্যাংক একাউন্ট তারা ব্যবহার করতে পারছেন না। তার গাড়িরও ট্যাক্স দিতে পারছেন না। তার মেয়ের ভর্তির ব্যাপারে অনেক সমস্যার মধ্যে তাদের পড়তে হয়েছে। সব কলেজে মেয়েকে ভর্তি করছিলো না। অনেক চেষ্টা-তদবির করে তার মেয়েকে ভর্তি করানো হয়েছে। এই বিষয়গুলো তার পরিবারের কাছে একটা মর্মান্তিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা শুধু ইলিয়াস আলীর পরিবার নয়, গুম হওয়া সব পরিবারগুলো এমন নিদারুন কষ্টের মধ্যে আছেন।’

জবাবদিহি না আসলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চার মাস পরে দুই জন ক্রসফায়ারে মারা গেছে। যেহেতু সরকার গুম করে, খুন করে নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে আছে, তাদেরকে দিয়ে এসব অপকর্ম করছে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তারা (সরকার) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক আদালতের বিষয়ে কাজ চলছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুমের বিষয়টার ওপর আন্তর্জাতিক আদালত নিয়ে আমরা কাজ করছি। এর আগেও আমরা চেষ্টা করেছি, এখনো কাজ করছি। সঠিক সময়ে যতটুকু পারা যায় ব্যবস্থা নেবো।’

গুম থেকে ফেরত আসা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে নিম্ন আদালতে মুক্ত হয়েছিলেন। পরে আবার আপার কোর্টে আপীল করে তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে।’