কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকায় সব ধরনের উন্নয়নকাজে অর্থ ছাড় স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধির কথা উল্লেখ করে ইসি সচিবালয় থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে সিটি এলাকায় নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন বা অর্থ ছাড় দেওয়া নিষিদ্ধের পাশাপাশি কাবিখা, ভিজিডির মতো কর্মসূচিগুলোও বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

ইসির উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা) আতিয়ার রহমানের সই করা এ নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান করতে বা অঙ্গীকার করতে পারবেন না। নির্দেশনা লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ভিজিডি কার্ড ইসু কার্যক্রমসহ নতুন ধরনের কোনো প্রকার অনুদান/ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে যে সকল ত্রাণ কার্যক্রম আগে থেকে পরিচালিত হচ্ছে অর্থাৎ চলমান ত্রাণ কার্যক্রম চালু থাকবে।

নির্বাচনের কার্যক্রম সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় নতুন ভিজিডি কার্ড ইস্যুসহ নতুন ধরনের কোনো প্রকার অনুদান/ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে। তবে কোন এলাকায় অনুদান/ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত নতুন কার্যক্রম গ্রহণ নিতান্তই আবশ্যক হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ/জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের সম্মতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৭ মে, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ২২ মে পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ মের মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে। ভোটগ্রহণ ১৫ জুন। এ সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে।

কুসিকে ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে এক লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এছাড়া ‘হিজড়া’ ভোটার রয়েছেন দুইজন। সবচেয়ে বেশি ভোটার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে; ১৬ হাজার ৪৭৪ জন। আর সবচেয়ে কম ভোটার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে; তিন হাজার ৮৯৪জন।